kalerkantho

সোমবার । ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭। ১০ আগস্ট ২০২০ । ১৯ জিলহজ ১৪৪১

কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের জাল সনদের কারবারেও সাহেদ

► অন্যতম সহযোগী মাসুদ পারভেজ গ্রেপ্তার
► রিজেন্টের সাতজন রিমান্ড শেষে কারাগারে
► সাতক্ষীরায় তল্লাশি

নিজস্ব প্রতিবেদক ও সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

১৫ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের জাল সনদের কারবারেও সাহেদ

করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসার নামে প্রতারণাকাণ্ডে রিজেন্ট হাসপাতালে র‌্যাবের অভিযানের ৯ দিন পরও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। কিন্তু প্রতিদিনই বেরিয়ে আসছে তাঁর নতুন নতুন প্রতারণার তথ্য। এসব তথ্যে নতুন করে যুক্ত হলো জাল সনদ বিক্রি। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় খুলে সাহেদ জাল সনদ বিক্রি করে আসছিলেন। র‌্যাব-পুলিশের তদন্তে সাহেদের এই ভয়ংকর কাজের তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

এদিকে সাহেদকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। তাঁর জন্মস্থান সাতক্ষীরার সীমান্ত দিয়ে সাহেদ যেন ভারতে পালিয়ে যেতে না পারেন সে জন্য পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপরতা বাড়িয়েছে। আর গতকাল মঙ্গলবার রিজেন্টের সাত কর্মীকে রিমান্ড শেষে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। তবে সাহেদের অন্যতম সহযোগী ও রিজেন্টের কর্মকর্তা তারেক শিবলীকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে গতকাল রাতে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, রিজেন্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সাহেদের অন্যতম সহযোগী মাসুদ পারভেজকে গতকাল সন্ধ্যায় গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জানা গেছে, আর্থিক জালিয়াতির কারণে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত হন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার কথা বলে অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগ আছে। তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ে করেন তিনি।

এর আগে গতকাল দুপুরে এক অনানুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘প্রতারণার জগতে সাহেদ আইডল। প্রতারণাকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঠকবাজি করে কিভাবে একটা পর্যায়ে আসা যায়, তার অনন্য দৃষ্টান্ত সাহেদ।’

তিনি আরো বলেন, ‘নতুন করে অনেক অভিযোগই আমাদের কাছে আসছে। সর্বশেষ আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে, রিজেন্ট কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনেক জাল সার্টিফিকেট দিয়েছেন সাহেদ।’

সাংবাদিক, রাজনীতিক, আমলাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে সাহেদের ছবি থাকার বিষয়ে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘রাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি যখন কারো সঙ্গে ছবি তোলেন, সেটি নেহাত সৌজন্যবশত। তবে তাঁর পেছনে যদি কারো পৃষ্ঠপোষকতা থাকে, সেটি নিশ্চয়ই তদন্ত কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখবেন।’

তিনি বলেন, ‘সাহেদ গানম্যান নিয়ে চলাফেরা করতেন। আমরা তাঁর গানম্যান ও তাদের অস্ত্রের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। তাঁর পাঁচ থেকে সাতজন গানম্যান ছিল। তাদের অস্ত্রের উৎস ও বৈধতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

র‌্যাব সূত্র জানায়, রিজেন্ট কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের জাল সনদ দেওয়া হতো। শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত করা হবে। র‌্যাবের কাছে ৫৬টি মামলার তথ্য আছে। আরো নতুন তিন-চারটি মামলা দায়েরের খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে সাহেদ যাতে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যেতে না পারেন সে জন্য চলছে চিরুনি অভিযান। গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-৬, সাতক্ষীরা ক্যাম্প কমান্ডার সিনিয়র এএসপি বজলুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘সন্দেহজনক মাইক্রো-প্রাইভেট তল্লাশি করা হচ্ছে। কোনোভাবেই যাতে সাহেদ ভারতে পালিয়ে যেতে না পারেন সে জন্য এই অভিযান চালানো হচ্ছে।’

সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সাতক্ষীরা শহরের কামালনগরের একটি ফ্ল্যাটে গত রাতে অভিযান চালানো হয়েছে। সাহেদ করিম সাতক্ষীরায় অবস্থানকালে সেখানে থাকতেন। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা সদর থানায় ঢাকা যুগ্ম জজ প্রথম আদালতের সিআর ১৪৮৮ নম্বর মামলার ওয়ারেন্ট পেন্ডিং রয়েছে।

পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল রিজেন্ট হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আহসান হাবীব (১), হেলথ টেকনিশিয়ান আহসান হাবীব (২), হেলথ টেকনোলজিস্ট হাতিম আলী, রিজেন্ট গ্রুপের প্রকল্প প্রশাসক রাকিবুল ইসলাম, মানবসম্পদ কর্মকর্তা অমিত বণিক, গাড়িচালক আবদুস সালাম ও হাসপাতালের কর্মী আবদুর রশিদ খান জুয়েলকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক আলমগীর গাজী। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারী তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত ডিবিতে : উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা মামলাটির তদন্তভার গতকাল রাতে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত তদন্ত কর্মকর্তা ও উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর গাজী বলেন, কমিশনারের নির্দেশে মামলার তদন্তভার ডিবির উত্তরা টিমে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ডিবির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) শফিকুল আলম বলেন, এখন সাহেদকে গ্রেপ্তার করাই হচ্ছে আসল কথা। তাঁকে গ্রেপ্তারে ডিবির টিম কাজ করছে।

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, মামলাটির তদন্তভার পাওয়ার জন্য এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে র‌্যাব।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা