kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

দুর্নীতির প্রমাণ পেলেই ত্বরিত ব্যবস্থা

২৮ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



দুর্নীতির প্রমাণ পেলেই ত্বরিত ব্যবস্থা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে গত ১৭ মে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন শেখ ফজলে নূর তাপস। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই নানা অভিযোগে অভিযুক্ত বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে তিনি বরখাস্ত করেছেন। নগর ভবনে সুশাসন ফিরিয়ে আনতে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পেলে তৎক্ষণাত্ ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র। সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে মেয়র তাপস আরো অনেক বিষয়ে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন কালের কণ্ঠ’র নিজস্ব প্রতিবেদক শাখাওয়াত হোসাইন    

 

কালের কণ্ঠ : কালের কণ্ঠ’র পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি।

মেয়র : কালের কণ্ঠকে ধন্যবাদ।

 

কালের কণ্ঠ : সংসদে নীতি প্রণয়নের কাজ করেছেন, পেশাগত জীবনে সুবিচার প্রাপ্তিতে লড়েছেন আদালতে। এখন নগরবাসীর দায়িত্বভার কাঁধে তুলে নিয়েছেন। কেমন উপভোগ করছেন?

মেয়র : আপনি যথার্থই বলেছেন যে একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্যের কাজটা এক ধরনের, আর নির্বাচিত মেয়র হিসেবে কাজটা ভিন্ন রকমের। কারণ সংসদ সদস্য হিসেবে আমরা আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণী কাজটা করে থাকি। জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে এলাকার উন্নয়ন নিয়েও কাজ করেছি। সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে এখন প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছি। এখানে প্রশাসনিক কাজ বেশি। জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততাও এখানে অনেক বেশি। এখন পর্যন্ত আরোপিত দায়িত্ব ভালোভাবেই উপভোগ করছি। 

 

কালের কণ্ঠ : মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কোন কোন বিষয় চ্যালেঞ্জিং মনে হচ্ছে?

মেয়র : দায়িত্বভার গ্রহণের পর নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী কর্মপরিকল্পনা ঢেলে সাজাচ্ছি। সিটি করপোরেশনের যে কাজগুলো রয়েছে সেগুলোর একেবারেই ভঙ্গুর অবস্থা। বলতে পারেন, শূন্য থেকেই সব শুরু করতে হচ্ছে। আমার মনে পড়ে যায়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে যেভাবে শূন্য থেকে শুরু করেছিলেন দেশ গঠনের কাজ; একই সঙ্গে ২০০৮ সালের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যর্থ একটি রাষ্ট্র থেকে যেভাবে বাংলাদেশকে এই পর্যায়ে টেনে নিয়ে এসেছেন, ঠিক এমন একটি অবস্থায় দক্ষিণ সিটি করপোরেশন রয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

 

কালের কণ্ঠ : গত বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে অনেক মানুষ মৃত্যুবরণ করেছিল ঢাকায়। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে ‘ইন্টিগ্রেটেড ভেক্টর ম্যানেজমেন্ট’ কর্মসূচি হাতে নেওয়ার ঘোষণা এসেছিল দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে। কিন্তু বাস্তবে এর ফল নগরবাসী দেখতে পায়নি। মশক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

মেয়র : নতুন কর্মপরিকল্পনা নিয়ে গত ৭ জুন থেকে আমরা কাজ শুরু করেছি। এরই মধ্যে ঢাকাবাসী সেই সুফল পাওয়া শুরু করেছে বলে আমার মনে হয়। আগে ওষুধ ছিল খুব নিম্নমানের। এবারের ওষুধের মান অত্যন্ত ভালো। আগে সকাল ৮টার সময় মাত্র এক ঘণ্টা লার্ভিসাইডিং করা হতো। সেটা সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। দক্ষিণ সিটির ৭৫টি ওয়ার্ডে আটজন করে চার ঘণ্টা লার্ভিসাইড প্রয়োগ করছেন। এ ছাড়া উড়ন্ত মশা নিয়ন্ত্রণে সন্ধ্যার দিকে মাত্র এক ঘণ্টার ফগিং করা হতো আগে। এতে মশা মরত না, বরং উড়ে অন্যত্র চলে যেত। এখন দুপুর আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত ফগিং করছি।

 

কালের কণ্ঠ : মশা নিয়ন্ত্রণে জলাশয়ে মাছ ও হাঁস চাষ শুরু করেছেন। এই প্রক্রিয়া নিয়ে কতটুকু আশাবাদী আপনি?

মেয়র : সমন্বিত মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জলাশয়গুলোতে তেলাপিয়া মাছ ও হাঁস ছাড়া হয়েছে। এরা মশার লার্ভা খেয়ে ফেলবে। এভাবে বিভিন্ন সময়ে নতুন মাছ ছাড়ার পাশাপাশি জাল দিয়ে পানির লার্ভা পরিষ্কার করা হবে। নতুন লোকবল নিয়োগ করা হয়েছে। মশককর্মী, সুপারভাইজর ও কর্মকর্তা মিলিয়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে কমপক্ষে ২০ জন করে কর্মী কাজ করছেন। আমি আশা করি, মশা নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা সফল হব।

 

কালের কণ্ঠ : নির্বাচনী ইশতেহারে সুশাসনের বিষয়টি জোরালোভাবে এসেছিল। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন বিতর্কিত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আপনি ব্যবস্থাও নিয়েছেন। নগর ভবনে সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য আপনার আর কী পরিকল্পনা রয়েছে?

মেয়র : দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই সংশ্লিষ্ট সবাইকে সুশাসনের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। আমি পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দুর্নীতি, অবহেলা ও গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। দীর্ঘদিন ধরে যাদের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ ও প্রমাণ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে আমি ব্যবস্থা নিয়েছি। এখানে যখন যার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যাবে প্রমাণ সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই সিটি করপোরেশনকে একটি মর্যাদাশীল ও সম্মানজনক স্থানে নেওয়ার জন্য ব্যাপক প্রশাসনিক সংস্কার অপরিহার্য। আমি সেদিকেও দৃষ্টি দিয়েছি।

 

কালের কণ্ঠ : ম্যাচিং ফান্ড সংকটের বিষয়টি সংবাদপত্রে বারবার উঠে এসেছে। এই তহবিল সংকট নিরসনে আপনার প্রচেষ্টা কতটুকু? আর এই বাজেটে নগরবাসীর জন্য কোনো সুখবর থাকছে কি?

মেয়র : একসময় এই সংস্থার বাজেট গতানুগতিক ধারায় জুলাইয়ের পর প্রণয়ন হতো। কিন্তু আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করে দিয়েছি। জুনের মধ্যে না হলেও জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে বাজেট প্রকাশ করার চিন্তাভাবনা রয়েছে। সরকারের কাছ থেকে বরাদ্দ নেওয়ার পর আমাদের যে নিজস্ব অর্থ তা সঠিকভাবে দেওয়া হয়নি। ফলে ম্যাচিং ফান্ডের একটি বড় ঘাটতি রয়েছে। এবার যে বাজেট করছি তাতে প্রতিটি খাতকে সুনির্দিষ্টভাবে আনার চেষ্টা করেছি। আমি আশাবাদী যে আগামী বছর এই ম্যাচিং ফান্ডের ঘাটতিটা থাকবে না।

 

কালের কণ্ঠ : করোনা সংকট মোকাবেলায় আপনার পরিকল্পনার কথা যদি বলতেন...

মেয়র : সরকারের পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনও করোনা মহামারি ঠেকাতে চেষ্টা করছে। মহানগর জেনারেল হাসপাতালকে আমরা করোনা হাসপাতালে রূপান্তর করেছি। সুনির্দিষ্ট এলাকা ধরে লকডাউনের বিষয়ে চিন্তা করেছি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। একটি কমিটিও করা হয়েছে, যার সদস্যসচিব হিসেবে প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ আহমেদ রয়েছেন।

 

কালের কণ্ঠ : ব্যস্ততার মধ্যে কালের কণ্ঠকে সময় দেওয়ার জন্য আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

মেয়র : কালের কণ্ঠ পরিবারের সব সদস্য ও পাঠকদের ধন্যবাদ জানাই।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা