kalerkantho

শনিবার । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৫ আগস্ট ২০২০ । ২৪ জিলহজ ১৪৪১

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানালেন

এমপি পাপুল কুয়েতের লোকাল রেসিডেন্ট

অভিযোগ পেলে রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে তদন্ত

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৮ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এমপি পাপুল কুয়েতের লোকাল রেসিডেন্ট

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সহিদ ইসলাম পাপুলকে কুয়েত কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের সংসদ সদস্য হিসেবে গ্রেপ্তার করেনি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। মানবপাচার, অর্থপাচার, শ্রমিক নিপীড়নসহ বিভিন্ন অভিযোগে গত ৬ জুন কুয়েতের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পাপুলকে গ্রেপ্তার করে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ সপ্তাহেই তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দায়েরের কথা রয়েছে।

সংসদ সদস্য পাপুলের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা মানবপাচার, অর্থপাচার এসব বিষয়ে কোনো ছাড় দেব না। তবে এটি শুনেছি যে আমাদের ওই সাংসদ (সংসদ সদস্য), তিনি কিন্তু কোনো সরকারি পাসপোর্ট নিয়ে যান নাই। তিনি ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট নিয়েও যান নাই।’

মন্ত্রী বলেন, “তিনি (এমপি পাপুল) সেখানে (কুয়েতে) বহু বছর ধরে।

তিনি ৩০ বছর ধরে ওখানে ব্যবসা করেন। ওখানে তিনি কম্পানির সিইও ও এমডি। তিনি ওখানকার বোধ হয় ‘লোকাল রেসিডেন্ট’ (স্থানীয় বাসিন্দা)। সেই হিসেবে ওখানে গেছেন। তাঁকে তারা ‘অ্যারেস্ট’ করেছে, যা করেছে, ‘নট অ্যাজ অ্যান এমপি অব বাংলাদেশ’ (বাংলাদেশের সংসদ সদস্য হিসেবে নয়), করেছে ওখানে ব্যবসায়ী হিসেবে।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কুয়েতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এক মাসেও এমপি পাপুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ বিষয়ে কুয়েত সরকারের কোনো বক্তব্য ঢাকায় জানাতে পারেননি। ঢাকায় কুয়েতের রাষ্ট্রদূতকে ডেকেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে জানতে চেয়েছে। তিনিও এক সপ্তাহে কিছু জানাননি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কুয়েতে লকডাউন চলছে। সেখানে এ সময় কেউ কারো সঙ্গে যোগাযোগও করে না। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখি, ওখানে (কুয়েতে) সরকার কী বলে। সেগুলো যদি গর্হিত কাজ হয়, নিশ্চয়ই আমাদের আইনে যে বিধি-বিধান আছে সে অনুযায়ী তাঁদের শাস্তি হবে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকায় কুয়েতের রাষ্ট্রদূতও হয়তো নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ সম্পর্কে মতামত দিতে চাচ্ছেন না। তবে সংসদ সদস্য পাপুল বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে যদি কনস্যুলার সার্ভিস চান তাহলে তা দিতে কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা মানবপাচার ও অর্থপাচার বন্ধ করতে কত চেষ্টা চালাচ্ছি। এ সময় একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে কুয়েতে অভিযোগ এসেছে। বিষয়টা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

পাপুলের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ড. মোমেন বলেন, “ওই দেশের (কুয়েত) সরকার যদি তাঁর সম্পর্কে জানায় তাহলে আমাদের যে আইন-কানুন আছে তার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী মানবপাচার, অর্থপাচার এসব বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্ট’। সে যে দলেরই হোক, নিজের দলের হলেও শাস্তি পেতে হবে।”

কুয়েতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এস এম আবুল কালাম সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তাঁর নিয়োগের চুক্তির মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে। এ মাসেই তাঁর মেয়াদ শেষে তিনি চলে আসবেন। নতুন রাষ্ট্রদূত কে হবেন তাও আমরা চূড়ান্ত করে ফেলেছি।’ রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলেও তদন্ত হবে বলে তিনি জানান।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা