kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

বিশেষজ্ঞ মত

কঠোর নজরদারি ছাড়া সাফল্য মিলবে না

ড. মুশতাক হোসেন

১৭ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কঠোর নজরদারি ছাড়া সাফল্য মিলবে না

যত দ্রুত স্বাস্থ্যবেষ্টনী বা লকডাউন কার্যকর করা যাবে তত দ্রুত ফল পাওয়া যাবে। এ জন্য চিহ্নিত এলাকাগুলোর স্থানীয় সমাজসেবক ও স্বেচ্ছাসেবীদের যুক্ত করলে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয় বলে আমরা রাজাবাজারে দেখতে পাচ্ছি। এর আগে টোলারবাগেও সেভাবেই কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। লকডাউনের পাশাপাশি পরীক্ষার ক্ষেত্রেও গতি বাড়লে মানুষের মধ্যে স্বস্তি আসবে। বিশেষ করে এখন যেভাবে নমুনা দিয়ে মানুষকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, সেটা যাতে না হয় সে জন্য আরো কিছু পদক্ষেপ সরকারের তরফ থেকে আসছে বলে জানি।

তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুসারে এখন আর ঢালাওভাবে সবাইকে পরীক্ষা করার দরকার হবে না। যাদের মধ্যে উপসর্গ দেখা যাবে তাদের আগে চিকিৎসার আওতায় নিয়ে তারপর পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। উপসর্গ ছাড়া কারো পরীক্ষা জরুরি নয়। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, নানা কারণে বা সন্দেহের বশে অনেকেই অনুরোধ করে পরীক্ষা করাতে উদগ্রীব হচ্ছে, এতে করে সংকট আরো বাড়ছে।

উপসর্গধারীদের মধ্যে পরীক্ষায় যাদের পজিটিভ রেজাল্ট আসবে তাদের মধ্যে বাসায় থাকার মতো পরিস্থিতি বা পরিবেশ নেই—এমন ব্যক্তিদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় আইসোলেশনে নিতে হবে। আবার আইসোলেশনে থাকাদের মধ্যে কারো অবস্থা যদি জটিল হয়ে পড়ে তবে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে প্রতিটি আইসোলেশন সেন্টারে। এমনকি লকডাউনকৃত এলাকায়ও এই বিশেষ ব্যবস্থা রাখতে পারলে ভালো হবে, যেটা রাজাবাজারে করা হচ্ছে।

আরেকটি বিষয়ে সরকারকে নজর দেওয়া দরকার, সেটা হচ্ছে উপসর্গধারীদের তালিকা করা। ঠিক কতজনের উপসর্গ, কতজন পরীক্ষায় নিশ্চিত আক্রান্ত তা বের করতে পারলে নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম সহজ হবে এবং দেশে সংক্রমণ পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে আছে তা বের করা যাবে। পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে সন্দেহজনক বা উপসর্গধারী যারা যাচ্ছে, তাদের সিটি স্ক্যান বা এক্স-রে করে প্রাথমিকভাবে করোনা নিশ্চিত করা গেলে সেটাও পরীক্ষার ওপর চাপ অনেকটাই কমাবে। কারণ সামনে সংক্রমণ যত বাড়বে পরীক্ষার চাহিদাও তত বাড়বে, যা সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে।

পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে আক্রান্তদের চিকিৎসায় পর্যাপ্ত অক্সিজেনের ব্যবস্থা রাখা জরুরি। কোনো রোগী যাতে কোনো হাসপাতাল থেকেই ফিরে না যায়, সে ব্যাপারে জোরালো নজরদারি করতে হবে। এসব বিষয় নজরে রেখে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে অন্যান্য জেলা ও মহানগরীতে যেভাবে লাল, হলুদ বা সবুজ এলাকা ভাগ করা হয়েছে সেগুলোর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সঠিক মাত্রায় বাস্তবায়নে উদ্যোগী হলে সংক্রমণ ঠেকানোর লক্ষ্যপূরণ সাফল্যের মুখ দেখতে পারবে। আর নজরদারি না বাড়ালে কিন্তু সাফল্য পাওয়া কঠিন হবে।

লেখক : উপদেষ্টা, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা