kalerkantho

বুধবার । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭। ১২ আগস্ট ২০২০ । ২১ জিলহজ ১৪৪১

অস্থায়ী হাট ইজারার পর এখন ডিজিটাল হাট

লোকসানের শঙ্কা ইজারাদারদের

শাখাওয়াত হোসাইন   

১১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



অস্থায়ী হাট ইজারার পর এখন ডিজিটাল হাট

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) কোরবানির ঈদ উপলক্ষে পশু বেচাকেনার জন্য চারটি অস্থায়ী হাটের ইজারা প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শেষ করেছে। এরই মধ্যে আবার ডিজিটাল হাট বসাচ্ছে নগর সংস্থাটি। আজ শনিবার হাটটি উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। কিন্তু এই ডিজিটাল হাট থেকে ই-কমার্স ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও লাখ লাখ টাকা দিয়ে অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা নেওয়া ব্যবসায়ীরা লোকসানের আশঙ্কা করছেন।

অনলাইনে পশু বেচাকেনা ছাড়াও ঈদের দিন কোরবানি দিয়ে পশুর মাংস প্যাকেটজাত করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর বিনিময়ে অর্থ পরিশোধ করতে হবে সেবাগ্রহীতাকে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি থেকে কোনো ধরনের রাজস্ব পাবে না ডিএনসিসি।

জানা গেছে, পশু বিক্রির অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘ডিএনসিসি ডিজিটাল হাট’ আজ শনিবার সকাল ১১টায় উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) ও ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সহযোগিতায় ডিএনসিসির এই হাটটি চলবে। ই-ক্যাবের ৫০-৭০টির মতো প্রতিষ্ঠান অনলাইনে পশু বেচাকেনা, সরবরাহ এবং জবাই করবে। এর বাইরে অনলাইনে পশু কেনার পর ক্রেতা চাইলে উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে কোরবানি প্রক্রিয়া শেষে প্যাকেটজাত মাংস বাসায় নিতে পারবেন। এ জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হবে। তবে অর্থের পরিমাণ এখনো জানা যায়নি। রাজধানীর পাঁচটি স্থানে পশু কোরবানি শেষে মাংস বাসায় সরবরাহের চিন্তা-ভাবনা রয়েছে সিটি করপোরেশন ও ই-ক্যাবের। মোহাম্মদপুরের বসিলা ও উত্তরা এলাকায় বড় দুটি স্থানে ইতিমধ্যে জবাইখানা করার বিষয়টি বিবেচনা করছে ডিএনসিসি। এ ছাড়া আরো তিনটি স্থানে জবাইখানার বিষয়ে ভাবছে ডিএনসিসি ও ই-ক্যাব।

কিন্তু অনলাইনে গরু বেচাকেনা এবং জবাই শেষে মাংস বাসায় পৌঁছানো থেকে কোনো ধরনের অর্থ পাবে না ডিএনসিসি। এর পুরো অর্থ যাবে ব্যবসায়ীদের কাছে। গরুর ক্রেতা বা বিক্রেতাকে কোনো তহশিলও দিতে হবে না বলে কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল।

ই-ক্যাবের সভাপতি শমী কায়সার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সিটি করপোরেশন এবং ই-ক্যাব পশু কেনাবেচার এই প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করে দিচ্ছে। ৫০ থেকে ৭০টির মতো প্রতিষ্ঠান পশু বেচাকেনা, লজিস্টিকস (সরবরাহ) ও স্লটারিং (জবাই) সেবা দেবে। সিটি করপোরেশনকে আলাদাভাবে কোনো রাজস্ব দিতে হবে না। তবে নিয়মানুযায়ী সরকারকে নিশ্চয়ই তারা ভ্যাট-ট্যাক্স দেবে।’

ডিএনসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ডিজিটাল হাট উদ্বোধন হবে। তবে বিস্তারিত এখনো আমি জানি না। রাজস্ব আসবে কি না, তা জানবে সম্পত্তি বিভাগ।’

এ বিষয়ে নগর সংস্থাটির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক গত বৃহস্পতিবার বলেছেন, ‘অনলাইন হাটের পুরো বিষয়টি সমন্বয় করা হচ্ছে মেয়র দপ্তর থেকে। আমি শুনেছি, তবে এ বিষয়ে তেমন কিছু জানি না।’

জানা গেছে, শুরুতে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ১০টি অস্থায়ী হাট ইজারা দিতে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল ডিএনসিসি। পশুর হাটে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টর, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মাঠ ও মিরপুর-৬ নম্বর সেক্টরের ইস্টার্ন হাউজিংয়ের খালি জায়গায় হাট না বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই তিনটি স্থানে হাট না বাসানোর জন্য গত ২ জুলাই একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়।

তবে কাওলা-শিয়ালডাঙ্গা হাট, আফতাবনগরের ই-ব্লকের ৩ নম্বর সেকশনের হাট, ভাষানটেক হাট ও উত্তরার ১৭ নম্বর সেক্টরের বৃন্দাবন হাটের ইজারা সম্পন্ন করেছে ডিএনসিসি। এই চার হাটের জন্য সিটি করপোরেশন দুই কোটি ১৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পাবে। বাকি তিনটি হাটের সর্বনিম্ন ইজারা মূল্য দিয়ে হাট নিতে কোনো ব্যবসায়ী এখনো রাজি হননি। ফলে ওই হাটগুলো ইজারা দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সর্বনিম্ন ইজারা মূল্য না পাওয়ায় ওই হাটগুলোর ইজারা না দিলেও অনলাইনে হাট বসানোর বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন না ইজারাদাররা।

ইজারাদারদের অভিযোগ, করোনা সংকটের মধ্যে পশুর হাট ইজারা নিয়ে সিটি করপোরেশনকে দেওয়া অর্থ উঠবে কি না, তা নিয়ে রয়েছে দুশ্চিন্তা। এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিধি ঠিক রাখতে পশুর হাট না কমিয়ে বাড়ানো উচিত ছিল সিটি করপোরেশনের। হাট বাড়ানো হলে ভিড় কমত। অনলাইন হাট বসানোর সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী। কিন্তু তাদের কাছ থেকে রাজস্ব না নিলে ক্রেতারা ওই হাটের দিকেই ঝুঁকতে পারেন। আর তহশিল দেওয়া না লাগলে ক্রেতা-বিক্রেতা এই করোনার সময়ে অনলাইনের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হবেন। কিন্তু লাখ লাখ টাকা দিয়ে যাঁরা পশুর হাট ইজারা নিয়েছেন তাঁদের পথে বসতে হবে। ডিজিটাল হাট বসালেও অনলাইনে পশু কেনাবেচা খুব একটা জনপ্রিয়তা পাবে না বলেও মনে করেন কয়েকজন ইজারাদার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইজারাদার কালের কণ্ঠকে বলেন, এটা সিটি করপোরেশনের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। অনলাইন ব্যবসায়ীদের এত সুবিধা দিলে ইজারাদাররা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে।’

কাওলা শিয়ালডাঙ্গা পশুর হাটের ইজারাদার মো. রুবেল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারের সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নিতে বাধ্য। তবে অনলাইনে পশু খুব একটা বেচাকেনা হবে বলে মনে হয় না। তবে এই কাজ না করে পশুর হাটের সংখ্যা বাড়িয়ে স্বাস্থ্যবিধি ঠিক রাখা যেত।’

ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ নতুন উদ্যোগ। করোনা সংকটে অনলাইনে বেচাকেনা ভালো একটি উপায়। এ ছাড়া এ বছর দুই-তিন হাজার ক্রেতার কোরবানি শেষে মাংস বাসায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। ডিজিটাল হাটে পশু বেচাকেনায় সিটি করপোরেশনকে কোনো রাজস্ব দিতে হবে না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা