kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

প্রতারণার জন্য কম্পানি খুলতেন সাহেদ

তারেক অপকর্মের সহযোগী, ভায়রা বশিরের মাধ্যমে মিডিয়ায় প্রভাব

এস এম আজাদ   

১০ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রতারণার জন্য কম্পানি খুলতেন সাহেদ

করোনা রোগীর চিকিৎসা ও পরীক্ষার নামে প্রতারণা চালানো রিজেন্ট হাসপাতালে র‌্যাবের অভিযানের সূত্র ধরে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের কুকীর্তির আরো তথ্য উঠে আসছে। প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য আগেই কম্পানি খুলে বসতেন তিনি। মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর অনেকের সঙ্গে ব্যাবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তুলে প্রতারণা করেছেন। প্রতিষ্ঠানের জন্য ভবন ভাড়া নিয়ে টাকা না দেওয়া, পাওনাদাররা টাকা চাইলে হয়রানি করা, হুমকি দেওয়া ও ভয়ভীতি দেখানো ছিল তাঁর কুকর্মের অন্যতম দিক। উত্তরা ও মিরপুরের রিজেন্ট হাসপাতালের ভবন মালিকরা তাঁর বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছেন। তদন্তকারী ও ভুক্তভোগী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, ভুক্তভোগী কেউ আইনের আশ্রয় নিলে তাঁকে অফিসে ডেকে তাঁর সহযোগী নারীদের দিয়ে যৌন কেলেঙ্কারিতে ফাঁসিয়ে দিতেন সাহেদ। সে জন্য উত্তরায় তাঁর অফিসের একটি কক্ষ গোপনীয় করে রেখেছিলেন তিনি। সেখানে শুধু কয়েকজন বিশেষ নারী ও সহযোগী তারিকুল ইসলাম ওরফে তারেক শিবলীর ঢোকার সুযোগ ছিল। ওই কক্ষে বসেই বিভিন্ন অপকর্ম চালাতেন সাহেদ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক র‌্যাব কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, তিন-চার বছর ধরে পুলিশ ও র‌্যাবের অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দিলে সাহেদ ফোন করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হুমকি দিতেন যে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে নালিশ করবেন। এ ছাড়া তিনি নিজেকে সাতক্ষীরার সংসদ সদস্য (এমপি) প্রার্থী বলেও পরিচয় দিতেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সাহেদের অন্যতম সহযোগী ও রিজেন্ট হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম ওরফে তারেক শিবলীকে (৩৩) রাজধানীর নাখালপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। সাহেদের ভায়রা ও টিভি নাটকের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘টেলিহোম’-এর প্রধান মোহাম্মদ আলী বশিরকে কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দিয়েছে র‌্যাব।

তদন্তকারী সূত্র জানায়, তারেক সব অবৈধ টাকার লেনদেন ও বিভিন্ন স্থানে সাহেদের পক্ষে ‘ম্যানেজ’ করার কাজ করতেন। আর ভায়রা আলী বশিরের মাধ্যমে টিভি মিডিয়ায় প্রভাব বিস্তার করেছিলেন তিনি। তারেকের মাধ্যমেই সাহেদ রিজেন্ট হাসপাতালের করোনা চিকিৎসার জালিয়াতির টাকা লেনদেন করতেন। ভায়রা আলী বশিরের মাধ্যমে সাহেদ তাঁর অবৈধ টাকা মিডিয়ায় ঢেলেছেন বলে অভিযোগ আছে। টিভি টক শোতে অতিথি হওয়ার পেছনেও আলী বশিরের ভূমিকা আছে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘রিজেন্ট হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম ওরফে তারেক শিবলীর কাছ থেকে সাহেদের অনেক অপকর্মের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সাহেদকে ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে।’

স্ত্রীও এখন বিচার চান : প্রায় দুই বছর ধরে বনানীর ওল্ড ডিওএইচএসের ৯ নম্বর বাড়িতে ভাড়া থাকেন সাহেদ। ব্যবসায়ী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিলেও ভাড়ার টাকা দিতেন না ঠিকমতো। ভাড়া চাইতে গেলে উল্টো হুমকি দিতেন মালিককে। টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাহেদের স্ত্রী সাদিয়া আরবী বলেন, ‘২০০৮ সাল থেকেই সাহেদ এসব প্রতারণা শুরু করে। আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গেও প্রতারণা করেছে। এটা তার নেশায় পরিণত হয়েছে। কয়েকবার আমি তার কাছ থেকে চলেও গেছি। আমার পরিবারের কয়েকজনের সাথেও তার টাকা-পয়সা নিয়ে গণ্ডগোল ছিল। ওর জন্য আমার পরিবারের অন্যরাও সমস্যায় আছে। আমিও তার বিচার চাই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা