kalerkantho

সোমবার । ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ১  জুন ২০২০। ৮ শাওয়াল ১৪৪১

লণ্ডভণ্ড উপকূলের বেড়িবাঁধগুলো

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



লণ্ডভণ্ড উপকূলের বেড়িবাঁধগুলো

ঘূর্ণিঝড় আম্ফান উপকূলের বেড়িবাঁধগুলো লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। বাঁধ ভেঙে হু হু করে পানি ঢুকে পড়েছে লোকালয়ে। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি। ভেসে গেছে হাজার হাজার মাছ ও চিংড়িঘের। এ ব্যাপারে আমাদের আঞ্চলিক কার্যালয় ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর—

বরিশাল : ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার বাঁধ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ উপচে পানি লোকালয়ে ঢুকেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, ঝড়ের আঘাতে বিভাগের ছয় জেলার ৫৮টি স্থানের ৬৫০ মিটার বাঁধ পানির তোড়ে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া আংশিক ক্ষতি হয়েছে ১৬১টি স্থান। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের পরিমাণ ১৬১ কিলোমিটার। নদীর পার ভেঙেছে ১০টি স্থানে। এর দৈর্ঘ্য দুই কিলোমিটারের বেশি। প্রাথমিক হিসাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৩ কোটি টাকার অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তারা প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

পাউবোর বরিশাল আঞ্চলিক প্রধান কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী জাভেদ আহমেদ বলেন, ‘আমরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেসব এলাকায় জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু করেছি।’

পটুয়াখালী : ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের জলোচ্ছ্বাসে পটুয়াখালীর আট কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার সব উপজেলায়ই বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার ছোট বিঘাই ইউনিয়নের ভাজনা এবং দশমিনার রংগোপালদী ইউনিয়নের বুড়ির কান্দা এলাকার বাঁধ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহম্মদ হাসানুজ্জামান জানান, জলোচ্ছ্বাসে উপকূলের অনেক এলাকায় বিপত্সীমার ১৭৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে। এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সব বাঁধের তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুত তা মেরামতের জন্য কাজ করা হবে।

সাতক্ষীরা : চার উপজেলার ২০টিরও বেশি পয়েন্টে নদ-নদীর গ্রাম রক্ষা বেড়িবাঁধ ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। শ্যামনগরের পদ্মপুকুর, গবুরা ও আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়নের কয়েকটি স্পটে কপোতাক্ষ, খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চাউলখোলা এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ। সেটি ২০০ ফুটের মতো ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। এ ছাড়া কামালকাটি ও চণ্ডিপুর এলাকায়ও লোকালয়ে পানি ঢুকছে। বাঁধ ভেঙে গাবুরা ইউনিয়নের জেলেখানি ও নাপিতখালী এলাকায় পানি প্রবেশ করছে। আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়নের সুভদ্রকাটি, কুড়িকাউনিয়া, চাকলা, হিজলা, দিঘলাররাইট, কোলা ভেঙ্গে লোকালয়ে পানি ঢুকছে বলে নিশ্চিত করেছেন আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর আলিফ রেজা। সেগুলোর মেরামতের চেষ্টা চলছে।

শ্যামনগরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী (এসডিই) মো. রাশেদুর রহমান বলেন, উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। সার্বিক বিষয়টি পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত ভাঙন রোধের চেষ্টা চলছে। সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল জানান, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট বিভাগকে সঙ্গে নিয়ে তালিকা তৈরির কাজ করছেন। তাঁদের কাছ থেকে তালিকা পেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র জানা যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধগুলো জরুরি সংস্কারের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বরগুনা : জেলার ছয় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ১৩ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার আহমেদ বলেন, ‘জেলার বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১৫টি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। তবে প্লাবিত এলাকা থেকে এরই মধ্যে পানি নেমেও গেছে। আমরা ভেঙে যাওয়া বাঁধ দ্রুত মেরামত করার কাজ শুরু করেছি।’

কক্সবাজার ও চকরিয়া : কুতুবদিয়া ও মহেশখালীর বিভিন্ন এলাকায় সমুদ্রতীরবর্তী বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এতে দুই উপজেলার সমুদ্রতীরের বেড়িবাঁধও বিভিন্ন স্থানে ভেঙে সাগরবক্ষে তলিয়ে যায়। কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, জলোচ্ছ্বাসের তোড়ে কুতুবদিয়ার ধুরুং ইউনিয়নের কাইছার পাড়া ও নয়াপাড়া বেড়িবাঁধের বিশাল অংশ সাগরবক্ষে তলিয়ে গেছে। বর্তমানে দ্বীপের ৭১ নম্বর পোল্ডারের ৪০ কিলোমিটারের মধ্যে অন্তত ১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এতে দ্বীপের কয়েকটি এলাকায় জোয়ারের পানি ঢুকে পড়েছে।

এদিকে মহেশখালীর ৭০ নম্বর পোল্ডারের ৩২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে মাতারবাড়ী ও ধলঘাট ইউনিয়নের কিছু অংশের বেড়িবাঁধ সাগরে তলিয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) শাহ আরমান সালমান জানান, মহেশখালীর ধলঘাট ইউনিয়নের উমখালী বেড়িবাঁধের ৩৫০ মিটার, সরইতলা বেড়িবাঁধের ২৫০ মিটার এবং মাতারবাড়ী ইউনিয়নের ষাইটপাড়া বেড়িবাঁধের প্রায় ৭০০ মিটারের মতো সামুদ্রিক অস্বাভাবিক ঢেউয়ের তোড়ে সাগরে বিলীন হয়েছে।

বাগেরহাট : ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে বাগেরহাটের শরণখোলায় ৩০০ মিটার বেড়িবাঁধ সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে এবং আট কিলোমিটার বাঁধ আংশিক ক্ষতি হয়েছে।

মোংলা (বাগেরহাট) : বন্দরের পশুর চ্যানেলের তীরবর্তী কানাইনগর, কলাতলা, সুন্দরতলাসহ বিভিন্ন স্থানের দুর্বল বেড়িবাঁধের কয়েকটি জায়গা ধসে গেছে।

রাজাপুর (ঝালকাঠি) : স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পাঁচ থেকে সাত ফুট পানি বেড়ে যাওয়ায় বিষখালী নদীসহ ছোট ছোট খালের বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ফসলের মাঠে ঢুকে পড়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা