kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

কাল খুলছে দেশের সব বিপণিবিতান দোকান

রোকন মাহমুদ   

৩০ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কাল খুলছে দেশের সব বিপণিবিতান দোকান

সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি আর না বাড়ায় আগামীকাল রবিবার থেকে খুলছে রাজধানীসহ দেশের সব বিপণিবিতান ও দোকানপাট। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। ঈদের আগে সীমিত পরিসরে অনুমতি পাওয়া গেলেও তখন ব্যবসায়ীরা সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেক মার্কেট বন্ধ রাখেন। কিন্তু এবার খুলছে সব মার্কেট। তবে দোকান খুলতে আগ্রহী নন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। আর বিলাসী পণ্যের ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে চান। দোকান মালিক সমিতি ও বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে দেশে সাধারণ ছুটি চলছে। তখন থেকে বন্ধ রয়েছে নিত্যপণ্য ছাড়া সব ধরনের মার্কেট ও দোকানপাট। গত বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে দেশে ৩০ মের পর সাধারণ ছুটি আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তবে করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানতে হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিপণিবিতান ও দোকানপাট খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে ঈদের আগেই। ঢাকাসহ দেশজুড়ে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দোকান মালিক সমিতি। রাজধানীর নিউ মার্কেট, চাঁদনীচক, মৌচাক, বাইতুল মোকাররমসহ দেশের ছোট-বড় সব মার্কেট খোলার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। খুলছে আড়ং, বাটা, অ্যাপেক্সসহ চেইনশপগুলোও। এ ছাড়া খুলছে পাড়া-মহল্লা ও বাজারের দোকানপাট। এ বিষয়ে সব ব্যবসায়ী সমিতি একমত হয়েছে বলেও জানা গেছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন গতকাল শুক্রবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সব মার্কেট কমিটির সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হচ্ছে। এবার সবাই মার্কেট খুলবে। দোকানও খুলবে। সবাই সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন মার্কেট বা দোকান খুলবে কি না—সেটা তাদের সিদ্ধান্ত।’

মার্কেট খোলার পর স্বাস্থ্যবিধি অমান্যকারীদের আর্থিক জরিমানার দাবি জানান তিনি। হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘বারবার বলার পরও দোকান মালিক, কর্মচারী ও ক্রেতা সাধারণকে শতভাগ মাস্ক পরানো সম্ভব হয়নি। তাই এ ক্ষেত্রে আর্থিক জারিমানার বিধান থাকা উচিত। মাস্ক ব্যবহার না করলে, সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখলে ৫০০ টাকা জরিমানা, হাঁচি-কাশি-জ্বর নিয়ে কেউ মার্কেটে এলে তাকে ১০০০ টাকা জরিমানার বিধান রাখা উচিত।’

এদিকে জুয়েলারিসহ বিলাসী পণ্যের দোকান মালিকরা দোকান খুলবেন কি না সে সম্পর্কে এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। দোকান খুলে ক্রেতা না পেলে লোকসানের ভয় করছেন তাঁরা। ছোট দোকানগুলো খুলতে চাইলেও বড় দোকানিরা আগ্রহী নন। তাঁরা বলছেন, রবিবার থেকে মার্কেট খুলুক। তারপর কয়েক দিন যাক। পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। 

বাংলাদেশ জুয়েলারি প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আনোয়ার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মৌচাক, আনারকলিসহ এ এলাকার মার্কেটগুলো খোলা হবে রবিবার থেকে। তবে সবাই দোকান খুলবে কি না দেখা যাক। অনেক বিলাসী পণ্যের দোকান আছে। মানুষের কাছে অতিরিক্ত টাকা থাকলে এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে এসব দোকানে পণ্য কিনতে ক্রেতা আসেন। আমাদের স্বর্ণের ব্যবসাও সে রকম। আমাদের অনেকে হয়তো দোকান খুলবেন, আবার অনেকে খুলবেন না। কারণ সামাজিক অনুষ্ঠানাদি বন্ধ রয়েছে। ঈদ চলে গেছে। মানুষের হাতে টাকা নেই। সুতরাং দোকান খুলে লাভ হবে বলে মনে হচ্ছে না।’

এদিকে রাজধানীর ওয়ারী, গোপীবাগ, বাসাবো, মানিকনগরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চাল-ডালসহ নিত্যপণ্যের দোকান ছাড়া অন্য সব দোকান বন্ধ। এসব এলাকার হার্ডওয়্যার, ঘড়ি, চশমা, প্লাস্টিকসামগ্রী, কাপড়, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস পণ্যের দোকান খুলেছে দু-একটি।

জানতে চাইলে মানিকনগর বাজারের প্লাস্টিক সামগ্রী দোকানের মালিক আসাদুল্লাহ বলেন, ‘প্রতি বছর ঈদের পর অন্তত এক সপ্তাহ দোকানপাট বন্ধ থাকে। তবে এবার চিত্র ভিন্ন। করোনার কারণে অনেকে বাড়ি যেতে পারেননি। দীর্ঘদিন ব্যবসা বন্ধ। আয়-রোজগার নিয়ে সবাই চিন্তিত। তাই আগামী রবিবার থেকে সবাই দোকান খুলবেন বলে আশা করছি।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা