kalerkantho

সোমবার । ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭। ১০ আগস্ট ২০২০ । ১৯ জিলহজ ১৪৪১

উপনির্বাচনে দুই আসনেই নৌকার জয়

বগুড়ায় বন্যার মধ্যে ফাঁকা ভোটকেন্দ্র

কেশবপুর ছিল উৎসবমুখর

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া ও কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি   

১৫ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বগুড়ায় বন্যার মধ্যে ফাঁকা ভোটকেন্দ্র

ভোটার নেই : বগুড়া-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটারশূন্য কেন্দ্র। ছবিটি সারিয়াকান্দির হাটফুলবাড়ী মাদরাসা কেন্দ্র থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

করোনাভাইরাস সংক্রমণ আর বন্যার মধ্যেই গতকাল মঙ্গলবার দুই সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়েছে। এর মধ্যে বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে বন্যার কারণে কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবই কম। অন্যদিকে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে ভোটগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেছে। ভোটার উপস্থিতিও ছিল তুলনামূলক বেশি। দুটি আসনেই আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।

বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও সোনাতলায় বেশির ভাগ কেন্দ্রই ছিল অনেকটা ভোটারশূন্য। বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় ১৬টি ভোটকেন্দ্র আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়। ভোটের দিন সকালে দুর্গম চর কামালপুরে দুটি কেন্দ্র স্থানান্তর করা হয়। সেগুলো হলো আলিয়া জাহান মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ও উত্তর টেংড়াকোড়া বিদ্যালয়।

দুপুরের দিকে কোনো কোনো কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, নৌকা ও কলাগাছের ভেলায় চড়ে দু-একজন আসছেন ভোট দিতে। চারদিক পানিতে থইথই কুড়িপাড়া কেন্দ্রে দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত ভোট পড়ে ১৪০টি। এখানে ভোটার দুই হাজার ৭৯।

বগুড়া জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুব আলম শাহ জানান, যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সারিয়াকান্দির ১১টি ও সোনাতলার তিনটি ভোটকেন্দ্র স্থানান্তর করা হয়। তবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ভোটের দিন সকালে কামালপুরের আরো দুটি কেন্দ্র সরানো হয়। তিনি বলেন, বন্যার কারণে ভোটকেন্দ্র সরানো হয়েছে। ভোটাররা কিভাবে কেন্দ্রে আসবেন, সেটা তাঁদের ঠিক করতে হবে।

সারিয়াকান্দির হাট ফুলবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র দুপুর সাড়ে ১২টায়ও ছিল ফাঁকা। আড়াই ঘণ্টায় এখানে ভোট পড়ে মাত্র ১৮০টি। অথচ এই কেন্দ্রে ভোটার রয়েছেন তিন হাজারের কাছাকাছি। ভোট দিতে আসা কৃষক আব্দুল মজিদ জানালেন, তাঁর বাড়ি পানিতে ডুবে আছে। বাড়ির পাঁচ সদস্যের অন্যরা কেন্দ্রে আসেননি।

লাইলী বেগম নামের একজন বলেন, ‘আমার বাড়িতে ছোট বাচ্চা অসুস্থ। এর পরও চেয়ারম্যানের লোকজনের পীড়াপীড়িতে ভোটকেন্দ্রে এসেছি।’

সারিয়াকান্দির রামনগর প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে গিয়েও দেখা গেছে একেবারেই ফাঁকা। সকাল ১১টায় এখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ছাড়া আর কাউকে দেখা যায়নি।

বগুড়া-১ আসনের এই উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন প্রয়াত সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের স্ত্রী ও সারিয়কান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাদারা মান্নান (নৌকা), জাতীয় পার্টির অধ্যক্ষ মোকছেদুল আলম (লাঙল), প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টির মো. রনি (বাঘ), খেলাফত আন্দোলনের প্রভাষক নজরুল ইসলাম (বটগাছ) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ইয়াসির রহমতুল্লাহ ইন্তাজ (ট্রাক)। এ ছাড়া বিএনপির প্রার্থী এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির (ধানের শীষ) নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

জেলা রিটার্নিং অফিসার গত রাত সাড়ে ৮টায় কালের কণ্ঠকে জানান, ওই সময় পর্যন্ত ১২৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭৩টির ফল পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী নৌকা প্রতীক ৮২ হাজার ৮৯৩, লাঙল ৭৬৫, ট্রাক ৭৪৪, বটগাছ ২৪৮, বাঘ ১১১ ভোট পেয়েছে। এ ছাড়া ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পড়েছে ৪৬৫টি।

তবে বেসরকারিভাবে সব কয়টি কেন্দ্রের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী নৌকা প্রতীক এক লাখ ৪৫ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছে। এর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী পেয়েছেন এক হাজার ২১৮ ভোট।

যশোর-৬ (কেশবপুর) আসন : ওদিকে প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়েছে। সকাল ৯টার আগেই কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। বিশেষ করে নারী ভোটারের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। করোনা সতর্কতায় প্রতিটি কেন্দ্রেই মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও জীবাণুনাশক স্প্রের ব্যবস্থা ছিল।

সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে উপজেলার এসএসজি বরণডালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় নারী ভোটারের দীর্ঘ লাইন। বায়সা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেও লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়ার চিত্র দেখা গেছে। এই কেন্দ্রে দায়িত্বরত প্রিসাইডিং অফিসার হুমায়ন কবির বলেন, এখানে বিকেল ৩টা ১০ মিনিট পর্যন্ত ৬০ শতাংশ ভোট পড়ে।

চিংড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে আসা খায়রুন্নেছা (৯০) ও সখিনা খাতুন (৭৫) বলেন, ‘নির্বাচন হলিই ভোট দিই। আজও ভোট দিতে আইছি পছন্দের মার্কায়।’

এ উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাঁরা হলেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার (নৌকা), বিএনপির প্রার্থী কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নেতা আবুল হোসেন আজাদ (ধানের শীষ) এবং জাতীয় পার্টির হাবিবুর রহমান হাবিব (লাঙল)। তবে বিএনপি ভোটের তারিখ পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে আসে।

শান্তিপূর্ণভাবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে বেসরকারিভাবে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শাহীন চাকলাদার এক লাখ ২৪ হাজার তিন ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ পেয়েছেন দুই হাজার ১২ ভোট। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির হাবিবুর রহমান পেয়েছেন এক হাজার ৬৭৮ ভোট। কেশবপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বজলুর রশিদ গতকাল রাত ৮টায় এই তথ্য জানান।

শাহীন চাকলাদার তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকা প্রতীক দেওয়ার পর কেশবপুরের সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধি, নেতাকর্মী ও জনগণ আমাকে গ্রহণ করেছেন। সেই দায়ভার মাথায় রেখে আমি কেশবপুরের উন্নয়নে কাজ করব।

জেলা রিটার্নিং অফিসার হুমায়ন কবির জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভোটাররা স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বচ্ছন্দে ভোট দিয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো ছিল। কোনো প্রার্থী অভিযোগ করেননি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা