kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

প্রতি জেলায় আইসিইউ স্থাপনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

একনেকে ১০ প্রকল্প অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রতি জেলায় আইসিইউ স্থাপনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

দেশের প্রতিটি জেলা শহরে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে জেলা শহরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন রাখার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার দেশে প্রথমবারের মতো ভার্চুয়াল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে মানুষ মাছের ঘের করার জন্য বাঁধ কেটে নোনা পানি ঢোকায়। ফলে বাঁধ টেকসই হয় না। ভেঙে যায়। আলাদা আলাদা বাঁধ না কেটে সবাই মিলে নির্দিষ্ট একটি জায়গায় বাঁধ কাটার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। মাছের ঘের করতে বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন জায়গায়

যাতে স্থানীয়রা বাঁধ কাটতে না পারে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ভার্চুয়াল একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী গণভবন থেকে অংশ নেন। আর অন্য মন্ত্রীরা অংশ নেন রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলকক্ষ থেকে। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে আড়াই মাস আগে সর্বশেষ একনেক বৈঠক হয়েছিল। আড়াই মাস পর গতকাল প্রথম একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয় ভার্চুয়াল।

গণভবনে একনেক বৈঠকে অংশ নেওয়া শেষে রাজধানীর শেরেবাংলানগরে এসে সংবাদ সম্মেলন করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এ সময় তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম একটি অগ্রাধিকার ও পছন্দের প্রকল্প হলো প্রাথমিক শিক্ষায় উপবৃত্তি প্রকল্প। প্রকল্পটিতে এত দিন উন্নয়ন বাজেট থেকে টাকা বরাদ্দ দিয়ে আসছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত হয়েছে, ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে এ প্রকল্পে উন্নয়ন বাজেট থেকে নয়; রাজস্ব বাজেট থেকে অর্থায়ন করা হবে।

গতকাল একনেক সভায় ১৬ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চারটি প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাধারণ ছুটি চলাকালে জরুরি ভিত্তিতে অনুমোদন দিয়েছিলেন। গতকাল সেই চারটি প্রকল্পের ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দেওয়া হলো। এ ছাড়া নতুন করে ছয়টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট খরচ হবে ১৬ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা। যার মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জোগান দেওয়া হবে ১৪ হাজার ৪০১ কোটি টাকা। বাকি টাকা আসবে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ হিসেবে। করোনাভাইরাস মোকাবেলা সংক্রান্ত দুটি প্রকল্প গতকাল একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে, অন্যটি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নেওয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট খরচ হবে এক হাজার ১২৭ কোটি টাকা। যার মধ্যে বিশ্বব্যাংক ঋণ দেবে ৮৫০ কোটি টাকা। বাকি ২৭৭ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জোগান দেওয়া হবে। এই টাকা দিয়ে দেশের প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ২০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার করা হবে। এ ছাড়া পাঁচ শয্যার ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট করা হবে। এর বাইরে করোনা রোগ শনাক্ত করতে তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আটটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর এবং তিনটি সমুদ্রবন্দরে ১৬টি মেডিক্যাল সেন্টার স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া দেশের ৪৯২টি উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ৬৪ জেলা হাসপাতাল এবং ১৭টি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ওয়াশ কর্নার স্থাপন করা হবে। যেখানে পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা ওয়াশ কর্নার থাকবে।

অন্যদিকে এডিবির অর্থায়নে কভিড-১৯ বিস্তার ঠেকাতে নেওয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট খরচ হবে এক হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা। যার মধ্যে এডিবি ঋণ দেবে ৮৫০ কোটি টাকা। বাকি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জোগান দেওয়া হবে। এই প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৭টি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইসোলেশন সেন্টার স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া ২৬টি স্থলবন্দরে মেডিক্যাল সেন্টার স্থাপন করা হবে। কভিড-১৯ মোকাবেলায় চিকিৎসক ও নার্সদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

গতকাল একনেক সভায় দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্পটি সংশোধিত আকারে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি ২০১৫ সালে শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটির কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের খরচও বেড়েছে। মেয়াদ বেড়েছে আরো দুই বছর। ২০১৫ সালে প্রকল্পটি যখন অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল তখন খরচ ধরা হয়েছিল তিন হাজার ৩১৭ কোটি টাকা। এখন ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৭১২ কোটি টাকা। চীনা এক্সিম ব্যাংক এ প্রকল্পে ঋণ দিচ্ছে। এ প্রকল্পের আতওায় রাজধানীর খিলগাঁওয়ে একটি পয়ঃশোধনাগার করার কথা। গুলশান, বনানী বারিধারা, তেজগাঁও, মগবাজার, ইস্কাটন, নিকেতন, ধানমণ্ডি, কলাবাগান এলাকার জন্য কোনো পয়ঃশোধনাগার নেই। ঢাকা ওয়াশা এখন প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২২ সাল পর্যন্ত করেছে। গতকাল একনেক সভায় ৪৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সাতক্ষীরা জেলায় ১, ২, ৩ পোল্ডার এবং ৬, ৭, ৮ পোল্ডার নিষ্কাশন এবং ১১৩ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা