kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

করোনা নিয়ে সাহেদের বাবা ভর্তি অন্য হাসপাতালে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা নিয়ে সাহেদের বাবা ভর্তি অন্য হাসপাতালে

করোনা চিকিৎসার নামে প্রতারণাকারী রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের বাবারও করোনার উপসর্গ দেখা দেয় চার দিন আগে। সাহেদ তাঁকে নিজের হাসপাতালে ভর্তি না করে রাজধানীর মহাখালীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। বাবা সিরাজুল করিমকে ভর্তির সময় সাহেদ বলেন, তাঁর হাসপাতালে বাবাকে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ! অবস্থার অবনতি হওয়ায় সিরাজুলকে এখন ওই ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়েছে। তবে সাহেদ বা তাঁর স্বজনদের কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তেজগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে।

জানতে চাইলে হাসপাতালের এক শীর্ষ কর্মকর্তা গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, গত ৪ জুলাই রাতে সিরাজুলকে হাসপাতালে ভর্তি করতে নিয়ে আসেন সাহেদ। তাঁর বাবার নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ছিল। পরে পরীক্ষায় করোনাভাইরাস পজিটিভ শনাক্ত হয়।

নিজের হাসপাতাল থাকতে সাহেদ কেন তাঁর বাবাকে আপনাদের হাসপাতালে ভর্তি করলেন—এই প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এ ব্যাপারে সাহেদ বলেছিলেন, তাঁর হাসপাতালে ডায়ালিসিসসহ অন্যান্য সেবার ব্যবস্থা নেই। ওখানে বাবাকে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ! যেদিন র‌্যাব তাঁর হাসপাতালে অভিযান চালায়, সেদিন রাতে তিনি একবার ফোন করেছিলেন। এর পর থেকে তাঁর ফোন বন্ধ।’

সূত্র জানায়, হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী সংকটাপন্ন রোগীদের দেখভালের জন্য কাউকে না কাউকে থাকতে হয়। গত ৭ জুলাই পর্যন্ত সাহেদ করিমের একজন সহকারী ছিলেন। বুধবার আর একজন এসেছিলেন। গতকাল থেকে তাঁকে আর পাওয়া যাচ্ছে না। রোগীর অবস্থার অবনতি হচ্ছে।

সাহেদের স্ত্রী সাদিয়া আরাবী বলেন, ‘তিন দিন ধরে তাঁর স্বামীর ফোন বন্ধ। তাঁর শ্বশুরের কাছে একজকে রাখা হয়েছিল। তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ কারণে কেউ নেই।’

জিডির সত্যতা নিশ্চিত করে তেজগাঁও থানার এক এসআই বলেন, ‘ভুয়া রিপোর্ট ও বেশি টাকা দিয়ে করোনার রোগীদের জীবন নিয়ে খেলেছেন সাহেদ। নিজের হাসপাতাল খারাপ দেখেই বাবাকে অন্য হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন তিনি। এখন নিজের বাবা করোনায় আক্রান্ত হয়ে শেষ অবস্থা, পাশে কেউ নেউ। এটাই আল্লাহর বিচার। ’

প্রসঙ্গত, সাহেদের মালিকানাধীন উত্তরা ও মিরপুরের রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে করোনা রোগীদের ভুয়া রিপোর্ট দেওয়া, চিকিৎসার নামে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়সহ ভয়ংকর জালিয়াতির তথ্য পেয়েছে র‌্যাব। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর সাহেদের অনেক প্রতারণার তথ্য উঠে এসেছে। তাঁকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা