kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৪ জুন ২০২০। ১১ শাওয়াল ১৪৪১

বিশেষজ্ঞ মত

আশ্রয়কেন্দ্রে ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুশ্চিন্তা

আতিক রহমান

২০ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আশ্রয়কেন্দ্রে ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুশ্চিন্তা

ঘূর্ণিঝড় আম্ফান এখন পর্যন্ত বেশ শক্তিশালী রয়েছে। এই শতাব্দীতে এটিকে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় বলা হচ্ছে। মনে হচ্ছে, আম্ফান যখন উপকূলে আছড়ে পড়বে তখন কেন্দ্রবিন্দুতে হবে না, এটি এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হবে। ওড়িশা হয়ে পশ্চিমবঙ্গ দিয়ে খুলনা-সাতক্ষীরার ওপর দিয়ে চট্টগ্রাম-হাতিয়া পর্যন্ত এর ব্যাপ্তি থাকবে। তবে আশার দিক হলো, আম্ফানের শক্তি কিছুটা কমেছে। এটি যখন উপকূলের দিকে আসতে থাকবে, শক্তি আরো কমবে। যদিও বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অফিসের বরাতে দেখা যাচ্ছে, আম্ফান উপকূলে আঘাত আনার সময় ঘণ্টায় বাতাসের গতিবেগ ১২০ থেকে ১৪৫ কিলোমিটারের মধ্যে থাকবে। তবে ঠিক কোথায় আঘাত হানবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে আমার উদ্বেগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে। অন্য বছরের ঘূর্ণিঝড়ের সময়ের তুলনায় আম্ফানের সময়টা পুরোপুরি ভিন্ন। মানুষ করোনার সঙ্গে সহাবস্থানে আছে। এটাকে আমি করোনার সঙ্গে যুদ্ধ বলব না, বলব সহাবস্থান। এমন একটা মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে এলো ঘূর্ণিঝড়। সবাই ব্যস্ত করোনা প্রতিরোধে। এর মধ্যে নতুন করে যোগ হলো আম্ফান। তাই মানুষকে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা কঠিন হবে। ধরুন একজন ষাটোর্ধ্ব নারী, যিনি পান খান। তাঁকে কিভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে? অনেকে আছেন মাস্ক পরতে অভ্যস্ত নন, গ্লাভস পরতে অভ্যস্ত নন। তাঁদেরকে কিভাবে এসব পরানো হবে? গর্ভবতী নারীদের সুরক্ষা কিভাবে দেওয়া হবে? সুপেয় পানি, আলাদা পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, এসব নিশ্চিত করা কঠিন হবে। আবারও বলছি, অন্যবারের তুলনায় এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। এখন শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি। না হলে করোনা প্রাদুর্ভাব বাড়বে। আবার অনেক জায়গায় দেখা যায়, মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে চায় না। যদিও আশার কথা হলো, এবার আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে স্কুল-কলেজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আমার মনে হচ্ছে, গত বছর নভেম্বরে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সময় বিশ্ব ঐতিহ্যের স্থান সুন্দরবন যেমন রক্ষাকবচ হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবারও ফের সুন্দরবন রক্ষাকবচ হয়ে দাঁড়াবে। সরাসরি না হলেও পরোক্ষভাবে হলেও সুন্দরবন উপকূলের মানুষকে রক্ষা করবে। কিছুটা দুশ্চিন্তা আছে ফসল নিয়ে। দক্ষিণাঞ্চলে বোরো ধান এখনো পুরোপুরি ওঠেনি। জলোচ্ছ্বাস হলে ধান নষ্ট হবে। অন্য ফসল আম, লিচু কাঁঠালেরও ক্ষতি হবে। অবশ্যই আমাদেরকে মৃত্যু থেকে বাঁচতে হবে।

লেখক : নির্বাহী পরিচালক

বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্স স্টাডিজ (বিসিএএস)

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা