kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

ফ্লয়েড হত্যা

বর্ণবাদের বিরুদ্ধে একাট্টা বিশ্ব

কারফিউ উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ অব্যাহত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বর্ণবাদের বিরুদ্ধে একাট্টা বিশ্ব

পুলিশের হেফাজতে জর্জ ফ্লয়েড নামে এক কৃষ্ণাঙ্গ নিহত হওয়ার ঘটনায় শুরু হওয়া বর্ণবাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে আরো উত্তাল হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। কারফিউ অমান্য করে দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের শহরে শহরে বিক্ষোভ চলছে। দেশটির গণ্ডি পেরিয়ে এ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি, ফ্রান্সের প্যারিস, জার্মানির বার্লিন, নিউজিল্যান্ড, কানাডা, নেদারল্যান্ডস থেকে শুরু করে লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের শহরগুলোতেও বিক্ষোভ করেছে মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে চীন ও ইরান। এ ছাড়া কানাডা, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন। ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদ জানিয়েছেন পোপ ফ্রান্সিসও।

করোনাভাইরাসের কারণে জারি করা লকডাউনের মধ্যেই গত মঙ্গলবার ফ্রান্সের প্যারিসে বর্ণবাদ ও পুলিশি নির্যাতনবিরোধী মিছিল বের করে কয়েক হাজার মানুষ। হাততালি ও নানা স্লোগান দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে

সংহতি প্রকাশ করে তারা। শান্তিপূর্ণ এ মিছিল প্যারিসের পুলিশ কাছাকাছি স্থান থেকে পর্যবেক্ষণে রাখে। একই দিনে সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল হয় অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে। অন্তত তিন হাজার মানুষ শান্তিপূর্ণ ওই মিছিলে অংশ নেয়। এ ছাড়া নেদারল্যান্ডসের হেগ ও ইসরায়েলের তেলআবিবে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ফ্লয়েড হত্যা ও বর্ণবাদের প্রতিবাদ জানায় কয়েক হাজার মানুষ। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও লেগেছে প্রতিবাদের ঢেউ। সুইডেনের কয়েক হাজার মানুষ মঙ্গলবার এক অনলাইন বিক্ষোভে যোগ দেয়। এ ছাড়া ব্ল্যাকআউটটুইসডে হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে ওই দিন অনলাইন বিক্ষোভে শামিল হয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ। এর আগে গত রবিবার যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ও জার্মানির বার্লিনে মার্কিন দূতাবাসের সামনে জড়ো হয়ে কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভ করে। একই দিনে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ হয় কানাডার টরন্টোতে।

বিশ্বজুড়ে চলমান এ বিক্ষোভে চুপ থাকেননি পোপ ফ্রান্সিসও। ফ্লয়েড হত্যার ঘটনাকে ‘দুঃখজনক’ অভিহিত করে তিনি বলেছেন, বর্ণবাদ কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তবে বিক্ষোভের সময় যেসব সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, সেগুলোও বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, এগুলো নিজেদের জন্যই ধ্বংসাত্মক। একই দিনে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো মাসও বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভে সংহতি জানিয়েছেন। এ আন্দোলনকে ‘অনুধাবনযোগ্য’ ও ‘ন্যায়সংগত’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

এদিকে কারফিউ ভেঙে মঙ্গলবারও যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে বিক্ষোভকারীরা। নিউ ইয়র্ক থেকে শুরু করে লস অ্যাঞ্জেলেসের বিভিন্ন শহরে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেই চলেছে। এ ছাড়া শান্তিপূর্ণ একটি মিছিলে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

জর্জ ফ্লয়েডের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তাঁর নিজের শহর টেক্সাসের হিউস্টনে গত মঙ্গলবার হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়। সেখানে প্রায় ৬০ হাজার মানুষের উদ্দেশে হিউস্টনের মেয়র সিলভেস্টার টার্নার বলেন, ‘আজকের দিনটি জর্জ ফ্লয়েডের পরিবারের জন্য। আমরা তাদের জানাতে চাই, জর্জের মৃত্যু বিফলে যায়নি।’ ফ্লয়েডের ছয় বছর বয়সী মেয়ের মা রক্সি ওয়াশিংটনও এক সংবাদ সম্মেলনে ফ্লয়েড হত্যার ন্যায়বিচারের দাবি জানান। এদিকে কারফিউ শুরুর পরও ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সামনে থেকে বিক্ষোভকারীরা সরেনি। তবে গত সোমবারের তুলনায় সেখানে কম মানুষ জড়ো হয়েছে। সূত্র : বিবিসি, এএফপি, আলজাজিরা, টাইমস অব ইন্ডিয়া।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা