kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

আম্ফানে বুলবুলের চেয়ে দ্বিগুণ ক্ষতি সুন্দরবনের

উপড়ে গেছে ১২,৩০০ গাছ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




আম্ফানে বুলবুলের চেয়ে দ্বিগুণ ক্ষতি সুন্দরবনের

ছয় মাস আগে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে সুন্দরবনের যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, এক সপ্তাহ আগে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতি হয়েছে তার দিগুণ। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে দুই কোটি ২৫ লাখ টাকার সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছে সুন্দরবনের। এর মধ্যে স্থাপনা বা অবকাঠামোর ক্ষতির পরিমাণ দুই কোটি আট লাখ টাকা। আর ১৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে গাছের। তবে বন্য প্রাণীর কোনো ক্ষতি হয়নি। গত ২০ মে উপকূলে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে সুন্দরবনের ক্ষতি নির্ধারণে গঠিত কমিটির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিবেদনটি পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে কমিটি। এর আগে গত নভেম্বরে আঘাত হানা বুলবুলে সুন্দরবনের ক্ষতি হয়েছিল এক কোটি ১৩ লাখ টাকার।

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে সুন্দরবনে ক্ষতি বেশি হওয়ার কারণ সম্পর্কে আবহাওয়া অফিস ও বন বিভাগের কর্মকর্তা বলছেন, বুলবুলের তুলনায় আম্ফান বেশি শক্তি নিয়ে বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হেনেছে। আম্ফান যখন ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করে, তখন বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটারের মধ্যে। সাতক্ষীরায় বাতাসের গতিবেগ ছিল ১৫১ কিলোমিটার। আর বুলবুলের সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে। আম্ফানের সময় বাতাসের গতিবেগ বেশি থাকায় সুন্দরবনের ক্ষতি বেশি হয়েছে।

বন বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আম্ফানের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসের কারণে সুন্দরবনের ভেতরে মিঠা পানির ৪০টি পুকুরে লোনা পানি ঢুকেছে। সুন্দরবনের ভেতরে বিভিন্ন এলাকায় এই ৪০টি পুকুরের পানি বনকর্মী, বনজীবীরা খাওয়া ও রান্নার কাজে ব্যবহার করতেন। একই সঙ্গে হরিণ, বুনো শূকরসহ বন্য প্রাণীগুলো এই মিঠা পানি খেত। যা এখন বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করেছে।

বন বিভাগের প্রধান বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের প্রথম কাজ হবে পুকুরে থাকা সব পানি বের করা। তারপর এক ফুট পরিমাণ মাটি কেটে সরিয়ে নেওয়া। কারণ, নোনা পানি এক ফুট সমপরিমাণ মাটিতে ঢুকেছে। এরপর পুকুরের চারপাশ আরো উঁচু করতে হবে। বর্ষার পানিতে পুকুরে আবার মিঠা পানি মিলবে বলে জানান প্রধান বন সংরক্ষক।

বন বিভাগের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে সুন্দরবনের ভেতরে ১২ হাজার ৩০০টি গাছের ক্ষতি হয়েছে। এসব গাছ উপড়ে গেছে। যার মধ্যে ১০ হাজার ৫০০ গাছ হলো গড়ান। এক হাজার ৮০০ গাছ কেওড়া এবং এক হাজার ২০০ গাছ হলো গেওড়া। এসব গাছ সুন্দরবনের সাতক্ষীরা অংশে। তবে বাগেরহাট অংশে তেমন ক্ষতি হয়নি। প্রধান বন সংরক্ষক জানান, সুন্দরবনের ভেতর যেসব গাছ উপড়ে গেছে, সেগুলো সেভাবেই থাকবে। স্বাভাবিক অবস্থায় থাকবে। একটি গাছও কাটা হবে না।’

বন বিভাগ বলছে, আম্ফানের প্রভাবে তাদের ৪৯টি টহল ফাঁড়ির ক্ষতি হয়েছে। যেগুলো আবার নতুন করে নির্মাণ করতে হবে। সোলার সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বাঘ, হরিণসহ বন্য প্রাণীর কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। এর আগে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সময়ও সুন্দরবনের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছিল পশ্চিম প্রান্তে সাতক্ষীরা ও খুলনা অংশে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ভারতের সুন্দরবন অংশেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা ও উত্তর চব্বিশ পরগনা—এই দুই জেলার সুন্দরবন অংশে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সুন্দরবনের ভেতরে ড্রোন ব্যবহার করে জানা গেছে, আম্ফানে সুন্দরবনের হাজার হাজার গাছ ধ্বংস হয়ে গেছে। ভেঙে গেছে অনেক নদীর বাঁধ। সুন্দরবনের ভেতরে বন বিভাগের কর্মীদের জন্য তৈরি করা দপ্তর ভেঙে গেছে। এ ছাড়া ১৩২ কিলোমিটার নাইলনের জাল উড়ে গেছে। জাল দেওয়া হয়েছিল বাঘ যাতে লোকালয়ে যেতে না পারে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা