kalerkantho

শুক্রবার। ২৬ আষাঢ় ১৪২৭। ১০ জুলাই ২০২০। ১৮ জিলকদ ১৪৪১

৬ বছর পর ফের লঞ্চ দুর্ঘটনা

উদ্ধারকাজে দৈন্য কাটছে না!

তৌফিক মারুফ   

৩০ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উদ্ধারকাজে দৈন্য কাটছে না!

প্রায় ছয় বছর পর দেশের নৌপথে ঘটল আবার বড় ধরনের দুর্ঘটনা। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৪ আগস্ট সকালে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ঘাটের কাছে মাঝ পদ্মায় ডুবে গিয়েছিল পিনাক-৬ যাত্রীবাহী লঞ্চ। সেই ঘটনায় মৃত্যু হয় ৪৮ জনের। সেই লঞ্চটির মতোই গতকাল ঢাকার বুড়িগঙ্গায় ডুবে যাওয়া ‘মর্নিং বার্ড’ নামের লঞ্চটি ছিল এমএল ক্যাটাগরির। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

গতকাল সকাল ৯টায় দুর্ঘটনা ঘটলেও বুড়িগঙ্গা থেকে রাত পর্যন্ত উদ্ধার করা যায়নি ‘মর্নিং বার্ড’। ২০১৪-র সেই পিনাকও উদ্ধার হয়নি আজও। এর আগেও দেশের বিভিন্ন নৌপথে ডুবে যাওয়া বেশ কয়েকটি যাত্রীবাহী লঞ্চ রয়ে গেছে নদীর গভীরেই। উদ্ধারকাজ পরিচালনায় ২০১৩ সালে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি-সংবলিত দুটি উদ্ধার জাহাজ সংগ্রহ করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এর আগে হামজা ও রুস্তমের সক্ষমতা কম থাকায় নতুন উদ্ধারযান দুটির ব্যবস্থা করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত ওই দুটিকে কোনো বড় ধরনের উদ্ধারকাজে লাগানো যায়নি। গতকালের দুর্ঘটনার পরও কাজে লাগানো যায়নি এগুলো।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল দুর্ঘটনার খবর পেয়েও নারায়ণগঞ্জ থেকে সময়মতো রওনা দিতে পারেনি উদ্ধারকারী জাহাজ। কয়েক ঘণ্টা পর রওনা দিয়ে ঢাকার কাছে এসে আটকে যায় বুড়িগঙ্গা সেতুতে। উচ্চতার কারণে সেতু পার করে ঘটনাস্থলে নেওয়া যায়নি। বরং চেষ্টা করতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেতু ও জাহাজ দুটিই।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় ঘটনাস্থল পর্যন্ত আসতে পারেনি সেতুর কারণে। ধাক্কায় সেতু ও জাহাজ দুটিই কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে শুনেছি।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মেঘনার বুকে ১৯৯৫ সালে যাত্রীসহ ডুবে যায় দিনার নামের একটি লঞ্চ। ২০০২ সালে ওই মেঘনায়ই ডুবে যায় যাত্রীবোঝাই লঞ্চ এমভি নাসরিন খান-১। এতে তিন শতাধিক যাত্রী মারা যায়। কয়েক দিন ধরে টানা অনুসন্ধান চালানোর পরও লঞ্চটির কোনো হদিস মেলেনি। পরে লঞ্চ দুটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে উদ্ধার তৎপরতায় ক্ষান্ত দেয় কর্তৃপক্ষ। ২০০৫ সালে আরিচায় যমুনা নদীতে যাত্রী নিয়ে ডুবে যায় এমএল রায়পুরা। মারা যায় শতাধিক যাত্রী। এ লঞ্চেরও কোনো খোঁজ না পেয়ে শেষে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে উদ্ধার কার্যক্রম শেষ করা হয়। নৌযান উদ্ধার বিশেষজ্ঞরা এ জন্য পরিকল্পনা ও দূরদর্শিতার অভাবকে দায়ী করছেন।

বিআইডাব্লিউটিএর একাধিক কর্মকর্তা বলেন, অন্য ঘটনাগুলোতে নদীর গভীরতা ও স্রোত বড় বাধা হয়েছিল। কিন্তু একেবারেই কর্তৃপক্ষের নাকের ডগায় ঘটে যাওয়া গতকালের দুর্ঘটনায় নৌযানটি উদ্ধারে দীর্ঘ সময় পার করা খুবই দুঃখজনক। যদি এমনই হবে তাহলে কেন শত শত কোটি টাকা খরচ করে এত উদ্ধারযান সংগ্রহ করা হলো। পরিকল্পনায় গলদ ছিল বলেই মনে হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা