kalerkantho

শনিবার । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৫ আগস্ট ২০২০ । ২৪ জিলহজ ১৪৪১

রিজেন্ট নিয়ে আগেই সতর্ক করেছিলেন দুই চিকিৎসক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রিজেন্ট নিয়ে আগেই সতর্ক করেছিলেন দুই চিকিৎসক

রিজেন্ট হাসপাতালের কুকীর্তি নিয়ে দেশব্যাপী আলোড়ন ওঠার বেশ আগেই করোনাকালের জন্য ওই হাসপাতালে সরকার থেকে নিয়োগ পাওয়া পর পর দুজন চিকিৎসক হাসপাতালটির অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন। ১১ মে প্রথম নিয়োগ পাওয়া ডা. শরীফ সাম্মিরুল আলম মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের

সচিবের কাছে অভিযোগ জানিয়ে তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার আবেদন করেন। সচিব আবেদন মঞ্জুর করে তাঁকে সরিয়ে নিলেও হাসপাতালটির বিরুদ্ধে দৃশ্যত কোনো ব্যবস্থা নেননি। ডা. শরীফ সাম্মিরুল আলমের স্থলে এরপর যে চিকিৎসককে পাঠানো হয় তিনিও হাসপাতালটির অনিয়মের বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে অবহিত না করলেও বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনকে (বিএমএ) বিষয়গুলো জানিয়েছিলেন।

জানা গেছে, জাতীয় হৃদেরাগ ইনস্টিটিউটের আইসিইউ কনসালট্যান্ট ডা. শরীফ সাম্মিরুল আলমকে করোনা চিকিৎসায় রিজেন্ট হাসপাতালে সংযুক্ত করা হয় ১১ মে। তিনি সেখানে আইসিইউ কনসালট্যান্ট হিসেবে যোগদানের পর থেকেই নানা ধরনের অনিয়ম ও অসংগতি দেখতে পান ডা. সাম্মিরুল। হাসপাতালটির চারটি আইসিইউ বেডে মুমূর্ষু অবস্থায় চারজন কভিড-১৯ রোগী থাকলেও কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা ছিল ত্রুটিপূর্ণ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করার পর তা সাময়িকভাবে ঠিক করা হলেও আইসিইউ পরিচালনায় একজনও দক্ষ কর্মী ছিল না ওই হাসপাতালে। করোনা চিকিৎসার জন্য বিশেষ হাসপাতাল হিসেবে সরকারের অনুমোদন নিলেও জরুরি ভিত্তিতে করোনা পরীক্ষার কোনো ধরনের ব্যবস্থাও ছিল না। নমুনা সংগ্রহের পর তা বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হতো পরীক্ষার জন্য। কিন্তু পরীক্ষার রিপোর্টের ফল আসতে অনেক দেরি হতো। এরই মধ্যে আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ত রোগীদের অবস্থা।

করোনা চিকিৎসায় নিয়োজিতদের সুরক্ষা সামগ্রীরও তীব্র অভাব ছিল। বেসরকারি দুজন চিকিৎসক এবং সরকারিভাবে মাত্র একজন চিকিৎসককে আইসিইউসহ করোনা রোগীদের চিকিৎসায় সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকতে হতো। এদিকে রিজেন্ট হাসপাতালে যোগদানের পর বারবার যোগদানপত্র চাওয়ার পরও তা দেওয়া হয়নি ডা. সাম্মিরুলকে। একদিকে অব্যবস্থাপনা, অন্যদিকে চিকিৎসকের সুরক্ষার অভাবে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন সাম্মিরুল। তাঁর চিকিৎসক স্ত্রী এবং দুই শিশুসন্তানের ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত হাসপাতাল থেকে অন্য কোথাও তাঁকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য আবেদন করেন তিনি। আবেদনের যৌক্তিকতা বিবেচনায় নিয়ে সাম্মিরুলকে ১৭ মে মুগদা হাসপাতালে পাঠায় সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ।

জানতে চাইলে ডা. সাম্মিরুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি ওখানে যাওয়ার পর বিভিন্ন বিষয়ে খটকা লাগে। আমি এই বিষয়টি সচিব স্যারকে অবহিত করেছি। পরে আমাকে বদলি করা হয়। আমি সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ।’

এরপর ১৭ মে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের আইসিইউ পরামর্শক ডা. আশরাফুল আলমকে রিজেন্ট হাসপাতালে আইসিইউ কনসালট্যান্ট হিসেবে পাঠানো হয়। র‌্যাবের অভিযানে হাসপাতালটি বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত সেখানেই ছিলেন তিনি। সেখানকার অব্যবস্থাপনা নিয়ে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনকে অবহিত করেন তিনি। হাসপাতাল বন্ধ হওয়ার পর লালকুঠি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে তাঁকে।

ডা. আশরাফুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রিজেন্টে নানা ধরনের সমস্যা ছিল। আমি বিএমএকে অবহিত করেছিলাম। রিজেন্টে খুব তিক্ত অভিজ্ঞতা ছিল।’

ডা. শরীফ সাম্মিরুল গতরাতে কালের কণ্ঠ’র কাছে বলেন, ‘রিজেন্ট হাসপাতাল থেকে আমাকে জানানো হয়েছিল, তাদের মিরপুর শাখার করোনা ইউনিটে প্রধানমন্ত্রীর এক আত্মীয় ভর্তি রয়েছেন। কিন্তু আমি সেখানে গিয়ে দেখি কেউ নেই। এরপর উত্তরা শাখায় গিয়ে দেখি কোনো রোগী নেই। পরে বদলি হওয়ার আগ পর্যন্ত আমি মিরপুর শাখাতেই ছিলাম। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাইলে আমাকে হুমকি দেয় রিজেন্টের মালিক সাহেদ করিম। আমি পুরো বিষয়গুলো কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছিলাম।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা