kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

বিশেষজ্ঞ মত

কঠোরভাবে তদারকি করতে হবে

ড. সামছুল হক

২৯ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কঠোরভাবে তদারকি করতে হবে

সব কিছু খুলে দিতে হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ লকডাউন তুলে দিচ্ছে। অর্থনীতি সচল রাখতে এটা করা হচ্ছে। আমাদের দেশেও সব খুলে দেওয়া হচ্ছে। অবশ্য এ খুলে দেওয়া সীমিত আকারে। দোকানপাট, মার্কেট, বাজার খুলে দিলে যত ঝুঁকি থাকছে, গণপরিবহন চালু করলে তার চেয়ে অনেক বেশি ঝুঁকি থাকে। কারণ, গণপরিবহনে করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি বেশি।

তাহলে কি দিনের পর দিন গণপরিবহন চলবে না? চলবে। তবে এর জন্য কিছু গাইডলাইন লাগবে। সীমিত পরিসরে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাস ও মিনিবাস পরিচালনা করতে হলে বাস ও মিনিবাস মালিকদের লোকসান হবে। ঢাকা মহানগরীর উদাহরণ দিয়ে বলা যায়, এখানে যানজটের জন্য গাড়ি চলে না। এ কারণে স্বাভাবিক সময়ে মালিকরা, চালকরা বেশি যাত্রী পরিবহন করে আয় করার চেষ্টা করেন। সেখানে ৪০ আসনের বাসে ২০ জন যাত্রী পরিবহন করলে তো মালিকদের লোকসান হবে। তা কি তাঁরা মেনে নেবেন?

এ ছাড়া প্রতিদিন জীবাণুনাশক ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে গিয়ে বাড়তি খরচের জোগান দেবে কে? একদিকে বাসের মালিকের আয় কমবে, অন্য দিকে তাঁদের খরচ বাড়বে। তাহলে সরকার ভর্তুকি দেবে কি না, সেটা জানতে হবে।

নতুন পরিস্থিতিতে নতুনভাবে চলতে গেলে অংশীজনদের মতামত নিতে হয়। এরপর অভিজ্ঞতা অর্জন করে কর্মসূচি বা নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে হয়। করোনা সংক্রমণের পরও আমেরিকার নিউ ইয়র্কে গণপরিবহন চালু রাখা হয়েছে। ভারতে গণপরিবহন চালু করা হয়েছে। এসব দেশে এসব পরিচালনার ক্ষেত্রে গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে। অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় করে নেওয়া হয়েছে। আমাদের এখানে সরকার কি কোনো গাইডলাইন তৈরি করেছে বা করবে? এসব বিষয় স্পষ্ট করতে হবে।

আর সবচেয়ে বড় বিষয় হলো তদারকি, নজরদারি। কঠোরভাবে তদারকি, নজরদারি করতে হবে। বিশেষ করে গণপরিবহনের বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। ঢাকা শহরে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ভাইরাস নিয়ে যাবে এই বাস ও মিনিবাস। কাজেই তা চালুর আগে স্বাস্থ্যবিধি মানতেই হবে। বাস মালিক ও চালকদের এ ব্যাপারে সচেতন করতে হবে। যাত্রীদের সচেতনতা আরো জরুরি।

লেখক : অধ্যাপক, পুরকৌশল বিভাগ, বুয়েট।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা