kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

সুদ পরিশোধে ব্যয় হবে ৬৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা

সজীব হোম রায়   

৩০ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সুদ পরিশোধে ব্যয় হবে ৬৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা

বাজেটে অনুন্নয়ন ব্যয়ের চাপ বাড়ছে। প্রতিবছর রাজস্ব বাজেটের বিরাট একটি অংশ সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা এবং সুদ ব্যয়ে খরচ হবে। আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে এ সুদ ব্যয় নতুন মাত্রা পাচ্ছে। ইতিহাসের সর্বকালের সবচেয়ে বেশি সুদ ব্যয়ের লক্ষ্য ধরা হচ্ছে আসছে বাজেটে। এ বাজেটে শুধু সুদ ব্যয়ে ৬৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা খরচ হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারের বাজেটের পুরোটাই ব্যয়। করোনাভাইরাসের প্রভাবে এ ব্যয়ের বিপরীতে আয় কত হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তা ছাড়া আগামী অর্থবছরও প্রণোদনা খাতে ব্যয় বাড়তে পারে। এর সুদ সরকারকেই দিতে হবে। সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমিয়ে আনা হয়েছে। আগামীতেও এটি অব্যাহত থাকবে। তাই ব্যাংকঋণই সরকারের মূল ভরসা। ফলে সুদ ব্যয় বাড়ছে আগামী বাজেটে।’

তত্ত্বাবধায়ক সাবেক সরকারের উপদেষ্টা মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঋণ নিলে সুদ খাতে ব্যয় করতেই হবে। এটাকে পাশ কাটানোর কোনো উপায় নেই। তবে সরকার যদি কম ঋণ নেয়, তাহলে সুদ ব্যয় কমবে।’

তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবেলায় সরকার প্রণোদনা দিয়েছে। সেই প্রণোদনা মূলত ঋণনির্ভর। আর এ ঋণের অর্ধেক সুদ দিতে হবে সরকারকে। আগামী অর্থবছরও সরকারকে তা টানতে হবে। তা ছাড়া রাজস্ব আয় না হলে ব্যাংকঋণে আরো ঝুঁকবে সরকার। তাই সুদ ব্যয় বাড়বেই।’

আসছে অর্থবছরের পরিচালন ব্যয় ধরা হতে পারে তিন লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সুদ ব্যয় ধরা হচ্ছে ৬৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের মূল বাজেটের পরিমাণ পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব বাজেটের পরিমাণ তিন লাখ ১১ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। সে হিসেবে আগামী বাজেটে পরিচালন ব্যয় বাড়ছে ৫৩ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা।

চলতি বাজেটে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় ধরা হয়েছে সুদ ব্যয়ে, ৫৭ হাজার ৬৮ কোটি টাকা বা ১৮.৩ শতাংশ। আর আগামী অর্থবছরের বাজেটে এ ব্যয় আরো এক ধাপ বাড়িয়ে ৬৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ধরা হচ্ছে। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের তুলনায় আগামী অর্থবছরে এ খাতে ছয় হাজার ৪৩২ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ছে। এর আগে এত বেশি ব্যয় এ খাতে আর কখনো ধরা হয়নি।

মূলত করোনাভাইরাসের কারণে রাজস্ব আয় নিয়ে শঙ্কা এবং অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে সরকারের দেওয়া এক লাখ কোটি টাকার বেশি প্রণোদনার ব্যয়ভার মেটাতে এ পরিমাণ সুদ ব্যয় ধরা হচ্ছে। তা ছাড়া আগামী অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকারের মূল ভরসা হচ্ছে ব্যাংকঋণ। কারণ, নানা বিধি-নিষেধ আরোপ ও করোনাভাইরাসের প্রভাবে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ভাটা পড়েছে। আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে সরকার ব্যাংক থেকে ৭২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছে। চলতি বাজেটে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৪৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা। যদিও সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ৭২ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা করা হয়।

বাজেট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে সুদ খাতে সরকারের ব্যয় হয়েছে ৫১ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা। চলতি ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে এ খাতে ৫৭ হাজার ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সুদ পরিশোধে ব্যয় বেড়েছে পাঁচ হাজার ৭৩২ কোটি টাকা।

২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে ৪১ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩৫ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে ব্যয় হয় ৩১ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা