kalerkantho

রবিবার । ২১ আষাঢ় ১৪২৭। ৫ জুলাই ২০২০। ১৩ জিলকদ  ১৪৪১

আইসিজির নজরদারিতে মিয়ানমার

সংঘাতের মধ্যে রাখাইনে করোনায় তৃতীয় সংকট

মেহেদী হাসান   

৭ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সংঘাতের মধ্যে রাখাইনে করোনায় তৃতীয় সংকট

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে অর্থবহ কোনো পরিবর্তন হয়নি প্রতিবেশী মিয়ানমারে। বাংলাদেশমুখী রোহিঙ্গাদের স্রোতের সময় ২০১৭ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রত্যাবাসন চুক্তি সই হয়েছে। কিন্তু সেই চুক্তির আওতায় একজন রোহিঙ্গাও ফিরে যায়নি। কবে নাগাদ ফেরা শুরু হবে, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের কোনো ধারণা নেই। এরই মধ্যে রোহিঙ্গাদের বসতভূমি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী আরাকান আর্মির সঙ্গে মিয়ানমার বাহিনীর সংঘাত চলছে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার থেকে উচ্ছেদের পর আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘাতকে দ্বিতীয় সংকট এবং বর্তমানে সেখানে নভেল করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) মহামারিকে তৃতীয় সংকট হিসেবে অভিহিত করেছে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সংকট নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি)।

মিয়ানমারের অবনতিশীল পরিস্থিতিকে আমলে নিয়ে দেশটিকে আইসিজি তাদের নজরদারির তালিকায় স্থান দিয়েছে। একই সঙ্গে আইসিজি ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) তার সহযোগীদের নিয়ে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। জানা গেছে, গত বুধবার আইসিজি তাদের নজরদারি তালিকা প্রকাশ করে। সেখানে ইইউয়ের জন্য ওই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে মূল্যায়নে আইসিজি বলেছে, রাখাইনে যে রোহিঙ্গারা অবশিষ্ট আছে, তাদের জীবনযাত্রার কোনো অগ্রগতি হয়নি। রাখাইনে বিচ্ছিন্নতাবাদ দমনে মিয়ানমার বাহিনীর চলমান অভিযানের ফলে সেখানে রোহিঙ্গা পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনাও ম্লান হয়েছে। সেখানে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাত চলছে।

আইসিজি জানায়, রাখাইনে বেসামরিক লোকজন নিয়মিতভাবেই বিচ্ছিন্নতাবাদী আরাকান আর্মি ও মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর লড়াইয়ের মধ্যে পড়ছে। সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত অন্তত ৬০ হাজার জন্য বর্তমানে অস্থায়ী শিবিরে আছে। অদূর ভবিষ্যতে এই সংঘাত থামার লক্ষণ দেখছে না আইসিজি।

এমন পরিস্থিতিতে নভেল করোনাভাইরাস রাখাইনে তৃতীয় সংকট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। রাখাইন রাজ্যে স্বাস্থ্য অবকাঠামো অত্যন্ত দুর্বল। যে অবকাঠামো আছে তাতে প্রতিনিয়ত সংঘাতে হতাহতদের সামলাতেই বেগ পেতে হচ্ছে।

আইসিজি বলেছে, রাখাইন রাজ্যে গত এপ্রিল মাসে জাতিসংঘের গাড়ির যে চালককে হত্যা করা হয়েছে, তিনি কভিড-১৯-এর নমুনা পরীক্ষার ‘কটন সোয়াব’ পরিবহন করছিলেন। ওই হত্যাকাণ্ড মহামারি মোকাবেলা উদ্যোগে সংঘাতের প্রভাবের প্রতিফলন।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরে করোনা সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার তথ্য তুলে ধরে আইসিজি বলেছে, ঘনবসতিপূর্ণ সেই আশ্রয়শিবিরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা অসম্ভব। স্যানিটেশন ব্যবস্থাও অপ্রতুল। এই পরিস্থিতি করোনা সংক্রমণ বাড়তে ভূমিকা রাখতে পারে।

আইসিজি বলেছে, রোহিঙ্গারা ক্রমেই আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। নিরাপদ ও সম্মানজনকভাবে রাখাইন রাজ্যে ফেরার আশা হারিয়ে ফেলছে তারা।

মন্তব্য