kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

বিশেষজ্ঞ মত

আবাসনের সংকট কাটাতে দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন

আলমগীর শামসুল আলামিন

৯ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আবাসনের সংকট কাটাতে দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন

করোনাভাইরাসে লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আবাসন খাতের সব কর্মকাণ্ড বন্ধ। মুখ থুবড়ে পড়ে আছে এ খাতের অসংখ্য নির্মাণ স্থাপনার কাজ। এই খাতে লাখ লাখ কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়েছে। এখানে শুধু ডেভেলপাররা নয়, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ অসংখ্য ক্রেতার টাকা আছে। আবাসন খাতে সরকার ট্যাক্স, ভ্যাট, রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ প্রচুর রাজস্ব পায়। তাই আবাসন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমাদের পুরো অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আবাসন খাতে লাখ লাখ কোটি টাকার বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে যদি পুরোদমে কাজ শুরু করা না যায়। আবাসন খাত চাঙ্গা করতে আসন্ন বাজেটে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) তিনটি সুপারিশ বাস্তবায়ন করা দরকার। এগুলো হলো, স্বল্প সুদে গ্রাহকদের জন্য আবাসন ঋণের ব্যবস্থা করা, যেটা সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের জন্য রেজিস্ট্রেশন ব্যয় ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা এবং অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য আবাসনে সরকারি কোনো সংস্থার প্রশ্ন ছাড়াই কালো টাকা ব্যবহারের সুযোগ রাখা।

ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের নির্মাণাধীন প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশের আবাসন খাত চরম সংকটে পতিত হয়েছে। এম অবস্থায় আসন্ন ২০২০-২১ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বৈধভাবে উপার্জিত অপ্রদর্শিত অর্থ সরকারের কোনো সংস্থা কর্তৃক প্রশ্ন উত্থাপন ছাড়া আগামী পাঁচ বছর আবাসন খাতে (ফ্ল্যাট, প্লট ও বাণিজ্যিক ভবন) বিনিয়োগের সুযোগ প্রদান করা এবং বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

নামমাত্র রেজিস্ট্রেশন ব্যয় নির্ধারণ করে আবাসন খাতে ‘সেকেন্ডারি বাজার’ ব্যবস্থার প্রচলন করার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করার প্রস্তাব করছি। সাপ্লাইয়ার ভ্যাট ও উৎস কর সংগ্রহের দায়িত্ব থেকে পাঁচ বছরের জন্য ডেভেলপারদের অব্যাহতি প্রদান করা প্রয়োজন। আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪-এর ধারা ৮২সি(৪) এবং ধারা ৫৩এফএফ অনুসারে ডেভেলপার কর্তৃক উল্লিখিত আয়কর ‘চূড়ান্ত কর দায়মুক্তি’ হিসেবে বিবেচনা করা এবং এমনকি ব্যালান্স শিটে মুনাফা প্রদর্শিত হলেও কোনো প্রশ্ন উত্থাপন না করার প্রস্তাব করছি।

আবাসন খাতকে বাঁচাতে হলে নির্মাণ ব্যয় হ্রাস ও আনুষঙ্গিক ব্যয় কমাতে নির্দিষ্ট মূসক হ্রাস করা প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে এ জাতীয় ব্যয় কমানো গেলে স্বল্প মূল্যে ক্রেতাসাধারণকে তাদের সামর্থ্যের মধ্যে আবাসন সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে আবাসন খাত স্থবিরতা থেকে মুক্তি পাবে, বাড়বে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান। এ খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।

লেখক : সভাপতি, রিহ্যাব

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা