kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

পরিস্থিতির উন্নতি হলেই শ্রমিকরা মধ্যপ্রাচ্যে ফিরতে পারবেন

তৈমুর ফারুক তুষার   

২৫ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পরিস্থিতির উন্নতি হলেই শ্রমিকরা মধ্যপ্রাচ্যে ফিরতে পারবেন

বাংলাদেশের শ্রমিকরা তাঁদের ঘাম ঝরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো গড়ে তুলেছেন। ওই দেশগুলোও সেটা উপলব্ধি করে। এই মন্তব্য করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহিরয়ার আলম জানিয়েছেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে যে শ্রমিকরা ফিরে আসছেন, পরিস্থিতির একটু উন্নতি হলেই তাঁরা আবার সেখানে ফেরত যেতে পারবেন। গতকাল বুধবার কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকার তিনি এসব কথা বলেন।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে শ্রমিকদের ফিরে আসার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শাহিরয়ার আলম বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতির মূল তিন ভিত্তির একটি হলো প্রবাসী ভাই-বোনদের পাঠানো রেমিট্যান্স। করোনার কারণে আমাদের এই রেমিট্যান্স প্রবাহে ঋণাত্মক প্রভাব পড়বে এতে সন্দেহ নেই। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের যে দেশগুলোতে আমাদের ভাই-বোনেরা কাজ করেন সেখানকার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো তেল। কিন্তু সেখানে তেলের দাম একেবারেই কমে গেছে। তাদের সঙ্গে আমাদের প্রতিনিয়ত যোগাযোগ ও আলাপচারিতা চলছে। আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে গেছে।’

শাহরিয়ার আলম আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের শ্রমিকরা নিজেদের ঘাম ঝরিয়ে মধ্যপ্রাচ্য গড়ে তুলেছেন। আমরা আমাদের কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্য দিয়ে এবং সর্বপোরি আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনেরা তাঁদের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ওই দেশগুলোর মানুষের উপলব্ধির মধ্যেও বিষয়টি পৌঁছে দিয়েছেন। ওমানে প্রতিটি পরিবারে অন্তত দুজন বাংলাদেশি কাজ করে। ইউএই, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত এমনকি যুদ্ধবিধ্বস্ত লিবিয়াতেও আমাদের ভাই-বোনেরা কাজ করছেন। জর্দানে তো গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিগুলো চলেই বাংলাদেশের নারী শ্রমিকদের দিয়ে। এই উপলব্ধির জায়গা থেকে তাঁরা কিন্তু বলছেন না এখন ব্যবসা বন্ধ, শ্রমিকদের ফিরিয়ে নিয়ে যান। আমরা পারস্পরিক আলোচনার মধ্য দিয়ে বিষয়গুলো সুরাহার চেষ্টা করছি। চাকরিচ্যুত হয়েছেন এমন একজন শ্রমিকও কিন্তু এখনো দেশে ফিরে আসেননি। তবে তাঁরা ফিরে আসবেন। সেই ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি। কুয়েত একটা সংখ্যা জানিয়ে আমাদের স্পষ্টভাবে বলেছে, আপনাদের এই শ্রমিকদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যান। আমরা নিয়ে যাওয়ার খরচ দেব। পরিস্থিতি ভালো হলে সবার আগে আবার তাঁদের কুয়েতে ফিরিয়ে আনব।’

শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘তেলের দাম একটু বাড়লে হয়তো ওই শ্রমিকরা কুয়েতে ফিরে যেতে পারবেন। তেলের দাম একটু স্বাভাবিক হলে, অর্থনীতি একটু সচল হলে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের শ্রমিকদের লাগবেই। কারণ ওই দেশগুলোতে জনসংখ্যা এতই কম এবং তাদের সম্পদের তুলনায় মানুষ এতই কম যে বিভিন্ন কাজে বাইরে থেকে শ্রমিক লাগবেই।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যে শ্রমিকরা ফিরে আসবেন আমরা তাঁদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য প্রকল্প গ্রহণ করেছি। বিভিন্ন সময়ে প্রায়ই কথা ওঠে আমাদের দেশ থেকে দক্ষ শ্রমিক বিদেশে পাঠানো হচ্ছে না। ফলে আমরা চাই না যে শ্রমিকরা ফিরে আসবেন তাঁরা বসে থাকুন। আমরা একটি প্রকল্পের মধ্য দিয়ে তাঁদের দক্ষতা বাড়ানোয় গুরুত্ব দিচ্ছি।’

কুয়েতে বাংলাদেশের সংসদ সদস্য পাপুল গ্রেপ্তার হওয়ার প্রসঙ্গে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘এটা দেশের জন্য অস্বস্তিকর। এ ক্ষেত্রে আমি আমার একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা জানাতে চাই। আমাকে দেড়-দুই মাস আগে ফেসবুকে একজন একটি আরবি পত্রিকার কাটিং পাঠিয়েছিলেন। আমি সেটা আমাদের কুয়েতের রাষ্ট্রদূতকে পাঠিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাই। তিনি পোড় খাওয়া, বয়োজ্যেষ্ঠ, ত্যাগী রাজনীতিবিদ, যাঁকে রাজনৈতিক বিবেচনায় রাষ্ট্রদূত করা হয়েছে। তিনি খোঁজ নিয়ে আমাদের জানিয়েছিলেন, এমপি সাহেবের দপ্তর জানিয়েছে কুয়েতের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁর বিরুদ্ধে কিছু পায়নি। তাঁকে ক্লিন সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। একটা ইতিবাচক তথ্য পেয়েছিলাম। এতে আমরা আশ্বস্ত হয়েছিলাম। কিন্তু গত ৮-১০ দিনে যা হলো তাতে আমরা হতবাক।’

করোনা মোকাবেলা প্রসঙ্গে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের সক্ষমতার অভাব নিয়ে এত দিন আলোচনা হয়েছে। কভিড-১৯ ভাইরাস আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত ১৯২টি দেশেরই সক্ষমতার অভাব রয়েছে। আমাদের যা করতে হবে, আমরা জানি এই রোগের কোনো ভ্যাকসিন নেই। সকালে গিয়ে ভর্তি হলে বিকেলে এই রোগ ঠিক করে দেবে—এমন কোনো হাসপাতাল পৃথিবীতে নেই। ফলে আমাদের নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থায় নিজেদের মনোযোগ দিতে হবে।

করোনা মোকাবেলায় সরকারের দূরদর্শিতার কথা তুলে ধরে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘আমাদের নানা সমালোচনা ও চাপ থাকা স্বত্ত্বেও সরকার র্যাপিড টেস্টিংয়ে যায়নি। পিসিআর টেস্টেই থেকেছে। যারা র্যাপিড টেস্টিংয়ে গেছে তাদের প্রতিটি দেশেই কিন্তু মৃত্যুহার অনেক বেশি। র্যাপিড টেস্ট করার ফলে অনেক পজিটিভ রোগীর পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে। এতে করে ওই পজিটিভ রোগী নিজেকে নেগেটিভ মনে করে মানুষের সঙ্গে মিশেছে, আর রোগ ছড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমরা অনেক সমালোচনা ও ধাক্কার পরেও পিসিআর টেস্টে অবিচল থেকেছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা