kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

মুগদা হাসপাতাল

চিকিৎসা করাতে আসা তরুণকে পেটাল আনসার

হামলার শিকার সাংবাদিকও

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চিকিৎসা করাতে আসা তরুণকে পেটাল আনসার

আবারও পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হলেন সাংবাদিকরা। রাজধানীর মুগদা হাসপাতালে ক্ষুব্ধ এক করোনা পরীক্ষাকারী ও তাঁর স্বজনকে আনসার সদস্যরা মারধর করতে শুরু করলে সেই ছবি তুলতে যান বাংলাদেশ প্রতিদিনের ফটো সাংবাদিক জয়ীতা রায় ও দেশ রূপান্তরের ফটো সাংবাদিক রুবেল রশীদ। এতে আনসার সদস্যরা তাঁদের ওপর চড়াও হন। জয়ীতাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। মারধর করেন রুবেলকে। তাঁর ক্যামেরাটি কেড়ে নিয়ে ভাঙচুর করেন। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতাল চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক কাজল হাজরা হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে দোষীদের বিচার দাবি করেছেন।

অশ্লীল গালাগালের শিকার জয়ীতা রায় বলেন, ‘হাসপাতালে কভিড-১৯ টেস্টের জন্য আসা রোগীদের সিরিয়ালের ছবি তুলছিলাম। এ সময় আজ আর পরীক্ষা করা হবে না জানিয়ে আনসার সদস্যদের একজন লাইনে থাকা রোগীদের চলে যেতে বলেন। সিরিয়ালে থেকেও টেস্ট করাতে না পারায় একজন রোগী এর প্রতিবাদ জানান। এ সময় রোগীর স্বজনরাও কাছে ছিলেন। একপর্যায়ে আনসার সদস্যরা রোগীর একজন স্বজনের কলার ধরে হাসপাতালের ভেতরে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যেতে থাকেন। আমি তখন সেই ছবি তুলতে গেলে আনসার সদস্যরা হামলা চালান। এ সময় রুবেলের ক্যামেরার লেন্সের ফিল্টার ভেঙে যায়।’

ফটো সাংবাদিক রুবেল রশীদ বলেন, ‘হাসপাতালে কভিড-১৯ টেস্টের জন্য ৪০ জনকে টিকিট দেওয়া হয়। কিন্তু ৩৪ জনের পরীক্ষা করেই আনসার সদস্যরা বলেন আজ পরীক্ষা শেষ। তখন ৩৬ নম্বর সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকা শাওন হোসেন নামের এক যুবকের সঙ্গে আনসার সদস্যদের তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে আনসার সদস্যরা তাঁর গায়ে হাত তোলেন। এ ঘটনার ছবি তুলতে যান বাংলাদেশ প্রতিদিনের আলোকচিত্রী জয়ীতা রায়। এ সময় আনসার সদস্যরা অকথ্য ভাষা ব্যবহার করে জয়ীতাকে মারতে তেড়ে যান। জয়ীতা দৌড়ে নিজেকে সরিয়ে নেন। এ সময় আমিও ছবি তুলতে এগিয়ে যাই। তখন আনসার সদস্যরা আমাকে মারধর করেন। ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ফিল্টার ভেঙে ফেলেন। আনসার সদস্যরা সাংবাদিকদের গালাগাল করতে থাকেন এবং বেঁধে রাখার হুমকি দেন। একপর্যায়ে তাঁরা বলেন, এখানে আমাদের রংবাজি চলবে, সাংবাদিকদের কোনো কাজ এখানে চলবে না। পরে কোনোমতে ক্যামেরা উদ্ধার করতে সমর্থ হই।’

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা