kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

নজরদারি এড়াতে লাল পাসপোর্ট নেননি পাপুল!

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৪ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নজরদারি এড়াতে লাল পাসপোর্ট নেননি পাপুল!

সংসদ সদস্য হিসেবে কূটনৈতিক পাসপোর্ট (লাল রঙের পাসপোর্ট) প্রাপ্য হলেও তার জন্য আবেদনই করেননি লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শহিদ ইসলাম পাপুল। তাঁর লাল পাসপোর্ট ছিল না। মানবপাচার, অর্থপাচার ও শ্রমিক নিপীড়নের অভিযোগে গত ৭ জুন কুয়েতে পাপুল গ্রেপ্তার হওয়ার পর এ বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সংসদ সদস্য হিসেবে কূটনৈতিক পাসপোর্ট পাওয়ার সুযোগ সাধারণত কেউ ছাড়তে চান না। কিন্তু পাপুল কেন কূটনৈতিক পাসপোর্ট নেননি বা এর জন্য আবেদনও করেননি তা নিয়েও কৌতূহল দেখা দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, কুয়েতসহ অন্যান্য দেশে তাঁর যাতায়াতের বিষয়ে নজরদারি এড়াতেই তিনি এমন পথ বেছে নিয়েছেন। কারণ কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহারকারীর বিদেশ সফরের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত সরকারি আদেশ (জিও) প্রয়োজন হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেছেন, কূটনৈতিক পাসপোর্ট থাকলে সংসদ সদস্য পাপুলকে এভাবে গ্রেপ্তার করার সুযোগ ছিল না। ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীরা দায়মুক্তি পেয়ে থাকেন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগে পাপুলকে আটক করতে হলেও আগে সেই দায়মুক্তি প্রত্যাহারের জন্য কুয়েতকে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করতে হতো।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, গত ৬ জুন কুয়েতের নিরাপত্তা বাহিনী সংসদ সদস্য পাপুলকে কুয়েতে তাঁর অফিস থেকে ধরে নিয়ে যায়। পরদিন তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এমনকি আদালতের আদেশে তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। এরপর তাঁকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আগামী ১০ জুলাই তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তোলার কথা রয়েছে।

একজন সংসদ সদস্য যখন বিদেশে গ্রেপ্তার হলেন তখন ওই দেশটিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের ভূমিকা ও কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। জানা গেছে, সংসদ সদস্য পাপুল গ্রেপ্তার হওয়ার পরপরই কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাস তাঁর বিষয়ে জানতে চেয়ে কুয়েত সরকারকে চিঠি দিয়েছিল। কিন্তু কুয়েত সরকার এর কোনো জবাব দেয়নি। এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে সেখানে রাষ্ট্রদূত হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া রাজনীতিক এস এম আবুল কালামের দক্ষতা নিয়েও।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, কুয়েতে এরই মধ্যে নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রদূত হিসেবে এস এম আবুল কালামের মেয়াদ এ মাসেই শেষ হচ্ছে।

কুয়েতে পাপুলকাণ্ডে আরো দুজন গ্রেপ্তার, দুই এমপির ‘সংসদীয় দায়মুক্তি’ প্রত্যাহার : এমপি পাপুলের সঙ্গে অবৈধ লেনদেনে জড়িত থাকার অভিযোগে কুয়েতে আরো দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের একজন কুয়েতের শ্রম বিভাগের এক পরিচালক, অন্যজন কুয়েতে গত সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন এমন একজন রাজনীতিক।

কুয়েতের আরবি দৈনিক আল-রাই জানায়, পাপুলের মতো ওই দুজনকেও ২১ দিনের আটকাদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা