kalerkantho

সোমবার । ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭। ১০ আগস্ট ২০২০ । ১৯ জিলহজ ১৪৪১

শাজাহান সিরাজের জীবনাবসান

নিজস্ব প্রতিবেদক ও টাঙ্গাইল প্রতিনিধি   

১৫ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




শাজাহান সিরাজের জীবনাবসান

মুক্তিযুদ্ধের সময় ছাত্রনেতৃত্বের ‘চার খলিফা’র একজন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের নানা পর্বের সাক্ষী শাজাহান সিরাজ মারা গেছেন। দীর্ঘদিন ক্যান্সারে ভুগে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।

১৯৬২ সালে হামুদুর রহমান শিক্ষা কমিশনবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ছাত্ররাজনীতিতে আসা শাজাহান সিরাজ একাত্তরের উত্তাল মার্চে ছাত্রসমাজের হয়ে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। মুক্তিযুদ্ধের এ সংগঠক স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের প্রথম বিরোধী দল জাসদের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। রাজনীতির শেষ জীবনে তিনি ছিলেন বিএনপিতে। ছিলেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান। ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার সরকারে বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ছিলেন তিনি।

শাজাহান সিরাজ স্ত্রী রাবেয়া সিরাজ, মেয়ে সারোয়াত সিরাজ ও ছেলে রাজীব সিরাজকে রেখে গেছেন।

রাবেয়া সিরাজ সাংবাদিকদের জানান, শাজাহান সিরাজ ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা, উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন দীর্ঘদিন ধরে। ২০১২ সালে তাঁর ফুসফুসে ক্যান্সার ধরা পড়ে। এর কয়েক বছর পর তাঁর মস্তিষ্কেও ক্যান্সার ধরা পড়ে। তখন থেকে তিনি রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় ছিলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবীর খান কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, আজ বুধবার বনানী কবরস্থানে শাজাহান সিরাজকে সমাহিত করা হবে। এশার নামাজ শেষে গুলশান সোসাইটি জামে মসজিদে তাঁর জানাজা হবে।

তার আগে সকালে শাজাহান সিরাজের মরদেহ টাঙ্গাইলে নেওয়া হবে। সেখানে সকাল ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা শামসুল হক কলেজ মাঠে এবং বাদ জোহর কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল ও কালিহাতী শাজাহান সিরাজ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম।

শাজাহান সিরাজের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

‘চার খলিফা’র একজন নূরে আলম সিদ্দিকী শোক জানিয়ে বলেছেন, ‘রাজনীতিতে মতের ভিন্নতা থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনে তিনি আমার সহোদরপ্রতিম ছিলেন।’

‘চার খলিফা’র আরেকজন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) আ স ম আবদুর রব শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘শাজাহান সিরাজ আমার আন্দোলন-সংগ্রামের সাথী, আমার অনুভূতি, আমার চেতনার অংশ। তাঁর মৃত্যু দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। যত দিন আমাদের স্বাধীনতা, জাতির অস্তিত্ব, পতাকা ও জাতীয় সংগীত থাকবে তত দিন শাজাহান সিরাজ বেঁচে থাকবেন সব বাঙালির হৃদয়ে।’

শোক জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না।

১৯৪৩ সালের পহেলা মার্চ টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন শাজাহান সিরাজ। তাঁর বাবার নাম আব্দুল গণি মিয়া ও মা রহিমা বেগম। জাতীয় সংসদের ওই আসন থেকে তিনি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর মৃত্যুতে ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাছান ইমাম খান, সোহেল হাজারী, কালিহাতী শাজাহান সিরাজ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল শোক জানিয়েছেন।

শাজাহান সিরাজের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গত রাতে বিএনপিসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নেতারা গুলশানে তাঁর বাসায় যান। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল প্রয়াত নেতার স্ত্রী রাবেয়া সিরাজের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, শাজাহান সিরাজের মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি করল। এই শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা