kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ আষাঢ় ১৪২৭। ৭ জুলাই ২০২০। ১৫ জিলকদ  ১৪৪১

খোলাবাজারে ডলারের দামে লাগাম নেই

আড়াই মাসে দাম বেড়েছে ৫ টাকা আমদানি ও উৎপাদন খরচ বাড়লে প্রভাব পড়বে পণ্যের দামে

জিয়াদুল ইসলাম   

৫ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



খোলাবাজারে ডলারের দামে লাগাম নেই

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে দুই মাসের বেশি সময়ের সাধারণ ছুটি শেষে ব্যবসা-বাণিজ্য সচল হতে না হতেই অস্থিরতা দেখা দিয়েছে ডলারের বাজারে। আন্ত ব্যাংকে মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও খোলাবাজারে অতিমাত্রায় চড়েছে ডলারের দাম। বর্তমানে খোলাবাজারে প্রতি ডলারের দাম উঠেছে ৮৯ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত, আর আন্ত ব্যাংক মার্কেটে বিক্রি হচ্ছে ৮৬ থেকে ৮৭ টাকায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার কারণে রপ্তানিতে ধস নেমেছে। কমে গেছে রেমিট্যান্স। এতে ডলারের সরবরাহ কমে গেছে বাজারে, কিন্তু চাহিদা কমেনি। ফলে দাম বাড়ছে।

সাধারণত ডলারের দাম বেশি হলে রপ্তানিকারক ও রেমিটাররা উৎসাহিত হন। তবে আগ্রহ হারান আমদানিকারকরা। কারণ, ডলারের দাম বাড়লে আমদানি খরচ বেড়ে যায়। তাই দাম নিয়ন্ত্রণে এখনই বাজারে ডলার সরবরাহ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ডলারের দামের কারণে আমদানি ও উৎপাদন খরচ বাড়লে তার প্রভাব পড়বে পণ্যের দামে। এতে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম গতকাল বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ডলারের দাম বৃদ্ধি পেলে পণ্যের ওপর কিছু না কিছু প্রভাব পড়েই। তবে এই মুহূর্তে খুব বেশি প্রভাব পড়বে বলে আমার মনে হয় না। কারণ, সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী দেশে মূল্যস্ফীতি কমেছে। করোনার কারণে এখন মানুষের আয় কমে গেছে। ফলে কমে গেছে চাহিদাও। আর চাহিদা কমলে দাম খুব একটা বাড়ে না।’

তিনি বলেন, ‘তবে এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে এবং উৎপাদনের সাপ্লাই চেইন যদি সচল করা না যায় তবে ভবিষ্যতে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে মূল্যস্ফীতি বাড়বে। তবে এখন খুব বেশি চিন্তার কারণ নেই। তা ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ভালো অবস্থানে আছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক চাইলেই বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়াতে পারে।’

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ডলারের দাম বাড়লে উৎপাদন খরচ ও আমদানীকৃত পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা থাকে। আর এই বাড়তি খরচ আমদানিকারকরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে ভোক্তার কাছ থেকে আদায় করে নেন।’

কয়েক মাস ধরে চলা ডলার সংকট মহামারি করোনার কারণে আরো তীব্র হয়েছে। ফলে প্রতিদিনই দাম বাড়ছে ডলারের। মহামারির আগে আন্ত ব্যাংক মার্কেটে ডলারের বিনিময় মূল্য ছিল ৮৪ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে ৮৫ টাকা। কিন্তু কয়েক দিন ধরে ব্যাংকগুলো ডলারের মূল্য ধরছে ৮৬ টাকা থেকে ৮৭ টাকা। অন্যদিকে খোলাবাজারে করোনার আগে ডলারের বিনিময় মূল্য ছিল ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা। সেটা এখন বেড়ে হয়েছে ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৮৯ টাকা ৮০ পয়সা।

জানতে চাইলে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ব্যাংকের ডলারের উৎস রপ্তানি ও রেমিট্যান্স। মহামারি করোনার কারণে দুটিতেই বিরাট চাপ পড়েছে। যেহেতু রপ্তানি নেই, রেমিট্যান্সও কমে গেছে। তাই বাজারে ডলারের সংকট আছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ভালো অবস্থানে আছে। কিন্তু এর সঙ্গে ব্যাংকের সক্ষমতা এক নয়। বাজার স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার বিক্রি করলেও সেটা চাহিদার তুলনায় কম বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, আন্ত ব্যাংক বাজারে ডলারের সংকট খুব একটা নেই। তবে খোলাবাজারে সংকট থাকতে পারে। এর কারণ খোলাবাজারে ডলার পাওয়ার মূল উৎস বিদেশ থেকে যাত্রীদের সঙ্গে আনা নগদ ডলার। কিন্তু করোনার কারণে বিদেশি কোনো পর্যটক আসছেন না। এ ছাড়া রেমিট্যান্সে নগদ প্রণোদনা দেওয়ার পর থেকে যাত্রীদের সঙ্গে করে ডলার আনার প্রবণতাও কমেছে।

খোলাবাজারের ডলার ব্যবসায়ী মো. ইকবাল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, খোলাবাজারে ডলারের সরবরাহ অনেক কমে গেছে। এর কারণ করোনা পরিস্থিতিতে বিদেশ থেকে যাত্রী আসা বন্ধ রয়েছে। ফলে নগদ ডলার মিলছে কম।

বাজারের চাহিদা মেটাতে প্রায় প্রতিদিন ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। প্রাপ্ত তথ্য মতে, বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে চলতি অর্থবছরের গত ৩১ মে পর্যন্ত ৮৩ কোটি ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা