kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭। ১১ আগস্ট ২০২০ । ২০ জিলহজ ১৪৪১

করোনাকালেও রেমিট্যান্স ও রিজার্ভে রেকর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাকালেও রেমিট্যান্স ও রিজার্ভে রেকর্ড

করোনাভাইরাস মহামারির চলমান সংকটের মধ্যেই আবার সুখবর দিল প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। একক মাস ও এক অর্থবছরে রেমিট্যান্সে যেমন রেকর্ড হয়েছে, তেমনি এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবার নতুন মাইলফলক অতিক্রম করল রিজার্ভ। এবার রিজার্ভ ছাড়িয়েছে ৩৬ বিলিয়ন বা তিন হাজার ৬০০ কোটি ডলারের মাইলফলক। আর একক মাস জুনে রেকর্ড ১৮৩ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এটি গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৩৯ শতাংশ এবং আগের মাসের চেয়ে প্রায় ২২ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশের ইতিহাসে একক মাসে এর আগে কখনো এই পরিমাণ রেমিট্যান্স আসেনি। সব মিলে সদ্য শেষ হওয়া ২০১৯-২০ অর্থবছরে এক হাজার ৮২০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে, যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ বেশি। এক অর্থবছরে এটিও বাংলাদেশের  ইতিহাসে এযাবতকালের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘২ শতাংশ নগদ প্রণোদনাসহ সরকারের নানা পদক্ষেপের কারণে বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দাতা সংস্থা থেকে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান হিসেবেও বেশ কিছু বৈদেশিক মুদ্রা পেয়েছে বাংলাদেশ। এতে রিজার্ভ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

গত বছরের ১ জুলাই থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠালে ২ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। জানা যায়, প্রণোদনা দেওয়ার ফলে ২০১৯-২০ অর্থবছরের শুরু থেকে প্রতি মাসে রেমিট্যান্স বাড়তে থাকে। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে  যায়। তবে চীনের উহান থেকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া মহামারি করোনার প্রভাবে ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিলে রেমিট্যান্সের গতি নিম্নমুখী ছিল। তবে ঈদের মাস মে থেকে আবার ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফেরে রেমিট্যান্স।’ 

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে রেমিট্যান্স আসে ১৪৫ কোটি ২২ লাখ ডলার। মার্চে তা কমে দাঁড়ায় ১২৭ কোটি ৬২ লাখ ডলার। আর এপ্রিলে আরো কমে ১০৯ কোটি ২৬ লাখ ডলারে দাঁড়ায়। সব মিলে এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়ায় ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ। এতে অর্থবছর শেষে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি ব্যাপকহারে কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছিল। তবে ঈদের মাস মে থেকে রেমিট্যান্সে আশানুরূপ গতি ফেরায় অর্থবছর শেষে প্রায় ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রেকর্ড ১৮৩ কোটি ২০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। সেখানে আগের অর্থবছরের জুন মাসে এসেছিল ১৩৭ কোটি ডলার। আর গত মে মাসে রেমিট্যান্স আসে ১৫০ কোটি ৩৪ লাখ ডলার। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা