kalerkantho

শনিবার । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৫ আগস্ট ২০২০ । ২৪ জিলহজ ১৪৪১

ডাব্লিউএইচওর স্বীকার

বাতাসের মাধ্যমে করোনা ছড়ানোর প্রমাণও আসছে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাতাসের মাধ্যমে করোনা ছড়ানোর প্রমাণও আসছে

এবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) স্বীকার করেছে, বাতাসের মাধ্যমেও করোনাভাইরাস ছড়ানোর প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্বের ৩২টি দেশের ২৩৯ জন বিজ্ঞানী এক খোলাচিঠিতে এ বিষয়ে ডাব্লিউএইচওর গাইডলাইন হালনাগাদ করার আহ্বান জানানোর পর জাতিসংঘের এ সংস্থার পক্ষ থেকে এ স্বীকারোক্তি এলো।

ডাব্লিউএইচওর টেকনিক্যাল প্রধান ড. মারিয়া ফন কেরকোভে মঙ্গলবার জেনেভায় এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘করোনাভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে বা বাতাসে ভাইরাল কণার মাধ্যমে সংক্রমণ ঘটাতে পারে, সেই আশঙ্কা নিয়ে আমাদের মধ্যেও আলোচনা হচ্ছে।’

এত দিন সংস্থাটি বলে আসছিল, আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে শ্বাসতন্ত্র থেকে বের হওয়া ড্রপলেট বা ক্ষুদ্র জলীয় কণার মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছয় ফুট দূর পর্যন্ত ছিটকে যেতে পারলেও এটি বায়ুবাহিত নয়। অপেক্ষাকৃত বড় ড্রপলেট বা জলীয় কণাগুলো ভারী হওয়ায় দ্রুত নিচে পড়ে যায়।

ডাব্লিউএইচওর এই অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করে সম্প্রতি ২৩৯ জন বিজ্ঞানী অভিযোগ করেন, বাতাসের মাধ্যমে করোনায় সংক্রমিত হওয়ার বিষয়টি খাটো করে দেখাচ্ছে ডাব্লিউএইচও। এক খোলাচিঠিতে প্রমাণসহ ওই বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন, বাতাসে ভেসে থাকা একেবারে ক্ষুদ্র ভাইরাসবাহী কণা থেকেও মানুষ শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে আক্রান্ত হতে পারে। তাঁদের ওই চিঠি গত সোমবার ক্লিনিক্যাল ইনফেকশাস ডিজিজেস জার্নালেও প্রকাশ করা হয়েছে।

ওই চিঠিতে সই করা ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডোর কেমিস্ট হোসে হিমেনেস বলেন, এই ‘প্রমাণগুলোর’ কথা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্বীকার করুক, সেটাই তাঁরা চেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটা মোটেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে আক্রমণ করা নয়। এটা একটা বৈজ্ঞানিক বিতর্ক। আমাদের মনে হয়েছে, এটা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলা উচিত, কারণ বহুবার আলোচনা হলেও তারা আমাদের প্রমাণগুলো শুনতে অস্বীকার করে আসছিল।’

জেনেভায় ডাব্লিউএইচওর ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের বেনেদেত্তা আলেগ্রানজি বলেন, ‘করোনাভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে ছড়ানোর বিষয়ে যেসব প্রমাণ আসছে, সেগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে আছে, এখনো নিশ্চিত হওয়ার মতো কিছু নয়। সেখানে বলা হচ্ছে, নির্দিষ্ট কিছু পরিবেশে, আবদ্ধ জনাকীর্ণ ঘরে, যেখানে বাতাস চলাচলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই, সেখানে বায়ুবাহিত সংক্রমণের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে এসব প্রমাণ সংগ্রহ করা এবং পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে আমরা সমর্থন দিয়ে যাচ্ছি।’

এর আগে নিউ ইয়র্ক টাইমসে বিজ্ঞানীদের ওই চিঠির খবর প্রকাশ করে বলা হয়েছিল, এ ভাইরাস যদি সত্যিই বায়ুবাহিত হয়ে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ছড়াতে পারে, বিশেষ করে সেসব জায়গায়, যেখানে অবাধে বাতাস চলাচল নেই, কিন্তু মানুষের সমাগম বেশি, তাহলে ভাইরাস ঠেকানোর পরিকল্পনায়ও ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে। সে ক্ষেত্রে মাস্ক পরতে হবে ঘরের মধ্যেও। সামাজিক দূরত্বের নিয়ম মানার পরও আবদ্ধ জায়গায় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। কভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা দিতে যাওয়ার আগে স্বাস্থ্যকর্মীদের এন৯৫ মাস্ক পরে নিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নার্সিং হোম, বাসাবাড়ি আর অফিসে এয়ারকন্ডিশনার বা এয়ারকুলারের ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে, বসাতে হবে বাতাস বিশুদ্ধ করার শক্তিশালী ফিল্টার। এমনকি ঘরের ভেতরে বাতাসে ভেসে বেড়ানো ভাইরাসবাহী অতি ক্ষুদ্র কণাগুলো ধ্বংস করতে অতিবেগুনি রশ্মিও ব্যবহার করতে হতে পারে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা