kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আষাঢ় ১৪২৭। ৩ জুলাই ২০২০। ১১ জিলকদ  ১৪৪১

বাজেটে করোনার প্রভাব

কমছে আয়কর জালের আওতা

►নতুন করদাতা চিহ্নিত করা হবে ৫ লাখ
► বাজেট উপস্থাপন ১১ জুন

সজীব হোম রায়   

১ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কমছে আয়কর জালের আওতা

দেশে করদাতার সংখ্যা তিন অর্থবছরে কোটিতে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল অর্থ মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে নতুন করদাতার সংখ্যা নির্ধারণ করা হয় ৯ লাখ ২৩ হাজার। এর মধ্যে বিশ্বব্যাপী হানা দিয়েছে করোনাভাইরাস। এ অবস্থায় ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে আয়কর জালের আওতা বাড়াতে পারছে না মন্ত্রণালয়। আগের লক্ষ্য থেকে সরে এসে নতুন করদাতার সংখ্যা পাঁচ লাখে বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

আগামী ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে ‘অর্থনৈতিক উত্তরণ ও ভবিষ্যৎ পথপরিক্রমা’ শিরোনামের বাজেট উপস্থাপন করবেন। তাঁর বাজেট বক্তৃতায় এসব বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, সংশোধিত পাঁচ লাখ নতুন করদাতার মাইলফলক ছুঁতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের দেওয়া হবে প্রণোদনা। দেশে ইটিআইএনধারীর সংখ্যা এখন ৪৪ লাখ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সব শ্রেণির করদাতার রোজগারে বড় ধাক্কা লেগেছে। তাই এবার আর করদাতার সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে না। আয়কর জালের আওতা কমানোর ঘটনা এটাই প্রথম।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, দেশে ছোট করদাতা দুই প্রকারের। প্রথমটি সৎ, ক্ষুদ্র্র ও নিম্ন পর্যায়ের। তাঁরা এমনিতেই কর দেন। তাঁদের বেতন থেকে কেটে নেওয়া হয়। আরেকটা হলো প্রাইভেট সেক্টরের, ইনফরমাল সেক্টরের করদাতা। তাঁদের নিয়েও এনবিআরের মাথা ব্যথার দরকার নেই। বরং এঁদের রেয়াত দেওয়া উচিত। তবে অনেক ক্ষেত্রে কর রেয়াতের বিষয়গুলোও পর্যালোচনার সময় এসেছে বলে মনে করেন তিনি।

আবদুল মজিদ বলেন, বড় করদাতাও দুই ধরনের। এক. এনবিআরের তালিকায় যাঁদের নাম আছে। কিন্তু তাঁরা নানাভাবে কর ফাঁকি দেন। অপর পক্ষটি কর দেয় না। এঁদের সংখ্যা অবশ্য কম। কারণ, বড়দের সবারই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে।

আবদুল মজিদ মনে করেন, এনবিআরের উচিত করদাতা বাড়ানোর পাশাপাশি বড়রা ঠিকভাবে দেন কি না, তা দেখা। বড়দের একটা ফাঁকি ছোট ১০০ করদাতার করের সমান। তাই নতুন করদাতা বাড়ানোর পাশাপাশি বড়দের দিকে বেশি নজর দিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ইটিআইএনধারীর সংখ্যা মাত্র ৪৪ লাখ থাকার কারণ যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেকে কর দেন না। প্রতি অর্থবছরই এদের নতুন করে যুক্ত করার মিশনে নামে এনবিআর। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। করোনাভাইরাসের কারণে সব কিছু থমকে গেছে। তাই নতুন করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি বা করজালের আওতা এবার সেভাবে বাড়ানো হবে না। এ জন্য এনবিআরকে পাঁচ লাখ করদাতা যুক্ত করার টার্গেট দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

সূত্র জানায়, নতুন করদাতা চিহ্নিত করতে প্রতিটি উপজেলায় রাজস্ব দপ্তর স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যেখানে করদাতার সংখ্যা বেশি, সেসব উপজেলায় একাধিক রাজস্ব দপ্তর স্থাপন করা হবে। আগামী অর্থবছর এ কাজে আরো জোর দেওয়া হবে। কঠিন পরিস্থিতিতে এনবিআরের কর্মকর্তারা যাতে এ কাজ করতে উৎসাহিত হন সে জন্য তাদের প্রণোদনা দেওয়া হবে। কর জালের আওতার মতো আগামী অর্থবছরে করও বাড়ানো হবে না। মানুষকে ভোগান্তি থেকে রেহাই দিতেই সরকারের এমন সিদ্ধান্ত।

 

 

মন্তব্য