kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

করোনায় পরিবার পেল বন্দি শিশুরা

৫০ দিনে ৫৮৯ শিশুর জামিন এখনো ঘরে ফিরছে অনেকে

এম বদি-উজ-জামান   

৪ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




করোনায় পরিবার পেল বন্দি শিশুরা

মাদক মামলার আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হয় ১০ বছরের রোহিঙ্গা শিশুটি। ঠাঁই হয় টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে। বছরখানেক পর সম্প্রতি জামিন পায় সে। পরে তাকে কক্সবাজারে পরিবারের হাতে তুলে দেয় সমাজসেবা অধিদপ্তর।

এ শিশুটিই শুধু নয়, তার মতো ৫৮৯টি শিশু গত ১২ মে থেকে ২ জুলাই দেশের বিভিন্ন শিশু আদালত থেকে জামিন পেয়েছে। এর মধ্যে ৫৩টি মেয়েশিশু রয়েছে। তারা গাজীপুরের টঙ্গী, কোনাবাড়ী ও যশোরের পুলেরহাটের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ছিল। এই তথ্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের।

করোনাকালে জামিন পাওয়া এসব শিশুর মধ্যে ৫৮৩টিকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে মুক্তি দিয়ে নিজ নিজ অভিভাবকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ২৬ জনের অভিভাবক উন্নয়ন কেন্দ্রে না আসায় তাদের ইউনিসেফের সহযোগিতায় নিজেদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

তবে বন্দিদশা থেকে এই শিশুদের মুক্তি পাওয়ার পেছনে তাদের অভিভাবকদের ভূমিকা নেই। আপিল বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের শিশুবিষয়ক বিশেষ কমিটির নির্দেশনা এবং শিশু আদালত ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের সমন্বয়ে তাদের জামিনে মুক্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করার চিন্তা থেকেই এসব শিশুকে মুক্তির পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের বিশেষ নির্দেশনায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর নেতৃত্বাধীন শিশুবিষয়ক কমিটি শিশুদের জামিনের পদক্ষেপ নিয়েছে। এরই মধ্যে যেসব শিশু জামিন পেয়েছে, তাদের বিষয়ে সময়ে সময়ে প্রধান বিচারপতিকে অবহিত করা হয়েছে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রতিষ্ঠান-২) এম এম মাহমুদুল্লাহ জানান, করোনাভাইরাসের কারণে দেশে ২৬ মার্চ থেকে সারা দেশে নিয়মিত আদালত বন্ধ হয়ে যায়। তবে ভার্চুয়াল আদালত চালু হয় ১১ মে। এর পরদিন ১২ মে থেকে শিশুদের জামিন দেওয়া শুরু হয়।

ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিশুর সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ শাবনাজ জাহেরীন কালের কণ্ঠকে বলেন, ৬০০ শিশুর ধারণক্ষমতা রয়েছে এ তিনটি কেন্দ্রের। তবে করোনা সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে নিয়মিত আদালত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিশুদের জামিন স্থগিত হয়ে যায়। ফলে ১০-১২ দিনের মধ্যে কেন্দ্রে শিশুর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যায়। এ অবস্থায় কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিশু রাখা কঠিন হয়ে ওঠে। এ প্রেক্ষাপটে ইউনিসেফ শিশুদের জামিনের জন্য পদক্ষেপ নেয় বলে জানান তিনি। শাবনাজ জাহেরীন জানান, শিশুদের জামিন দেওয়ার বিষয়টি চলমান রয়েছে।

বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় আটক শিশুদের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখা হয়, যা আসলে সংশোধনাগার। কোমলমতি শিশুরা কারাগারে বড়দের সঙ্গে মিশে পেশাদার অপরাধী হয়ে না ওঠে, সে জন্য এই ব্যবস্থা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা