kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার ঘটনায় উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র

সেনা মোতায়েনের হুমকি ট্রাম্পের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সেনা মোতায়েনের হুমকি ট্রাম্পের

পুলিশ হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গ মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল যুক্তরাষ্ট্রে শান্তি ফেরাতে প্রয়োজনে সেনা মোতায়েন করার হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিভিন্ন শহরে কারফিউ উপেক্ষা করে চলতে থাকা বিক্ষোভের মধ্যে এমন ঘোষণা দিলেন তিনি।

১৯৯২ সালে এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তির ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে সৃষ্ট দাঙ্গা দমাতে বিদ্রোহ আইন জারি করা হয়েছিল। এরপর আর ওই আইন জারির ঘটনা ঘটেনি। ২৮ বছর পর ওই একই আইন বলে সেনা মোতায়েনের যে হুমকি ট্রাম্প দিয়েছেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা।

মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপলিস শহরে আফ্রিকান-আমেরিকান নাগরিক জর্জ ফ্লয়েড এক পুলিশ সদস্যের বর্বরতায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গেছেন, এমন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে গোটা যুক্তরাষ্ট্র। এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৭৫টি শহরে বিক্ষোভ হয়েছে।

গত এক সপ্তাহে পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় গত সোমবার থেকে ৪০টি শহরে কারফিউ জারি করা হয়। এর মধ্যে নিউ ইয়র্কসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোয় গতকাল মঙ্গলবারও কারফিউ জারি রাখা হয়। তবে কারফিউ উপেক্ষা করে বিক্ষোভ, দোকানপাট ভাঙচুর, লুটপাট, জ্বালাও-পোড়াও চলছেই। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি উপেক্ষা করে বিক্ষোভে যোগ দিচ্ছে মানুষ। ঘটছে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা। গত সোমবার রাতে মিসৌরির সেন্ট লুইস শহরে বিক্ষুব্ধদের গুলিতে চার পুলিশ সদস্য আহত হন।

বিক্ষোভ চলাকালে ভাঙচুর, লুটপাট, পুলিশের ওপর হামলা ও কারফিউ ভঙ্গ করাসহ বিভিন্ন অভিযোগে চলছে গ্রেপ্তার। ইতিমধ্যে গ্রেপ্তারের সংখ্যা সাড়ে চার হাজার ছাড়িয়েছে।

এসবের মধ্যে ফ্লয়েডের মৃত্যুতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে হাঁটু মুড়ে বসে পুলিশের শোক প্রকাশের ঘটনাও ঘটেছে। গত সোমবার রাতে টেক্সাসের পুলিশ প্রধানসহ অন্য কর্মকর্তারা এমন সহমর্মিতা দেখান।

সেনা মোতায়েনে ট্রাম্পের হুমকি : স্থানীয় প্রশাসন কারফিউ জারি করে বিক্ষোভ ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। গত সোমবার সন্ধ্যার পর হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে এক সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ফ্লয়েডের ‘নৃশংস’ মৃত্যুতে আমেরিকানদের প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ যথাযথ। তাই বলে জনতার উন্মত্ততায় ফ্লয়েডের স্মৃতি ভেসে যেতে পারে না, এমন মন্তব্যও করেন তিনি। খোদ রাজধানীও উন্মত্ত জনতার লুটপাট ও সহিংসতা থেকে রক্ষা পায়নি উল্লেখ করে তিনি এসব ঘটনাকে ‘পুরোপুরি অসম্মানজনক’ অ্যাখ্যা দেন।

এরপর ট্রাম্প আসেন শৃঙ্খলা ফেরানোর প্রসঙ্গে। এ সময় তিনি বলেন, ‘দাঙ্গা, লুটপাট, ভাঙচুর, হামলা আর নির্বিচারে সম্পত্তি ধ্বংস ঠেকাতে আমি ভারী অস্ত্রসজ্জিত হাজার হাজার সেনা, সামরিক সদস্য ও আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের পাঠাব।’ তিনি যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন হোয়াইট হাউসের বাইরে জড়ো হওয়া বিক্ষুব্ধদের আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছিল।

প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, ‘নগর বা অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ যদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে আমি সেনা মোতায়েন করব এবং সমস্যা দ্রুত সমাধান করে ফেলব।’ তিনি যা বলবেন, তা-ই আইন, এমন মন্তব্যও করেন এ রিপাবলিকান নেতা।

দাঙ্গাকবলিত শহরগুলোয় শৃঙ্খলা ফেরাতে ন্যাশনাল গার্ড নামে সংরক্ষিত সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মাঠে নামাতেও নগর ও অঙ্গরাজ্যের কর্তৃপক্ষগুলোকে পরামর্শ দেন ট্রাম্প। রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি ও ২৮টি অঙ্গরাজ্যে ন্যাশনাল গার্ডের ২০ হাজার সদস্যকে ইতিমধ্যে সক্রিয় করা হয়েছে। বলা দরকার, রাজধানীতে সেনা মোতায়েনের নির্দেশ এরই মধ্যে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। রাজধানীতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের জোর করে হটিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে, যেটার কঠোর নিন্দা ও সমালোচনা করেছেন মেয়র।

সমালোচনায় বাইডেন : ট্রাম্প সেনা মোতায়েনের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমালোচনা শুরু হতে দেরি হয়নি। আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট পদপ্রার্থী জো বাইডেন বলেছেন, ‘আমেরিকান সেনাবাহিনীকে আমেরিকান জনগণের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করছেন ট্রাম্প।’

সংবাদকর্মীদের কারফিউর আওতার বাইরে রাখার আহ্বান : ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের হামলার শিকার হচ্ছেন গণমাধ্যমকর্মীরা, এমন অভিযোগ করেছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) শীর্ষক যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন। সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন ফুটেজে দেখা গেছে, সংবাদ সংগ্রহের সময় পুলিশের হামলার শিকার হচ্ছেন সংবাদকর্মীরা। গত শুক্রবার থেকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করার ঘটনা ঘটেছে কমপক্ষে ১২৫টি, এমন তথ্য জানিয়ে সিপিজে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, সংবাদকর্মীদের যেন নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রাখা হয়।

এদিকে গত সোমবার ওয়াশিংটন ডিসিকে অস্ট্রেলিয়ার এক সংবাদকর্মী পুলিশের হামলার শিকার হওয়ায় এ ঘটনার তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। 

বিক্ষোভকারীদের পক্ষে জার্মানি : ফ্লয়েড পুলিশের হাতে ‘ভয়ানকভাবে’ প্রাণ হারিয়েছেন, এমন মন্তব্য করেছেন জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো মাস। ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আমেরিকানদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ বৈধ তৎপরতার চেয়ে আরো বেশি কিছু, এমন মন্তব্যও করেন তিনি। বার্লিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন এ শীর্ষ জার্মান কূটনীতিক। সূত্র : সিএনএন, বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা