kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

করোনা দুর্যোগেও হামলা-মামলার শিকার হচ্ছেন সংবাদকর্মীরা

► বন্ধ না হলে সমাজে দুর্বৃত্তায়ন বেড়ে যাবে
► গত ছয় মাসে নির্যাতিত ১৫৬ জন

বিশেষ প্রতিবেদক   

৫ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা দুর্যোগেও হামলা-মামলার শিকার হচ্ছেন সংবাদকর্মীরা

করোনাকালীন বিশেষ পরিস্থিতিতে একদিকে সম্মুখ সারির যোদ্ধা হিসেবে আক্রান্ত হচ্ছেন সংবাদকর্মীরা, অন্যদিকে এমন দুর্যোগময় পরিস্থিতিতেও একের পর এক হামলা, ভুয়া মামলা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাংবাদিকরা। দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হওয়ার কারণেই বারবার এসব ঘটনা ঘটছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সাংবাদিকদের ওপর এভাবে হামলা, মামলা, নির্যাতনের ঘটনা বন্ধ না হলে সমাজে দুর্বৃত্তায়ন বেড়ে যাবে বলেও তাঁরা মনে করেন।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান অনুসারে দেশে গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ১৫৬ জন সাংবাদিক বিভিন্নভাবে নির্যাতন, হয়রানি, হুমকি ও পেশাগত কাজ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। এসব ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে বলে নিজেদের ষাণ্মাসিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে আসক। তাদের পরিসংখ্যান অনুসারে দেশে জানুয়ারি মাসে ১৭টি, ফেব্রুয়ারিতে ১৮, মার্চে ১৫, এপ্রিলে ৩৬, মে-তে ৪০ এবং জুন মাসে ৩০টি সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। আসক মনে করে, যেকোনো দুর্যোগে জনগণের কাছে সঠিক তথ্য থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। আর জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার রক্ষায় করোনার এ সংকটের সময়ে সাংবাদিকরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে যেভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং তাঁদের যেভাবে হয়রানি ও শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে তা অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য অশনিসংকেত।

সাংবাদিক নির্যাতনের ক্ষেত্রে সরাসরি হামলার ঘটনা যেমন ঘটছে, তেমনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটছে। সর্বশেষ গত শুক্রবার রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে পাঁচ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও ক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের করোনাভাইরাস পরীক্ষার নমুনা দিতে ব্যর্থ হওয়া এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়। এ ঘটনার ছবি তুলতে গিয়ে দুই ফটো সাংবাদিক আক্রান্ত হন। অবশ্য এই ঘটনায় ‘শাস্তি’ হিসেবে দুই আনসার সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবী ফেসবুক গ্রুপ ‘আমাদের গণমাধ্যম, আমাদের অধিকার’-এর  তথ্য অনুসারে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৩৫টি সংবাদমাধ্যমের ৫২৭ জন সাংবাদিক। এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন, করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আটজন।

এদিকে ঢাকা সংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ বলেন, ‘সাংবাদিক নির্যাতন হচ্ছে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। প্রকৃত খবর থেকে জনগণকে বঞ্চিত করার জন্যই সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা, নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। যারা আইনের আশ্রয় না নিয়ে সাংবাদিকদের সরাসরি নির্যাতনের পন্থা বেছে নেয় তারা গণতন্ত্রের শত্রু। তারা সরকারকেও বিপদগ্রস্ত করে।’ তিনি আরো বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও নির্যাতনকারীদের নিবৃত্ত করতে সরকারের উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা ও নির্যাতন বন্ধ না হলে সমাজে দুর্বৃত্তায়ন ও নৈরাজ্য বেড়ে যাবে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা