kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

এক দিনে সর্বোচ্চ ২০২৯ জন শনাক্ত, মৃত্যু ১৫

ছয় দিনে ১০ হাজার বেশি রোগী শনাক্ত, মৃত্যু শতাধিক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এক দিনে সর্বোচ্চ ২০২৯ জন শনাক্ত, মৃত্যু ১৫

দেশে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে মারা গেছেন ১৫ জন। এই সময় নতুন সর্বোচ্চসংখ্যক দুই হাজার ২৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। সুস্থ হয়েছেন ৫০০ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সরকারি বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বুলেটিনে জানান, গতকালের আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা যোগ করে গত ছয় দিনে (শনিবার থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত) মৃত্যুবরণ করেন ১২৭ জন, আক্রান্ত হন ১০ হাজার ১১৬ জন এবং এই ছয় দিনে সুস্থ হন দুই হাজার ১৩৫ জন।

ডা. নাসিমা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণে দেশে আরো ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ ও চারজন নারী। বয়স বিবেচনায় তাঁরা ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে দুইজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে পাঁচজন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে পাঁচজন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে দুইজন এবং ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে একজন । গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ ৯ হাজার ২৬৭টি। সমস্ত ল্যাবে আগের নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয়েছে ৯ হাজার ৩১০টি।

বুলেটিনে জানানো হয়, নতুন যে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিভাগের সাতজন এবং চট্টগ্রাম বিভাগের আটজন। ঢাকা বিভাগের মধ্যে ঢাকা মহানগরে ছয়জন ও নারায়ণগঞ্জে একজন। চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম মহানগরে দুইজন, জেলায় দুইজন, কক্সবাজারে দুইজন এবং কুমিল্লায় দুইজন।

গত ছয় দিনের হিসাব : বুলেটিন থেকে জানা যায়, গত শনিবার ১৮৭৩, রবিবার ১৫৩২, সোমবার ১৯৭৫, মঙ্গলবার ১১৬৬, বুধবার ১৫৪১ ও গতকাল ২০২৯ জন আক্রান্ত হন। এই ছয় দিনে আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ১১৬ জন। গত শনিবার মারা যান ২০, রবিবার ২৮, সোমবার ২১, মঙ্গলবার ২১, সোমবার ২২ ও গতকাল ১৫ জন। ছয় দিনে মোট মারা গেছেন ১২৭ জন। এ ছাড়া গত শনিবার ২২৯, রবিবার ৪১৫, সোমবার ৪৩৩, মঙ্গলবার ২৪৫, বুধবার ২৪৬ ও গতকাল ৫০০ জন সুস্থ হন। ছয় দিনে সুস্থ হয়েছেন ২১৩৫ জন।

গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় দেশে। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৪০ হাজার ৩২১ জন। মোট মৃত্যু ৫৫৯ জন ও মোট সুস্থ হয়েছেন আট হাজার ৪২৫ জন। আর এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে দুই লাখ ৭৫ হাজার ৭৭৬টি।

নতুন ল্যাব : ডা. নাসিমা জানান, করোনা পরীক্ষায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন একটি ল্যাব সংযোজিত হয়েছে। এটি হয়েছে সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজে। এ নিয়ে করোনা পরীক্ষায় এখন মোট ল্যাবের সংখ্যা ৪৯।

আইসোলেশন : জানানো হয় ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে আরো ২৪৮ জনকে। একই সময় আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ১৩৮ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন চার হাজার ৯৮৪ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন দুই হাজার ৬৩৮ জন।

বুলেটিনে জানানো হয়, ঢাকাসহ সারা দেশে মোট আইসোলেশন শয্য সংখ্যা ১৩ হাজার ২৮৪টি। এ ছাড়া ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৫০০টি ও ময়মনসিংহ নার্সিং ডরমিটরিতে আরো ২০০টি আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুতির কাজ চলছে। বর্তমানে ঢাকা মহানগরীতে সাত হাজার ২৫০টি এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে আইসোলেশন শয্যার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ৩৪টিতে।

কোয়ারেন্টিন : ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে এসেছেন চার হাজার একজন। একই সময় কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড়া পেয়েছেন দুই হাজার ৪০৪ জন। আর এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে গেছেন মোট দুই লাখ ৭৫ হাজার ১০৫ জন। আর কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড়া পেয়েছেন দুই লাখ ১৬ হাজার ৮১২ জন। ছাড়া পাওয়ার পর বর্তমানে হোম এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ৫৮ হাজার ২৯৩ জন। সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৬২৯টি প্রতিষ্ঠানকে। এর মাধ্যমে তাত্ক্ষণিকভাবে ৩১ হাজার ৯৯১ জনকে সেবা প্রদান করা হয়েছে বলে জানানো হয় বুলেটিনে।

২৪ ঘণ্টায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকের সংখ্যা বেড়েছে আরো ১৪ জন। এ নিয়ে এখন মোট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকের সংখ্যা দাঁড়াল ১৬ হাজার ২০১ জনে। এ ছাড়া বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে হটলাইনে চার হাজার ২১৭ জন চিকিৎসক স্বাস্থ্য পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানানো হয় বুলেটিনে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা