kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

যশোরে কেন এত প্রাণহানি?

ফিরোজ গাজী, যশোর   

২৩ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যশোরে কেন এত প্রাণহানি?

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কারণে যশোরে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে জেলা প্রশাসন। এর কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে, এ এলাকার মানুষ ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কে তেমন সচেতন না। ফলে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখানো হলেও আশ্রয়কেন্দ্রে যায়নি। প্রশাসনও ততটা তৎপরতা দেখায়নি।

পুলিশের বিশেষ শাখার ‘ডিস্ট্রিক্ট ইন্টেলিজেন্স’ কর্মকর্তা এম মসিউর রহমান ১২ জনের মৃত্যুর তথ্য জানান। এর মধ্যে মণিরামপুরে মারা যাওয়া পাঁচজন একই গ্রামের বাসিন্দা। তাঁরা হলেন পারখাজুরা গ্রামের খোকন দাস (৭০) ও তাঁর স্ত্রী বিজন দাস (৬০), ওয়াজেদ আলী (৫০) ও তাঁর ছেলে ইসা (১৫) ও আছিয়া বেগম (৭০)। শার্শা উপজেলায় মারা যাওয়া চারজন হলেন গোগা গ্রামের ময়না বেগম, সামটা জামতলার মুক্তার আলী (৬৫), মহিপুরা গ্রামের মিজানুর রহমান (৬০) ও মালোপাড়ার গোপালচন্দ্র বিশ্বাস। চৌগাছা উপজেলার চাঁদপুর গ্রামে মৃত্যু হয় খ্যান্ত বেগম (৪৫) ও তাঁর মেয়ে রাবেয়া খাতুনের (১৩)। বাঘারপাড়া উপজেলার বোধপুর গ্রামে মারা যান ডলি বেগম (৪৮) নামের এক নারী। এছাড়া কেশবপুরের শাহীন সরদারের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে স্থানীয় গণমাধ্যমে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত ১০টার দিকে আম্ফান যশোরে আঘাত হানে। যশোর বিমানবাহিনীর আবহাওয়া অফিস জানায়, রাত ১২টার দিকে ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৩৫ কিলোমিটার। ঝড়ে প্রায় পাঁচ লাখ গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই গাছ চাপা পড়েই বেশির ভাগ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

যশোরের পতেঙ্গালি গ্রামের কৃষক তাহাজ্জুত হোসেন বলেন, ‘যশোরে বহু ঝড় হয়েছে। কিন্তু আমার জন্মের পর এত বড় ঝড় দেখিনি। এত গাছ ঝড়ে ভাঙতেও কোনো দিন দেখিনি।’ তাঁর ঘরও ঝড়ে উড়ে গেছে। তাঁর আশপাশের বাড়িতেও ঝড়ে ভেঙে পড়েছে গাছ। যশোরে অতীতে এত বড় ঝড় সম্পর্কে তাঁর ধারণা না থাকার কারণে ঘর ছেড়ে অন্য কোথাও আশ্রয় নেওয়ার কথা তিনি ভাবেননি।

গাছ উপড়ে পড়ার বিষয়ে যশোর সরকারি এম এম কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক গোলজার রহমান জানান, একটানা বাতাসে যতটা না ক্ষতি হয়, ঘূর্ণিপ্রবাহে বিভিন্ন দিক থেকে প্রচণ্ড গতিতে বাতাস আসার কারণে প্রথম দিকে শিকড়গুলোর ওপর টান পড়ে। এটা একটি কারণ। দ্বিতীয় কারণ হলো, রাত সাড়ে ১০টা থেকে ২টা পর্যন্ত যশোরে বায়ুপ্রবাহ ছিল পূর্ব থেকে পশ্চিমগামী। ২টার পর হঠাৎ সেটা ঘুরে হয়ে গেল পশ্চিম থেকে পূর্বগামী। ফলে অনেক গাছের আর টিকে থাকা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

জেলা প্রশাসক বলেন, ঝড়ের কারণে স্কুলগুলোতে মানুষকে আশ্রয় নেওয়ার উদ্যোগ ছিল। সে কারণে মাইকিং হয়েছিল। তবে তারা আসেনি। জনগণ আশ্রয়কেন্দ্রে না আসার বিষয়ে তিনি বলেন, যশোরে এর আগে এমন ঝড় না হওয়ার কারণে তারা হয়তো আশ্রয়কেন্দ্রে আসেনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা