kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

এক ঠিকাদার বারবার কাজ পাচ্ছেন না

তৈমুর ফারুক তুষার   

৫ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



এক ঠিকাদার বারবার কাজ পাচ্ছেন না

একজন ঠিকাদারকে একই সময়ে একাধিক বড় কাজের ভার দেওয়া নিরুৎসাহ করছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। কাজের গুণগত মান ও সময় ঠিক রাখতে এ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটি জানিয়েছেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম। তিনি বলেছেন, অনেক সময় দেখা যায়, একজন ঠিকাদারের কয়েক শ কোটি টাকার বড় একটি প্রকল্প চলমান থাকার মধ্যেই তাঁকে আরো বড় প্রকল্পের কাজ দেওয়া হয়। এতে বেশি কাজের বোঝা চেপে যাওয়ায় গুণগত মান ঠিক রাখা কঠিন হয়।

ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এনামুল হক শামীম আওয়ামী লীগের গত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। বর্তমান সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরই দায়িত্ব পান পানিসম্পদ উপমন্ত্রীর। গত দেড় বছরে দায়িত্ব পালনের নানা দিক কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন তিনি।

এনামুল হক শামীম বলেন, ‘আমি স্কুলজীবন থেকে রাজনীতি করে উঠে এসেছি। ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম। আওয়ামী লীগের তিন কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা ছিলাম। ফলে জনমানুষের সঙ্গে আমার গভীর একাত্মতা রয়েছে। আমি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নতুন। কিন্তু আমি নদীভাঙা মানুষ। নদীর কারণে আমাদের ঠিকানা পরিবর্তন হয়ে গেছে। ফলে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পাওয়ার পর আমি সবার আগে গুরুত্ব দিয়েছি দেশের নদীভাঙন, জলাবদ্ধ, হাওর অঞ্চলের বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা কোনগুলো, সেগুলো শনাক্ত করার পর আমি ওই সব এলাকা সরেজমিন পরিদর্শনে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছি। আগে ফাইল স্টাডি, এরপর সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। গত দেড় বছরে ৩০ জেলার ৫১টি নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। এর মধ্যে হাতিয়া, সন্দ্বীপের মতো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ এলাকাও রয়েছে। এতে অনেক কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হয়েছে। সন্দ্বীপের একটি এলাকায় মাত্র ৬০০ মিটার দীর্ঘ একটি বেড়িবাঁধ না থাকার কারণে প্রতিবছর কয়েকটি ইউনিয়ন তলিয়ে যেত। আমি পরিদর্শন করে সেখানে বাঁধ নির্মাণের পর এ বছর এলাকাগুলো আর প্লাবিত হয়নি।’

নিজ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ নানা পরিবর্তনের কথা জানিয়ে এনামুল হক শামীম বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের কাজে গতি বাড়াতে নিয়োগপ্রক্রিয়াকে সহজ করেছি। আগে শুধু একটি ভাইভা বোর্ড ছিল। দেখা যেত ৭০০ প্রার্থীর ভাইভা নিতে ছয় মাস লেগে গেছে। এখন আমরা আটটি ভাইভা বোর্ড করে দিয়েছি। এতে দেখা যায় সাত কর্মদিবসের মধ্যে সব মৌখিক পরীক্ষা শেষ হয়ে যায়।’ তিনি বলেন, ‘কাজের গুণগত মান বাড়াতে আমরা টাস্কফোর্সকে শক্তিশালী করেছি। কাজ গতিশীল করতে জনবল বাড়িয়েছি। সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে চার-পাঁচ শ জনবল নিয়োগ দিয়েছি। তৃতীয়, চতুর্থ শ্রেণিসহ আর কোন কোন শূন্যপদ আছে, সেগুলো খুঁজে বের করে লোক নিয়োগ দেব।’

দুর্যোগের সময়ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে শামীম বলেন, ‘করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেও এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। আমার নির্বাচনী এলাকা নড়িয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। সেখানে এই করোনার মধ্যেও দেড় থেকে দুই হাজার লোক কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পিত উদ্যোগের ফলে এবার নদীভাঙনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা কমে এসেছে। আগে যেখানে সিজিআইএফ কিংবা আইডাব্লিউএমের তালিকায় ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছিল, এখন তা কমে ১৫টি হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরে নোটিশ দেওয়ায় এক দিনও কোনো ফাইল আটকে থাকছে না। আমরা বোর্ডকে গতিশীল করার জন্য এডিজিদের কাজ ভাগ করে দিয়েছি। আটটি বিভাগ করে দিয়েছি। ডিজাইন শাখায় আমরা জনবল বাড়িয়েছি। আগে একজন-দুজনের ওপর নির্ভর করতে হতো। পেশাগত সন্তুষ্টি বাড়াতে পদোন্নতির নীতিমালায় পরিবর্তন এনেছি। আগে এসডি থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী হতে সাত বছর লাগত। আমরা পাঁচ বছর করে দিয়েছি। সহকারী প্রকৌশলীদের পদোন্নতির বিষয়টিও সহজ করে দেওয়া হয়েছে। দেখা যেত অন্য চাকরিতে তাঁদের ব্যাচমেটরা পদোন্নতি পেয়ে এগিয়ে গেছেন; কিন্তু পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মরতরা পদোন্নতি পাচ্ছেন না। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির বিষয়ে শূন্য সহনশীলতার নীতি নিয়েছি।’

পাউবোর নানা প্রকল্পের কাজ প্রসঙ্গে উপমন্ত্রী বলেন, ‘বেশি কাজের ভার একই ঠিকাদারের ওপর চাপানোর বিষয়টিকে আমরা নিরুৎসাহ করছি। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। বিষয়টি প্রকল্প পরিচালকদের বলে দিয়েছি। দেখা যায়, একজনের ৫০০ কোটি টাকার কাজ চলছে, এর ওপর আবার নতুন করে ২০০ কোটি টাকার কাজ দেওয়া হয়। বিষয়গুলো যেন না করা হয় সেদিকে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি।’

এনামুল হক শামীম বলেন, ‘সারা দেশে ১৭ হাজার কিলোমিটার বাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে উপকূল এলাকায় ১৩৯টি ফোল্ডারে পাঁচ হাজার ৭৫৭ কিলোমিটার বাঁধ আছে, ডুবোবাঁধ আছে প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার। গত বছর আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়ায় এ বছর হাওর এলাকা প্লাবিত হয়নি। কৃষকরা হাওরের শতভাগ ধান ঘরে তুলতে পেরেছে। এর আগের বছর কিন্তু ধান ঘরে তুলতে গিয়ে বেশ সমস্যা হয়েছিল।’

মন্ত্রণালয়ে নিজের কৃচ্ছ্রসাধনের কথা তুলে ধরে শামীম বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ে যোগদানের প্রথম দিন থেকেই আমি মন্ত্রণালয়ের একটি গাড়িই ব্যবহার করি। পরিবহন পুলের আরেকটি গাড়ি নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা গ্রহণ করিনি। আমি যখন এলাকায় যাই তখন নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যাই। অন্য কোথাও গেলে সেখানকার ইউএনও বা ডিসির গাড়ি ব্যবহার করি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা