kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

আম্ফানের আঘাত

সাতক্ষীরায় খাবার পানির তীব্র সংকট

লোনা পানি ঢুকেছে মিঠা পানির পুকুর টিউবওয়েলে

মোশাররফ হোসেন, সাতক্ষীরা   

২৯ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাতক্ষীরায় খাবার পানির তীব্র সংকট

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের জেরে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে সাতক্ষীরা উপকূলে বেড়িবাঁধের অর্ধশত পয়েন্ট ভেঙে ঢুকে পড়েছে লোনা পানি। এতে শতাধিক মিঠা পানির পুকুর ও টিউবওয়েল ডুবে গেছে। ফলে খাবার পানির অভাবে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন দুর্গত এলাকার মানুষ।

আশ্রয়কেন্দ্র থেকে এখনো নিজ ভিটায় ফিরতে না পারা পরিবারগুলো সরকারিভাবে খাবার পানি পেলেও দুর্গম এলাকার বেশির ভাগ মানুষের দিন কাটছে কষ্টে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকেও সুপেয় পানি দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই কম।

আশাশুনি উপজেলার ত্রিমোহিনী গ্রামের সামছুর রহমান জানান, ঝড়-পানিতে সব শেষ। দুমুঠো খাবার কেনার টাকাও নেই। এর মধ্যে পানি কেনার টাকা কোথায় পাব? এনজিওকর্মীদের দেওয়া বড়ি (ট্যাবলেট) মেশানো নোনা পানিই খাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘পেটে ভালো (সুপেয় পানি) পানি না পড়লে পেট ব্যথা করে। আম-গ্যাস হয়। পেটের মধ্যে জ্বালা-পোড়া হয়।’

উপজেলার সাতটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। এসব গ্রামেও সুপেয় খাবার পানির তীব্র সংকট চলছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রতিদিন ১৫ হাজার লিটার সুপেয় খাবার পানি ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহ করছে। উপজেলার দ্বীপ এলাকা গাবুরা, পদ্মপুকুর ও কাশিমাড়ী ইউনিয়নে নৌকায় করে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটও বিতরণ করা হচ্ছে।

জেলার শ্যামনগর উপজেলার অর্ধশত পরিবার এখনো নিজেদের ভিটায় ফিরতে পারেনি। উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ও দাতিনাখালী আশ্রয়কেন্দ্রে শতাধিক মানুষ আশ্রয় নিয়ে আছেন। ঝড়ে তাঁরা সর্বস্ব হারিয়েছেন। তবে যাঁরা ভিটে-মাটির টানে বাড়িঘরে ফিরে গেছেন তাঁরা পড়েছেন খাবার পানির সংকটে। বুড়িগোয়ালিনী গ্রামের  কার্তিক দাস, সুমিত্রা রানী, আব্বাজ আলী সানা, বাবলু হোসেনসহ অনেকে জানান, তাঁরা খাওয়ার জন্য বৃষ্টির পানি ধরেন। পার্শ্ববর্তী পুকুর থেকে লোনা পানিই সংগ্রহ করছেন। এই পানিতে ট্যাবলেট মিশিয়ে কোনো রকমে খাচ্ছেন। সরকারিভাবে পানি দেওয়া হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা খুব কম বলে জানান তাঁরা।

আশাশুনি উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঝড়ে বাঁধ ভেঙে লোনা পানি প্রবেশ করায় উপজেলাবাসীর সুপেয় পানির উৎসগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। তবে এই সংকট কাটাতে সরকারিভাবে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, উপজেলার আনুলিয়া, শ্রীউলা ও প্রতাপনগরে গভীর নলকূপগুলোর পাটাতন ওপরে তুলে পানি সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া তিনটি ওয়াটার ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। দুর্গম এলাকায় জারিকেন ও ক্যারিয়ার ট্রাক লোড করে বিভিন্ন পয়েন্টে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতাপনগরসহ কিছু এলাকায় মানুষের দোরগোড়ায় নৌকায় করে পানি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সরকারিভাবে প্রতিদিন আশাশুনিতে ২৫ হাজার লিটার সুপেয় পানি বিতরণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছে। সিডিও নামের একটি সংগঠনের টিম লিডার গাজী ইমরান জানান, তাঁরা প্রতিদিন দুর্গতদের মধ্যে বিনা মূল্যে পাঁচ হাজার লিটার করে সুপেয় পানি সরবরাহ করছেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা