kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

সাক্ষাৎকার

ওয়াসাকে টিকিয়ে রাখতেই পানির মূল্যবৃদ্ধি

মোশতাক আহমদ   

১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ওয়াসাকে টিকিয়ে রাখতেই পানির মূল্যবৃদ্ধি

ওয়াসাকে টিকিয়ে রাখতেই পানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে যে হারে দাম বাড়ানো হচ্ছে তাতে আবাসিক গ্রাহক পর্যায়ে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না। এ ছাড়া বর্তমানে পানি সরবরাহে যে ব্যয় হয় তার চেয়ে অনেক কম দাম নেয় ওয়াসা।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম গত সোমবার কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘ওয়াসার পানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বিষয়টি নিয়ে আদালতে যাওয়া উচিত হয়নি। কারণ এর সঙ্গে জনস্বার্থ জড়িত। এভাবে সব ইস্যুতে আদালতে গেলে আমাদের কাজ করা কঠিন হবে।’ মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, বৈশ্বিক করোনা মহামারির মধ্যেও ঢাকা ওয়াসাসহ পানি সরবরাহকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান সারা দেশে ২৪ ঘণ্টা পানি সরবরাহ করছে। দেশে করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই সবাইকে ঘন ঘন হাত ধোয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এতে করে বাসাবাড়ি, শিল্প-কলকারখানাসহ বিভিন্ন জায়গায় পানির ব্যবহার কয়েক গুণ বেড়েছে। আর ব্যবহার বাড়ায় প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ করা ঢাকা ওয়াসাসহ পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে তা যথেষ্ট দক্ষতার সঙ্গেই তারা মোকাবেলা করছে।

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে রাজধানীর পাশাপাশি বিভাগীয় ও জেলা শহরের রাস্তায় জীবাণুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশের ৯৮ শতাংশের বেশি মানুষ সুপেয় পানির আওতায় এসেছে। এক দশক আগেও তা ৬০ শতাংশের কম ছিল। এটা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়।’

মন্ত্রী বলেন, দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে এর বিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, কৃষি ও সামাজিক দিক বিবেচনাসহ খেটে খাওয়া মানুষের কথা চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন।

জানা গেছে, ২০০৯ সালে ঢাকায় আবাসিক গ্রাহকদের জন্য প্রতি এক হাজার লিটার পানির দাম ছিল পাঁচ টাকা ৭৫ পয়সা। সম্প্রতি ধার্য দাম অনুযায়ী সেটি দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ৪৬ পয়সা। অবশ্য ওয়াসা ২০ টাকা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল।

পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন আইন-১৯৯৬ অনুযায়ী, প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ হারে পানির দাম বাড়াতে পারবে ওয়াসা বোর্ড। তবে মুদ্রাস্ফীতিজনিত অথবা অন্য কোনো যুক্তিসংগত কারণে এর বেশি বাড়ানোর প্রয়োজন হলে সরকার লিখিত আদেশের মাধ্যমে দাম বাড়ানোর ক্ষমতা প্রদান করতে পারবে—আইনে এমনটাও বলা আছে।

এই ক্ষমতাবলে ২০০৯ সাল থেকে প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে পানির দাম বাড়িয়ে আসছে ঢাকা ওয়াসা। এর মধ্যে ২০১৬ সালে দুবার দাম বাড়ানো হয়। আর সর্বশেষ চলতি বছরে ৮০ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল ওয়াসা। পরে তা ২৫ শতাংশ করার অভিমত দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ওয়াসার পানির এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা