kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

সাক্ষাৎকার

প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণে নিয়মিত গ্রাহক অগ্রাধিকার পাবেন

জিয়াদুল ইসলাম   

২৪ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণে নিয়মিত গ্রাহক অগ্রাধিকার পাবেন

জনতা ব্যাংক জনগণের ব্যাংক। এটির নামকরণ করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে জনতা ব্যাংক নানা কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। কোনো ধরনের ফি ও চার্জ ছাড়াই সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ করছে। শুধু দেশে নয়, দেশের বাইরেও কার্যপরিধি বিস্তৃত করেছে জনতা ব্যাংক। গ্রাহকদের রিয়েলটাইম ব্যাংকিং সেবা দিতে সব শাখা অনলাইনের আওতায় আনা হয়েছে।

কালের কণ্ঠ’কে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবদুছ ছালাম আজাদ। ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ হ্রাসে একগুচ্ছ পরিকল্পনা তুলে ধরে এই অভিজ্ঞ ব্যাংকার জানান, যেসব শাখায় ১০ কোটি বা তদূর্ধ্ব অঙ্কের খেলাপি ঋণ রয়েছে, সেগুলোতে গ্রাহকওয়ারি খেলাপি ঋণ আদায়ে রিলেশনশিপ ম্যানেজার নিযুক্ত করা হবে। করোনাভাইরাসের ক্ষতি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় সব নিয়মিত গ্রাহককে ঋণ প্রদানে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

আবদুছ ছালাম আজাদ বলেন, ব্যবসার বিভিন্ন সূচকে জনতা ব্যাংকের অগ্রগতি সন্তোষজনক। তবে মহামারি করোনার কারণে মার্চ থেকে মে পর্যন্ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত হওয়ার কারণে মানুষের মধ্যে সঞ্চয় প্রবণতা কমেছে। এর প্রভাব জনতা ব্যাংকের ওপরও পড়েছে। ঋণ বিতরণেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, গত মার্চ পর্যন্ত জনতা ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ ছিল ৬৭ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। মে শেষে তা বেড়ে হয়েছে ৬৮ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা। অন্যদিকে গত মার্চ পর্যন্ত ঋণের পরিমাণ ছিল ৫৭ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা। মে মাস শেষে তা সামান্য বেড়ে হয়েছে ৫৭ হাজার ৪০৬ কোটি টাকা। তাঁর মতে, করোনার পাশাপাশি বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকে রক্ষিত আমানত সরকারি কোষাগারে চলে যাওয়ায়ও ব্যাংকের আমানত হ্রাস পাচ্ছে।

বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি বাড়ছে না কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুছ ছালাম আজাদ বলেন, তারল্য ঘাটতির জন্য ব্যাংকগুলো বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে ঋণ বাড়াতে পারছে না। তবে সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে জনতা ব্যাংকের ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) সবচেয়ে বেশি।

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের ঋণ দেওয়ার ব্যাপারে জনতা ব্যাংকের পদক্ষেপ ও প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে এমডি বলেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। গ্রাহকদের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী এবং করোনা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ের ব্যাবসায়িক টার্নওভার বিবেচনায় এনে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে প্যাকেজের আওতায় অর্থায়নের জন্য সার্কুলার ইস্যু এবং তা বাস্তবায়নের জন্য সব বিভাগীয় কার্যালয়ে মহাব্যবস্থাপকদের মাধ্যমে শাখাগুলোকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান ও তদারকি করা হচ্ছে।

খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে আবদুছ ছালাম আজাদ বলেন, বছরভিত্তিক অ্যাকশন প্ল্যান করা হয়েছে। বৃহৎ ঋণগ্রহীতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে ঋণ আদায় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। শীর্ষ ২০ খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য টাস্কফোর্স কমিটি করা হয়েছে। সব বিভাগীয় কার্যালয়, এরিয়া অফিস ও শাখা পর্যায়ে খেলাপিদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে ঋণ আদায় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। যেসব শাখায় ১০ কোটি বা তদূর্ধ্ব অঙ্কের খেলাপি ঋণ রয়েছে, সেগুলোতে ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে রিলেশনশিপ ম্যানেজার নিযুক্ত করা হবে এবং ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে তা মনিটরং করা হবে। ঋণগ্রহীতাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আইনজীবীদের সঙ্গে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ফলোআপ মিটিং করা হচ্ছে।

গত ১ এপ্রিল থেকে সব ধরনের ঋণে ৯ শতাংশ সুদ কার্যকর হয়েছে। করোনার সংকট পরিস্থিতিতে এটা বাস্তবায়নে কোনো সমস্যা বা চ্যালেঞ্জ দেখছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে এমডি বলেন, ‘জনতা ব্যাংক ২০১৯ সালের জুলাই থেকেই ৯ শতাংশ সুদ কার্যকর করেছে। ফলে করোনা পরিস্থিতিতে ঋণের সুদ হার ৯ শতাংশ বাস্তবায়নে আমাদের কোনো সমস্যা হবে না। বরং এই সময়ে ব্যবসায়ীদের কম সুদের ঋণ প্রয়োজন। আমরা সেই চেষ্টা করছি।’

জনতা ব্যাংক অনলাইন সেবায় কতটা এগিয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে জনতা ব্যাংকের শাখা রয়েছে ৯১১টি। সব শাখা অনলাইন সেবার আওতায় আনা হয়েছে। বাংলাদেশে জনতা ব্যাংকই প্রথম হিসাববিহীন গ্রাহককে ব্যাংকিং সেবা প্রদানে সক্ষম। নিজস্ব জনবল দ্বারা জেবিপিন ক্যাশ নামীয় একটি ওয়েববেশড সফটওয়্যার ডেভেলপ করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা