kalerkantho

রবিবার। ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭। ৯ আগস্ট ২০২০ । ১৮ জিলহজ ১৪৪১

বড় ধস পোশাক খাতে

সরকারের নীতি সহায়তা চান উদ্যোক্তারা

উৎস কর কমানো এবং আরো তিন মাসের মজুরির জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা চায় বিজিএমইএ

এম সায়েম টিপু   

৬ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সরকারের নীতি সহায়তা চান উদ্যোক্তারা

করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিশ্ববাজারের পাশাপাশি বাংলাদেশের রপ্তানি আয়েও ধস নেমেছে। সবচেয়ে ধসের কবলে পড়েছে দেশের বেশির ভাগ রপ্তানি আয়ের খাত তৈরি পোশাক শিল্প। এখানে ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান। বেশির ভাগই নারী শ্রমিক। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই কারখানাগুলো বন্ধের ঝুঁকি মোকাবেলা, শ্রমিকদের চাকরি রক্ষা, তাদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চলতি মূলধনের জন্য সরকারের দেওয়া ৫০ হাজার কোটি টাকার দ্রুত ছাড়, বৈশ্বিক ক্রেতাদের অংশীদারি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেমের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান কালের কণ্ঠকে বলেন, বৈশ্বিক কারণে দেশের এই খাতের রপ্তানি বড় ধরনের মন্দায় পড়েছে। বৈশ্বিক মন্দা কাটিয়ে উঠতেও সময় লাগবে। দেশের

উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বৈশ্বিক ক্রেতাদেরও এই ঝুঁকি মোকাবেলায় দায়িত্ব নেওয়ার আছে। এ জন্য সরকার এবং উদ্যোক্তাদের বাণিজ্যিক কূটনৈতিক যোগাযোগ ও ক্রেতাদের সঙ্গে দর-কষাকষি বাড়তে হবে। পোশাক কারখানাগুলোয় শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়া সরকারের দেওয়া প্রণোদনা যথাযথ ব্যবহারের উদ্যোগ নিতে হবে।   

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুসারে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশের পোশাক খাতের রপ্তানি আয় হয়েছে তিন হাজার ৪০০ কোটি ডলার। অন্যদিকে গত এক বছরে ১৮.১২ শতাংশ আয় কমে হয়েছে দুই হাজার ৭৮৩ কোটি টাকা। করোনার প্রভাবে সবচেয়ে বেশি আয় কম হয় মার্চ মাসে। মে মাসে কম ছিল ৬২ শতাংশ আর এপ্রিলে কম ছিল ৮৫ শতাংশ। তার আগের মাস মার্চেও ২০ শতাংশ কম ছিল।

উদ্যোক্তারা জানান, করোনার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী পোশাক খাতের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বাজারের চাহিদা এবং বিক্রি কমেছে। এই অবস্থায় সরকারের নীতি সহায়তায়ই পারে দেশের রপ্তানি আয়ের ধস কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে। এ জন্য চলতি অর্থবছরের জটিলতা থেকে উদ্যোক্তাদের বের করে আনতে হবে। এ ছাড়া পণ্য বহুমুখীকরণ এবং উচ্চমূল্যের পণ্যের রপ্তানিতে উদ্যোক্তাদের জোর দিতে হবে। তাঁরা আরো বলেন, পোশাক খাতের  উচ্চমূল্যের পোশাক তৈরির ক্ষেত্রে দক্ষ কর্মীর বেশ অভাব রয়েছে। এসব কর্মীর দক্ষতাও বাড়াতে হবে। এ ছাড়া বিদ্যমান নগদ সহায়তা ৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে আগামী দুই বছরের জন্য ১০ শতাংশ করে দেওয়া যেতে পারে। 

নিট পোশাক খাতের সংগঠন বিকেএমইএ জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম কালের কণ্ঠকে বলেন, ১৯৯৭ সালের ২৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়ায় দেশের রপ্তানি আয় বেড়েছিল। একই সঙ্গে সংযোগ শিল্প এবং প্রাইমারি বস্ত্র খাত আজ দেশে বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে।  তিনি উৎস কর কমানো এবং আরো তিন মাসের শ্রমিকদের মজুরির জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনার দাবি জানান। এ বিষয়ে বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ অর্থমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছে বলে জানান তিনি। 

সরকারের গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএস জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো নাজনীন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, দেশের তৈরি পোশাক খাতের ঘুরে দাঁড়াতে হলে সরকার ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দিলেও সেই প্রণোদনা উদ্যোক্তারা এখনো পাচ্ছেন না ব্যাংকের নানা জটিলতার জন্য। এসব ক্ষেত্রে বিজিএমইএকে উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এ ছাড়া তিনি বলেন, কারখানার শ্রমিকদের স্বাস্থ্যের দিকটি নিরাপদ করা না গেলে কোনো উদ্যোগই কাজে লাগবে না। শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে বৈশ্বিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে রপ্তানি খাতের প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ডিসিসিআই) সভাপতি শামস মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট হলেও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য এটা খুব একটা সহায়ক বাজেট নয়। পোশাক খাতের উৎস কর ০.২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে আবার ০.৫০ শতাংশ করা হয়েছে। রপ্তানি আয়ে নগদ প্রণোদনার ওপর কর ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১০ শতাংশ কর আরোপ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বাজেটে আগাম কর, উৎস কর দেওয়া বাধ্যতামূলক করা রপ্তানিকারকদের জন্য সামনের দিনগুলোকে আরো কঠিন করে দেওয়া হয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা