kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

সুস্থতার সংখ্যায় স্বস্তি

বিশ্বে মৃত্যুহার ১১, দেশে ১.৩৪

তৌফিক মারুফ   

৬ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সুস্থতার সংখ্যায় স্বস্তি

দেশে প্রতিদিনই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৩০-৩৫ জনের মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনরা শোকে যেমন ভেঙে পড়ছে, আবার অন্যদের মধ্যেও ভয়- আতঙ্ক বেড়ে গিয়ে অনেকেই ছুটছে পরীক্ষার পেছনে। পরীক্ষায় প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন হাজার নমুনায় মিলছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। ফলে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা মানুষকে আরো কাবু করে ফেলছে। তবে এর বিপরীতে বিশ্বপরিস্থিতির ধারাবাহিকতায় আক্রান্ত-মৃত্যু এবং সুস্থ হওয়ার সূচকে খানিকটা হলেও স্বস্তিদায়ক চিত্র দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে। বিশেষ করে আক্রান্তের সংখ্যা যে হারে বাড়ছে সেই তুলনায় মৃত্যুহার দিনে দিনে কমছে, আবার সুস্থ হওয়ার হার বাড়ছে। অন্ততপক্ষে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার তথ্য পরিসংখ্যান থেকে পাওয়া যাচ্ছে এমন চিত্র। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাক্তার এম এ ফয়েজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা যতটুকু ইতিবাচক অবস্থানে আছি, মানুষ এই তথ্যটি কে কিভাবে নিচ্ছে সেটি একটি বড় ব্যাপার। অনেকেই বিষয়গুলোকে বুঝতে পারে না। কোন তথ্যটি ভালো কিংবা কোন তথ্যটি নিজেদের সুরক্ষার জন্য অতি জরুরি সেটি এখনো আমরা দেশের বেশির ভাগ মানুষের মধ্যে সহজ করে পৌঁছে দিতে পারিনি। ফলে মানুষ যেমন ক্ষেত্রবিশেষ অযথা অতিরিক্ত ভয় পাচ্ছে আবার যেখানে সতর্ক থাকার দরকার সেখানে তারা যাচ্ছেতাইভাবে চলাফেরা করছে। তাই ইতিবাচক তথ্যগুলোকেও আমাদের তুলে ধরতে হবে এক ধরনের সতর্কতামূলক বার্তা হিসেবে। মানুষকে বুঝতে দিতে হবে যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেই সবাই মারা যান না। তবে এটাও বুঝতে দিতে হবে যে সতর্ক না থাকলে যেকোনো সময় যে কারো বিপদ হতে পারে।’

করোনাভাইরাসসংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র নানাভাবেই তথ্য পর্যালোচনা করে থাকে। বিশেষ করে কালের কণ্ঠসহ বাংলাদেশের বেশির ভাগ গণমাধ্যম যে ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে তাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গতকাল শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত সারা বিশ্বে আক্রান্ত ৩৬ লাখ ৬১ হাজার ৮৭ জনের মধ্যে মারা গেছে তিন লাখ ৯৩ হাজার ৫৫৩ জন বা ১১ শতাংশ। আর সুস্থ হয়েছে ৩২ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩৪ জন বা ৮৯ শতাংশ। এ ছাড়া চিকিৎসাধীন থাকা তিন লাখ ৬৩ হাজার ৯ জনের মধ্যে মাত্র ২ শতাংশ (৫৫ হাজার ৪৫৪ জন) আছেন ক্রিটিক্যাল অবস্থায়। বাকি ৯৮ শতাংশ (তিন লাখ সাত হাজার ৫৫১ জন) আছেন মৃদু উপসর্গ নিয়ে। 

রোগ তত্ত্ববিদ ও আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ডাক্তার মোস্তাক হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, সুস্থ হওয়া ও মৃত্যুহারে আমরা এখন যে কিছুটা হলেও স্বস্তিদায়ক অবস্থানে আছি সেটা ধরে রাখাই আমাদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ মানুষ একদিকে যেমন শঙ্কিত হয়, মৃত্যুর খবরে ভয় পায়, অন্যদিকে এই মানুষটাই আবার কোনো স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা করছে না। দলে দলে মানুষ প্রতিদিন স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকেও মানুষের এই প্রবণতা বন্ধ করা যাচ্ছে না। এমন অবস্থা চলতে থাকলে সামনে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।

এমন পরিস্থিতি বিশ্লেষণে নিয়ে বাংলাদেশের তথ্য তুলনা করে দেখা যায় গতকাল পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট করোনা শনাক্তকৃত ৬০ হাজার ৩৯১ জনের মধ্যে মারা গেছে ৮১১ জন বা ১.৩৪ শতাংশ। অন্যদিকে সুস্থ হয়েছে ১২ হাজার ৮০৪ জন বা ২১.২ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১টি দেশ নিয়ে গঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক কাঠামোর ভেতরে থাকা (উত্তর কোরিয়া বাদে) ১০টি দেশের তথ্যে দেখা যায় পার্শ্ববর্তী ভারতে শনাক্তের তুলনায় মৃত্যুহার ২ দশমিক ৭৯, ইন্দোনেশিয়ায় ৫ দশমিক ৯৯, মিয়ানমারে ২ দশমিক ৫৪, থাইল্যান্ড ১ দশমিক ৮৬, বাংলাদেশ ১ দশমিক ৩৪, শ্রীলঙ্কা ০ দশমিক ৬১, নেপাল ও মালদ্বীপ ০.৩৭ শতাংশ। তবে ভুটান ও পূর্ব তিমুর এখন পর্যন্ত কারো মৃত্যু হয়নি। উত্তর কোরিয়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে কোনো তথ্য দেয় না বলে এই পরিসংখ্যানে ওই দেশের কোনো তথ্য নেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাক্তার নাসিমা সুলতানা গতকাল নিয়মিত ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার দেশে এখন পর্যন্ত ২১.২০ শতাংশ ও মৃত্যুহার ১.৩৪ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশের মৃত্যুহার শনাক্তের তুলনায় যে পর্যায়ে আছে তা বৈশ্বিক পরিস্থিতি কিংবা প্রতিবেশী বেশির ভাগ দেশের তুলনায় স্বস্তিদায়ক অবস্থায় আছে। এ ক্ষেত্রে যেহেতু কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বেশি মাত্রায় হয়েছে তাই মৃত্যু হার যত কম থাকবে ততই মঙ্গল। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা দেশে উপসর্গ ছাড়াই ভাইরাস আক্রান্তদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে যেমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আবার বিষয়টিকে স্বস্তিদায়ক বলছেন। কেননা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েও যারা কোনো জটিল পর্যায়ে যাচ্ছেন না তাদের জন্য বিষয়টি এক ধরনের ইতিবাচক বার্তা বয়ে আনছে। দিনে দিনে দেশে এমন আক্রান্তের হার বাড়ছে বলে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা