kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

উদ্ভাবকদের আশা

১৫ আগস্টের মধ্যে ভারতের টিকা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১৫ আগস্টের মধ্যে ভারতের টিকা

সব ঠিক থাকলে আর মাস দেড়েকের প্রতীক্ষা। তার পরই বাজারে আসবে ভারতে উৎপাদিত করোনাভাইরাসের টিকা ‘কোভ্যাকসিন’। এই ভ্যাকসিনের হিউম্যান ট্রায়াল শুরু হবে ৭ জুলাই। এ জন্য ১২টি প্রতিষ্ঠানকেও নির্বাচন করা হয়েছে। এই ধাপটি উত্তীর্ণ হয়ে গেলে আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে সাধারণ মানুষের জন্য এই টিকা বাজারে ছাড়া হবে।

ভারত বায়োটেক, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির (এনআইভি) যৌথ উদ্যোগে করোনাভাইরাসের এই প্রতিষেধকটি তৈরি করা হয়েছে। কোভ্যাকসিনের খুঁটিনাটি বিষয় যাচাই করে হিউম্যান ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছে ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া।

আইসিএমআর জানিয়েছে, কোভ্যাক্সিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শেষ হয়েছে। সফলও হয়েছে। হিউম্যান ট্রায়ালও হয়ে যাবে শিগগিরই। শেষ পর্যায়ে সাফল্য পেলে ১৫ আগস্টের মধ্যে কভিড ভ্যাকসিন এসে যাবে। আইসিএমআর ইতিমধ্যেই তার সব স্টকহোল্ডারকে চিঠি দিয়েছে, যাতে এই ট্রায়ালটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার আইসিএমআর ভারতের প্রথম কভিড-১৯ ভ্যাকসিনের হিউম্যান ট্রায়ালের জন্য ১২টি প্রতিষ্ঠানকে বেছে নিয়েছে। বিশাখাপত্তনম, রোহতক, নয়াদিল্লি, বেলগাম, পাটনা, নাগপুর, গোরখপুর, কাট্টানকুলাথুর, হায়দরাবাদ, আর্যনগর, গোয়া ও কানপুরে ৭ জুলাই থেকে শুরু হবে মানবদেহে এই ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক ব্যবহার। জুলাই মাস ধরেই চলবে ট্রায়াল। এর পরেই নির্ধারিত হবে ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত ভাগ্য। পাশ করে গেলে ভারতের স্বাধীনতা দিবসে (১৫ আগস্ট) টিকাটি বাজারে ছাড়া হতে পারে।

কোভ্যাক্সিন উদ্ভাবনের অন্যতম সহযোগী প্রতিষ্ঠান ভারত বায়োটেকের আগে পোলিও, র‌্যাবিস, জাপানিজ এনসেফেলাইটিস, জিকা ও চিকুনগুনিয়ার মতো বিভিন্ন রোগের টিকা উদ্ভাবনে সফলতা দেখিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির এবারের প্রয়াস সফলতার মুখ দেখলে ইতিহাস সৃষ্টির মুখে পৌঁছে দেবে ভারতকে।

জানা গেছে, পুনের এনআইভিতে নভেল করোনাভাইরাসের বিশেষ স্ট্রেনকে আলাদা করা হয় রোগীদের নমুনা থেকে। এরপর তা পাঠিয়ে দেওয়া হয় ভারত বায়োটেকে। তারপর সর্বাধিক জৈব নিরাপত্তায় এই টিকা উদ্ভাবনের কাজ শুরু হয় হায়দরাবাদের জেনোম ভ্যালিতে।

টিকা উদ্ভাবনের ঘোষণা করে ভারত বায়োটেকের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড. কৃষ্ণ এল্লা বলেন, ‘কভিড-১৯ ঠেকাতে টিকা উদ্ভাবন করতে পেরে আমরা গর্বিত। কোভ্যাকসিন নামের এই টিকা তৈরির কাজে আইসিএমআর ও এনআইভি আমাদের সহযোগিতা করেছে।’

প্রথম দফায় মানবদেহে টিকাটি প্রয়োগ করে এর কার্যকারিতা দেখার পাশাপাশি কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঘটছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। এর পরে দ্বিতীয় দফায় টিকাটি কতটা পরিমাণে মানবদেহে ব্যবহার করতে হবে, তা নির্ধারণ করা হবে। তার পরই সম্ভাবনা আছে করোনার ভ্যাকসিন বাজারে আসার। সূত্র : দ্য ওয়াল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা