kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

বিশেষজ্ঞ মত

হুন্ডি ও টাকা পাচার রোধে চাই কঠোর শাস্তি

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক

২ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হুন্ডি ও টাকা পাচার রোধে চাই কঠোর শাস্তি

দেশের টাকা দেশে রাখতে হলে এবং টাকা পাচার বন্ধ করতে বাজেটে বিনিয়োগের সুযোগগুলো বৃদ্ধি ও পাচারের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। মানি লন্ডারিংয়ের (অর্থপাচার) উৎস হলো কালো টাকা। কালো টাকার উৎসগুলো বন্ধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দুর্নীতি প্রতিরোধ হবে প্রথম পদক্ষেপ। এ ছাড়া টাকা পাচার ও কালো টাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। শাস্তির দু-একটি উদাহরণ সৃষ্টি করলে এ প্রবণতা কমে আসবে বলে আমি মনে করছি।

সরকারের যেহেতু টাকার প্রয়োজন রয়েছে, তাই কালো টাকাগুলোকে বারবার সাদা করার সুযোগ না দিয়ে এককালীন বড় সুবিধা দিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের একটা সুযোগ দিলে হয়তো কালো টাকাগুলো বিনিয়োগে ফিরে আসবে।

ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি করতে হুন্ডি প্রতিরোধ করতে হবে।

এ জন্য বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স আনার খরচ কমাতে হবে। রেমিট্যান্সের প্রণোদনার ব্যবস্থাটি চলমান রাখতে হবে। মনিটরিং আরো জোরদার করতে হবে। শাস্তির বিধানগুলো কার্যকর করতে হবে। রেমিট্যান্সের টাকা যাতে গ্রাহক দ্রুত পেতে পারে বাজেটে এমন কিছু করতে হবে। কারণ মানুষ হুন্ডিতে যাওয়ার প্রথম কারণ হলো টাকা দ্রুত পাওয়া। যেকোনো অঞ্চল থেকে মানুষ দ্রুত হুন্ডিতে টাকা পায় বলেই এটি জনপ্রিয় হয়েছে।

ব্যাংকিং খাতের উন্নয়নে ব্যাংকগুলোতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ব্যাংক খাতে রিফর্ম করা উচিত। ব্যাংকগুলোতে যোগসাজশে বা মিলেমিশে দুর্নীতি ও অনিয়মের নজির দেখা যাচ্ছে। এদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ছোট ব্যাংকগুলো মার্জ করার বিষয়ে ভাবা উচিত। ব্যাংকের গ্রাহক সেবা বাড়াতে হবে। তাহলে ব্যাংকের প্রতি মানুষ আগ্রহী হয়ে উঠবে। সেবাগুলোকে সাশ্রয়ী করতে হবে।

বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বিনিয়োগ পরিবেশ আরো ভালো করতে হবে। বিনিয়োগে যদি সময় বেশি লাগে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থাকে তবে উদ্যোক্তারা তো আসবে না। তাই নীতিমালাগুলো আরো সহজ ও স্পষ্ট করতে হবে। ব্যাংক ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করতে হবে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বন্ধ করতে হবে। প্রতিবছর বাজেটে নীতিমালা পরিবর্তন করা যাবে না। বন্দর, আইটি, অবকাঠামোগত সুবিধা আরো বাড়াতে হবে।

তার আগে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করতে হবে। অন্যথায় টাকা বাইরে পাচারের ঝুঁকি থেকেই যাবে। দেশের লোক যদি টাকা নিয়ে বিদেশে চলে যায় তবে বিদেশিরা তো আসবে না। এ ক্ষেত্রে দেশে সঞ্চয়ের সুবিধাগুলো বাড়াতে হবে। আমানতকারীদের ব্যাংক হার বাড়াতে হবে। সঞ্চয়ের সুদহার, আমানতের হার কমিয়ে দিলে মানুষ টাকা রাখতে উৎসাহ পায় না।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা