kalerkantho

শনিবার । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৫ আগস্ট ২০২০ । ২৪ জিলহজ ১৪৪১

সাক্ষাৎকার

নিছক চাঁদাবাজির দ্বন্দ্বে পাহাড়ে হত্যাকাণ্ড

বীর বাহাদুর উশৈসিং
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী

তৈমুর ফারুক তুষার   

৯ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নিছক চাঁদাবাজির দ্বন্দ্বে পাহাড়ে হত্যাকাণ্ড

‘পার্বত্য এলাকার মানুষের সমস্যা দূর করতে নানা প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। দুর্গম এলাকার অন্ধকার দূর করতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ১১ হাজার পরিবার সৌরবিদ্যুৎ পেয়ে গেছে। ভবিষ্যতে আরো ৪২ হাজার ৫০০ পরিবারকে সৌরবিদ্যুৎ দিতে একনেকে প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং কালের কণ্ঠকে মোবাইল ফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটা জানিয়েছেন। পার্বত্য এলাকায় কাজ করতে গিয়ে গত জুন মাসে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে সুস্থ হয়ে উঠেছেন বীর বাহাদুর। তিনি বলেন, ‘পার্বত্য এলাকায় প্রায় ১১ হাজার পরিবারকে আমরা বিনা পয়সায় সোলার প্যানেল দিয়েছি। আরো সাড়ে ৪২ হাজার পরিবারকে সোলার সিস্টেম দেওয়া হবে। এরই মধ্যে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় থেকে সঞ্চালন লাইন সম্প্রসারণের জন্য ৫৪৫ কোটি টাকার মতো প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বিগত কয়েক বছরে পার্বত্য এলাকায় রাস্তাঘাট, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কালভার্ট, ব্রিজ নির্মাণের মতো অসংখ্য কাজ হয়েছে। এলজিইডি, সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর নানা কাজ করছে। বান্দরবান থেকে থানচিতে যেতে আগে তিন-চার দিন লেগে যেত। এখন মাত্র তিন ঘণ্টায় যাওয়া যায়। সেখানে এখন বিদ্যুৎ আছে; ফায়ার স্টেশন, হাসপাতাল ও কলেজ হয়েছে।’

করোনা মোকাবেলায় সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চল তিন জেলা নিয়ে। এখানে স্বাস্থ্যগত বিষয়গুলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেখছে। কিন্তু তার পরও পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব আছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারের পক্ষ থেকে খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটি জেলায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। পাশাপাশি প্রতিটি জেলা পরিষদকে একবার ২০০ টন এবং আরেকবার ৩০০ টন করে খাদ্য সহায়তা দিয়েছি। নগদ অর্থ সহায়তা হিসেবে এক কিস্তিতে ৪০ লাখ এবং আরেক কিস্তিতে ৫০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।’

বীর বাহাদুর বলেন, ‘প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও তৃণমূলে জনপ্রতিনিধি পর্যন্ত সবার মধ্যে কাজে ভালো সমন্বয় রয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয়, আমাদের তরুণরা, এমনকি বাচ্চা ছেলেরাও মানবতা কাকে বলে তা দেখিয়ে দিয়েছে। তারা নিজেদের নাশতার টাকা জমিয়ে, বন্ধু-বান্ধব মিলে টাকা তুলে অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দিয়েছে। রাস্তায় পড়ে থাকা মানুষকে সহায়তা করেছে। চাঁদা তুলে হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন কিনে দিয়েছে। চিকিৎসক-নার্সরা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। যদিও স্বাস্থ্য খাতে এখানে পর্যাপ্ত স্টাফ নেই।’

করোনার বিস্তারে বেকারত্ব বৃদ্ধি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘পার্বত্য এলাকাগুলোতে কর্মসংস্থানের সুযোগ কম। ঢাকা ও চট্টগ্রামে আমাদের অনেক শ্রমিক আছে। করোনার ফলে সেখানে প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে চাকরিচ্যুতি ঘটলে তার প্রভাব স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় পড়বে। তবে মানুষ যাতে একেবারে অভুক্ত না থাকে সেদিকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের চেষ্টা করতে হবে বেকারত্ব যেন না বাড়ে।’

পাহাড়ে সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে বীর বাহাদুর বলেন, ‘এগুলো নিছক চাঁদাবাজির দ্বন্দ্বে ঘটছে। জমি দখল, সন্ত্রাসের জন্যই এগুলো হয়ে থাকে। পাহাড়ি-বাঙালি-নির্বিশেষে আমরা কেউই চাই না পাহাড়ে কোনো অশান্তি হোক। আমরা চাই পাহাড়ের সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে শান্তি প্রতিষ্ঠা হোক। যারা অস্ত্র ব্যবহার করছে তারা কি বলতে পারবে আসলে কী চায়?’

মন্ত্রী বলেন, ‘একেকটি পরিবারের ওপর হামলা হয়, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা মারা যান। আর পরিবারটি ধ্বংসের দিকে যায়। আমরা সাধ্যমতো সাহায্য করে থাকি। কিন্তু ওই সব পরিবারের যে ক্ষতি হয় তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধ হওয়া দরকার।’

করোনায় আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘করোনার মধ্যে এলাকায় বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি। কোন ফাঁকে যে ভাইরাসটা ধরে ফেলল তা বুঝতেই পারিনি। ৪ জুন নমুনা পরীক্ষা করতে দিলাম। ৬ তারিখ রাত ১০টার দিকে করোনা পজিটিভ হওয়ার খবর এলো। রাতেই আমার মন্ত্রণালয়ের সচিব যোগাযোগ করে পরদিন সকালেই হেলিকপ্টারে করে সিএমএইচে নিয়ে এলেন। ১৭ জুন পুনরায় নমুনা পরীক্ষায় ফলে পজিটিভ এলো। ২২ জুন নমুনা পরীক্ষায় ফল নেগেটিভ এলো। এরপর ২৩ জুন হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় এলাম।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা