kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

ফখরুল বললেন

এমন সংকটে আ. লীগ আমলের ধনীরা কোথায়

৪ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



এমন সংকটে আ. লীগ আমলের ধনীরা কোথায়

কালের কণ্ঠ : করোনা পরিস্থিতির মধ্যে দেশ কেমন চলছে?

মির্জা ফখরুল : সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশ একটা

হ-য-ব-র-ল অবস্থার মধ্যে পড়ে গেছে। ছুটি ঘোষণা করে শ্রমিকদের ঢাকার বাইরে পাঠানো এবং ঢাকার আশপাশের গার্মেন্টগুলো থেকে ঢাকার বাইরে চলে যাওয়ার পর আবার তাদের ফিরিয়ে আনার মধ্য দিয়ে এই খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। লকডাউন না করে সরকারি ছুটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে করোনা পরিস্থিতিকে আরো ভয়াবহ করে তোলা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির পাশাপাশি করোনায় আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কাও বেড়ে গেছে। মৃত্যু বা আক্রান্ত হওয়ার যে হিসাবগুলো সরকারপক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে তার ওপর আস্থা রাখা যাচ্ছে না। কারণ করোনা পরীক্ষার পর্যাপ্ত কিট সরকারের কাছে ছিল না। তাই যত পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও তত বাড়ছে।

 

কালের কণ্ঠ : আপনারা সরকারে থাকলে এর চেয়ে ভালো বা উত্তম ব্যবস্থা কি নিতে পারতেন?

মির্জা ফখরুল : প্রথম কথা হচ্ছে বিদেশ থেকে যাঁরা ফিরে এসেছেন তাঁদের স্ক্রিনিংটা আরো নিখুঁতভাবে করে কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থায় আমরা তাঁদের রাখতাম। কিন্তু দেখা গেছে, বিদেশ থেকে যাঁরা এসেছেন তাঁদের সঠিকভাবে কোয়ারেন্টিন করা হয়নি। দ্বিতীয়ত, বিশেষজ্ঞ পর্যায় থেকে যখন বারবার পরীক্ষার কথা বলা হলো, অথচ দেখা গেল পরীক্ষার কোনো সক্ষমতাই সরকারের ছিল না। কারণ এর আগে এটি নিয়ে তারা চিন্তাই করেনি। ফলে ধারণার বাইরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। ছুটি ঘোষণার পর কিছু আক্রান্ত লোক যখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে, তাদের মাধ্যমে এটি সারা দেশে ছড়িয়ে যায়। করোনা ছোঁয়াচে রোগ এবং সামাজিক দূরত্বের কথা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে বারবার ঘোষণার পরও সরকার সেভাবে সেটি ফলো করেনি বা মানেনি। এটি সরকারের ব্যর্থতা।

 

কালের কণ্ঠ : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সরকারের অনেক মন্ত্রীর অভিযোগ, করোনা নিয়ে আপনারা রাজনীতি করছেন...

মির্জা ফখরুল : এটি ওবায়দুল কাদের সাহেবদের নিজেদের রক্ষা করার একটি প্রয়াস বলে মনে করি। আমরা রাজনীতি করছি না। সরকারের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরছি মাত্র। এর মধ্যে রাজনীতি থাকলে থাকতে পারে। প্রশ্ন হলো, তাঁরা কী করছেন? তাঁরা যেসব কথা বলছেন সেগুলোর সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তাঁরা রাজনৈতিকভাবে বিষয়গুলো দেখে সেগুলোকে গোপন করার চেষ্টা করছেন। তাঁদের দেওয়া প্রণোদনা প্যাকেজ একটি শুভংকরের ফাঁকি। ৯৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৭৭ হাজার কোটি টাকাই হচ্ছে ব্যাংকঋণ। এটি সরকারের কোষাগার থেকে দেওয়া হচ্ছে না। ৫০ লাখ লোকের মধ্যে যে আড়াই হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, এর মধ্যে অর্ধেকই দলীয়করণ ও চুরি করা হচ্ছে। যে কথা টিআইবি ও সিপিডি এরই মধ্যে বলেছে। ফলে এ কথা বলা যায় যে করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে এবং এটি হয়েছে তাদের অযোগ্যতার কারণে।

 

কালের কণ্ঠ : কিন্তু সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও ত্রাণ নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন...

মির্জা ফখরুল : আপনি লক্ষ করলে দেখবেন, ক্ষমতাসীন দলের তুলনায় এক যুগেরও বেশি ক্ষমতার বাইরে থাকা দল বিএনপি মানুষের পাশে বেশি দাঁড়িয়েছে। তারা গত ১২ বছর বা প্রায় এক যুগ ক্ষমতায় আছে। এই ১২ বছরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ের অন্তত ১২ লাখ ধনী বা তাদের ভাগ্য বদল হয়েছে। আমি বলব, এই ১২ লাখ লোকই জনগণের পাশে দাঁড়ালে গরিব মানুষের আর সমস্যা থাকত না।

 

কালের কণ্ঠ : আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কী ঘটতে পারে?

মির্জা ফখরুল : সংক্রমণ যে হারে বাড়ছে তাতে প্রতিরোধ করা খুব কঠিন হবে। বিশ্বের অনেক দেশ লকডাউন ও সামাজিক দূরত্ব মেইনটেন করে সামাজিক সংক্রমণ প্রতিরোধ করে ফেলেছে। বেশ কয়েকটি দেশ এভাবে পরিস্থিতি ভালোভাবে সামাল দিতে পেরেছে। অন্যান্য দেশের আক্রান্তের হার যখন নিচের দিকে তখন কিছু জায়গায় লকডাউন শিথিল করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে লকডাউন দেওয়াই হয়নি। বলা হচ্ছে, সংবিধানে নাকি নেই। কিন্তু এ ধরনের একটি অধ্যাদেশ করতে মাত্র এক দিন লাগে। মানুষকে বাঁচানোর জন্য এক দিনে একটি অধ্যাদেশ করার প্রয়োজন ছিল, যেটি তারা করেনি। অন্যদিকে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকরা যখন সত্য কথাগুলো তুলে ধরতে শুরু করেছেন তখনই তাঁদের ডিজিটাল আইনে সরকার গ্রেপ্তার করতে লাগল! অর্থাৎ সরকার সত্য প্রকাশে বাধার সৃষ্টি করল। কারণ সত্য প্রকাশ করলে তাতে থলের বিড়াল আরো বেরিয়ে পড়ত—এই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে সত্য প্রকাশ থেকে পিছু হটতে সাংবাদিকদের বাধ্য করা হয়েছে।

 

কালের কণ্ঠ : রাজনীতির কথায় আসি। পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে কিছু ভাবছেন?

মির্জা ফখরুল : এই মুহূর্তে নির্বাচন নিয়ে আমরা কিছু ভাবছি না। কারণ গত দুটি নির্বাচন নিয়ে যে অভিজ্ঞতা তাতে বোঝা যাচ্ছে যে এই পদ্ধতির নির্বাচনে জনগণের সঠিকভাবে মতামত আসবে না। বাংলাদেশের মতো এই ধরনের রেজিম ও শাসকগোষ্ঠী যেখানে আছে, সেখানে দেখা যায় সরকারগুলো নিজেদের ইচ্ছামতো নির্বাচন করার জন্য কাজ করে। ফলে পরবর্তী নির্বাচনে বিএনপি ও আমাদের মিত্ররা কী করবে সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনো আসেনি।

 

কালের কণ্ঠ : এর মানে ধরে নিচ্ছেন যে আগামী নির্বাচনও আগের মতোই হবে?

মির্জা ফখরুল : বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকলে তো একইভাবে করার চেষ্টা করবে। কিন্তু এখনো অনেকে বুঝতে পারছে না যে এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার জন্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান করা হয়েছিল। কিন্তু ওই ব্যবস্থা বাতিল করার পর দেশের গণতন্ত্রও শেষ হলো, পাশাপাশি অন্যান্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানও ধ্বংস হয়ে গেল। তাই আমরা এখনো মনে করি, তত্ত্বাবধায়ক বা নির্দলীয় কোনো ব্যবস্থার অধীন নির্বাচন না হলে গণতন্ত্রের এই সংকট কাটবে না।

 

কালের কণ্ঠ : ক্ষমতায় থাকার অভিপ্রায়ে সরকার একই পদ্ধতির নির্বাচন করার চেষ্টা করবে—এটি স্বাভাবিক নয় কি?

মির্জা ফখরুল : তারা চেষ্টা করলে আমরাও চেষ্টা করব, যাতে ওই ধরনের আরেকটি নির্বাচন না করতে পারে। জনগণকে আমরা সংগঠিত করার চেষ্টা করব। জনগণের মতামতের প্রতিফলন যাতে ঘটে অবশ্যই এমন নির্বাচন হতে হবে। অন্যথায় ওই নির্বাচন কিছুতেই অর্থবহ হবে না।

 

কালের কণ্ঠ : কিছুদিন আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে আপনি দেখা করেছেন। দেশের রাজনীতি নিয়ে তিনি কি ভাবছেন?

মির্জা ফখরুল : বিএনপি চেয়ারপারসন এখনো যথেষ্ট পরিমাণে অসুস্থ আছেন। তিনি হাঁটতে পারেন না। হুইলচেয়ারে তাঁকে ম্যুভ করতে হয়। ভালো করে এখনো পা ফেলতে পারেন না। হাতেও সমস্যা রয়েছে। ফলে রাজনীতির প্রশ্নে আমরা তাঁর সঙ্গে বেশি আলাপ করছি না।

 

কালের কণ্ঠ : করোনা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি কিছু বললেন?

মির্জা ফখরুল : করোনা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বেশ উদ্বিগ্ন। দেশ ও দেশের মানুষের কথা সারাক্ষণই তাঁর চিন্তায় আছে। দেশের অর্থনীতি নিয়েও তিনি চিন্তা করেন। যার যতটুকু সামর্থ্য আছে, তা নিয়ে বিএনপিকে তিনি জনগণের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছেন।

 

কালের কণ্ঠ : আলাপে রাজনীতির বিষয়টি উঠেইনি?

মির্জা ফখরুল : রাজনীতির বিষয়ে আলাপের সুযোগ ছিল না। কেমন আছেন, চিকিৎসা কেমন চলছে এবং ভবিষ্যতে চিকিৎসা কেমন হতে পারে—এসব বিষয়ে আলাপ হয়েছে। সরকার যেসব শর্তে তাঁকে মুক্তি দিয়েছে সেখানে অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্টের কোনো সুযোগ নেই। অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট করাতে হলে তাঁকে বিদেশে করাতে হবে। এখন যে করোনা পরিস্থিতি তাতে হাসপাতালে যাওয়াও নেত্রীর পক্ষে সম্ভব নয়।

 

কালের কণ্ঠ : এর মানে শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হলে খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ কম?

মির্জা ফখরুল : সুস্থ অবস্থায় না ফিরলে ম্যাডামের পক্ষে রাজনীতিতে তেমনভাবে সক্রিয় হওয়া সম্ভব নয়। তা ছাড়া যে ধরনের মামলায় তাঁকে সাজা দেওয়া হয়েছে, সেটিও আমাদের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয়। তাই ওই মামলা নিয়ে আমরা আইনি লড়াই আরো চালিয়ে যাব।

 

কালের কণ্ঠ : তাহলে চেয়ারপারসন সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই দল পরিচালনা করবেন?

মির্জা ফখরুল : হ্যাঁ। বিএনপির গঠনতন্ত্রে এই বিধানই রয়েছে। চেয়ারপারসন টেকওভার না করা পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানই দায়িত্ব পালন করবেন।

 

কালের কণ্ঠ : দলীয় রাজনীতির খবর কী? নির্বাচনের আগের মতো আপনারা এখনো ঐক্যবদ্ধ আছেন কি?

মির্জা ফখরুল : বিএনপি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ঐক্যবদ্ধ। প্রায় এক যুগ ধরে সরকারের ভেতর ও বাইরের বেশ কিছু শক্তি বিএনপির মধ্যে বিভাজন তৈরি করার চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে, খালেদা জিয়ার কারাগারে যাওয়ার পর ওই চেষ্টা আরো বেশি হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত একজন নেতাকেও কেউ দল থেকে আলাদা করতে পারেনি। বরং আমি একটি কথা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, জিয়াউর রহমানের যে রাজনৈতিক আদর্শ ও দর্শন সেটি আজও এ দেশের জনগণ গ্রহণ করছে। শত সহস্র প্রপাগান্ডা ছড়িয়েও জিয়াউর রহমান, বিএনপি বা খালেদা জিয়াকে সরকার মানুষের মনের ভেতর থেকে সরাতে পারেনি। মানুষ এখনো বিএনপিকে ধারণ করে এবং গ্রহণ করছে। তাই সুষ্ঠু ভোট হলেই বিএনপি ক্ষমতায় আসবে—এ কথা জেনেই সরকারকে আগের রাতে ভোট করতে হচ্ছে। অন্যায়, অত্যাচার, নিপীড়ন ও কৌশল দিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পথে বাধার সৃষ্টি করা যায় বটে; কিন্তু মানুষের হৃদয় বা মনোজগৎ থেকে আদর্শকে হত্যা করা যায় না। এর প্রমাণ হলো বিএনপির টিকে থাকা।

 

কালের কণ্ঠ : এখনকার বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক শক্তির সমর্থন ছাড়া ক্ষমতায় আসা বা টিকে থাকা সম্ভব নয় বলে মনে করা হচ্ছে। বিএনপির অবস্থান কী?

মির্জা ফখরুল : এটি নির্ভর করছে আমি কতটুকু শক্তি নিয়ে দাঁড়াতে পারি তার ওপর। বিএনপি শক্তি নিয়ে দাঁড়াতে পারলে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোও পাশে দাঁড়াবে বলে আমি বিশ্বাস করি। সে জন্য অবশ্যই আমরা সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করব। তবে একটি কর্তৃত্ববাদী ফ্যাসিবাদী সরকারের কাছ থেকে গণতন্ত্র উদ্ধার অবশ্যই জটিল একটি ব্যাপার। কারণ এ ধরনের সরকার রাষ্ট্রের সাধারণ নিয়মে চলে না। হত্যা, গুম, জুলুম ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে এরা টিকে থাকে। এমন পরিস্থিতির কারণে বৈরী অবস্থার মধ্য দিয়ে বিএনপিকে রাজনীতি করতে হচ্ছে।

 

কালের কণ্ঠ : মাঝখানে আপনারা বৃহত্তর ঐক্যের কথা বলেছিলেন। কোনো অগ্রগতি আছে?

মির্জা ফখরুল : বৃহত্তর ঐক্যের ব্যাপারে বিএনপির অবস্থান সব সময়ই ইতিবাচক। এই ইতিবাচক মনোভাব থেকেই ২০ দলীয় জোট এবং পরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছে। আবার এই দুই জোটের সমন্বয় ঘটিয়ে আমরা সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। দুই মেরুর লোকজনকে একসঙ্গে করে নির্বাচনে অংশ নেওয়া আসলে অসম্ভবকে সম্ভব করা হয়েছে। এখন সরকার আগের দিন রাতে ভোট ডাকাতি করে ফলাফল অনুকূলে নিয়ে গেছে, সেটি আলাদা প্রশ্ন। তবে আমি বলব, দেশের রাজনীতির জন্য এটি অবশ্যই একটি ইতিবাচক এবং তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। আমরা এখনো ওখানেই আছি। কারণ বিএনপি মনে করে, জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমেই এ ধরনের সরকারকে হটানো সহজ হবে।

 

কালের কণ্ঠ : বাম দলগুলোকে কি ওই ঐক্যে টানা সম্ভব হবে?

মির্জা ফখরুল : বাম দলগুলোর সঙ্গে আগেও কথা বলেছি। এখনো যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। কিছুদিন আগে করোনা পরিস্থিতির ওপর বাম মোর্চার উদ্যোগে একটি ভিডিও কনফারেন্সে আমরাও যুক্ত হয়েছিলাম। ওই আলোচনায় আমরা জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছি।

 

কালের কণ্ঠ : এর মানে বৃহত্তর ঐক্যে বাম দলগুলোর শামিল হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন?

মির্জা ফখরুল : আমরা আশা করছি সেটি সম্ভব হতে পারে। কারণ সরকারের সঙ্গে বাম দলগুলোরও এখন কোনো ইস্যুতে ঐকমত্য দেখছি না। ফলে গণতন্ত্রের উত্তরণের পথে একসময় সব দলের উপলব্ধি এক পথে অগ্রসর হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

 

কালের কণ্ঠ : করোনা পরিস্থিতির মধ্যে কালের কণ্ঠকে সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

মির্জা ফখরুল : কালের কণ্ঠকেও ধন্যবাদ।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা