kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭। ৭ আগস্ট  ২০২০। ১৬ জিলহজ ১৪৪১

এই লঞ্চচাপা দুর্ঘটনা নয় হত্যাকাণ্ড

মোশতাক আহমদ   

২ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এই লঞ্চচাপা দুর্ঘটনা নয় হত্যাকাণ্ড

‘সদরঘাটে লঞ্চচাপা দেওয়ার ঘটনাটি দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি হত্যাকাণ্ড। বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ দেখে সেটাই বোঝা যায়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করব।’ গতকাল বুধবার কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এ কথা বলেন।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নৌপরিবহন সেক্টরে আমরা অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। কিন্তু বুড়িগঙ্গায় লঞ্চচাপা দেওয়ার মতো ঘটনাগুলো আমাদের সব অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে দেয়। পিনাক দুর্ঘটনার পর এত বড় দুর্ঘটনা আর ঘটেনি।’

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও বিভিন্ন সহায়তার কারণেই রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদীগুলো অবৈধ দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে জানিয়ে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী আরো বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে থাকা ঢাকার নদীগুলো উদ্ধার করার কাজটি অনেক কঠিন ছিল। তবে এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা এবং তাঁর সহায়তার কারণে আমরা কাজটি করতে সক্ষম হয়েছি।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের রূপকল্প বা ভিশন হচ্ছে বিশ্বমানের বন্দর, মেরিটাইম ও নৌপরিবহন ব্যবস্থাপনা। আর অভিলক্ষ্য বা মিশন হচ্ছে সমুদ্র, নৌ ও স্থল বন্দরগুলোর আধুনিকায়ন, নৌপথের নাব্যতা সংরক্ষণ, মেরিটাইম সেক্টরে দক্ষ জনবল সৃষ্টি, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ যাত্রী ও পণ্য পরিবহন এবং বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়তাকরণ।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে দেশের নৌপথগুলো আরো উন্নত করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প চলছে। এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে। ব্যাবসায়িক ক্যাম্পাস তৈরি হবে। মানুষ এখন নদী নিয়ে ভাবছে। এ জন্য আমরা নদী থেকে পুরনো জাহাজগুলো উঠিয়ে অত্যাধুনিক নতুন নতুন জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিচ্ছি।’

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের নদী ও সমুদ্র বন্দরগুলোর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে কাজ করছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দরগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে দক্ষতা ও সেবার মান বৃদ্ধির কাজ চলছে। অভ্যন্তরীণ নৌপথের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং নৌপরিবহন ব্যবস্থার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাটে ১৩ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে দুটি উদ্ধারকারী জাহাজ কিনেছি। প্রয়োজনে আরো কেনা হবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নৌ দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট বিশেষ কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক মনিটরিং ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। নৌযানসংশ্লিষ্ট লোকবলকে ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা হবে। এ জন্য ১১টি ইনস্টিটিউট খোলা হচ্ছে। আগে লঞ্চ-স্টিমারসহ জলযান পরিচালনায় সংশ্লিষ্টদের ট্রেনিং সার্টিফিকেট বাণিজ্য হতো। সেটি বন্ধ করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এরই মধ্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আলোচিত ও প্রশংসিত হয়েছে। চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ১০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ খনন ও সেগুলো সংরক্ষণের লক্ষ্যে কাজ হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে, এর কর্মপরিধি আরো বৃদ্ধি পাবে। শুধু দেশে নয়, বিভিন্ন বন্দরে যোগাযোগের মাধ্যমে বিদেশেও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম বিস্তৃত রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা