kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

আম্ফান আঘাত হানতে পারে সন্ধ্যায়

►চরম ঝুঁকিতে বাঁধ
► ১০ ফুট জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা
► কৃষিতে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



আম্ফান আঘাত হানতে পারে সন্ধ্যায়

ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’-এর আঘাতে যাতে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কম হয় সে জন্য উপকূলীয় জেলাগুলো থেকে আগেভাগেই লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে তত্পর ছিল প্রশাসন। গতকাল ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ঢালচরের মানুষকে ট্রলারযোগে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে দিতে দেখা যাচ্ছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

তীব্রতার মাপকাঠির দিক থেকে সত্তরের দশক থেকে এযাবৎকালে তিনটি ঘূর্ণিঝড়কে সবচেয়ে ভয়ংকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এদের কাতারে যোগ হয়েছে নতুন ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। এই ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের চারপাশে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠেছে, যে অবস্থাকে ‘সুপার সাইক্লোন’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর আগে ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে সাগরে বাতাসে একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২২৫ কিলোমিটার, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ছিল ২৪০ কিলোমিটার আর ২০০৭ সালের সিডরের সময়ও বাতাসের সমান গতিবেগ ছিল।

তবে আশার কথা হচ্ছে, গতকাল মঙ্গলবার বিকেলের দিকে কিছুটা শক্তি কমেছে আম্ফানের। ভারতের ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে আজ বুধবার সন্ধ্যা নাগাদ বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে আম্ফান। বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রমের সময় ১০ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। উপকূলের জেলাগুলোতে বাঁধগুলো চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে উদ্বেগ আর উত্কণ্ঠার মধ্যে দিন কাটছে উপকূলের মানুষের। অবশ্য গত নভেম্বরের মতো এবারও ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে উপকূলের মানুষের কাছে রক্ষাকবচ হতে পারে বিশ্ব ঐতিহ্যের স্থান সুন্দরবন। কৃষকের বোরো ধান এখনো পুরোপুরি ওঠেনি। আম ও লিচুও গাছে। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে তাই কৃষিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আজ সকালে ৭ নম্বর বিপত্সংকেত থেকে বাড়িয়ে মহাবিপত্সংকেত ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী ডা. মো এনামুর রহমান। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হবে বলে জানান তিনি।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুপার সাইক্লোনটির গতকাল বিকেলে শক্তি কিছুটা কমেছে। সোমবার যেখানে ঘণ্টায় বাতাসের গতিবেগ ছিল সর্বোচ্চ ২৪৫ কিলোমিটার, গতকাল বিকেলে সেটি কমে ২০০ থেকে ২২০ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে। সে হিসাবে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার কমেছে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, গভীর সাগরে এমনিতেই বাতাসের গতিবেগ বেশি থাকে। ঘূর্ণিঝড় যখন ক্রমে অগভীরে আসে তখন বাতাসের গতিবেগ কমতে থাকবে। আম্ফান যখন বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত আনবে তখন বাতাসের গতিবেগ আরো কমে আসবে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান যখন বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করবে তখন নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পাঁচ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। আর বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রমের সময় বাতাসের গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৬০ কিলোমিটারের মধ্যে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ক্রমেই উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। গতকাল বিকেলে এটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এ ছাড়া মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরো উত্তর, উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে খুলনা ও চটগ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে আজ বিকেল বা সন্ধ্যা নাগাদ বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপত্সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপত্সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এদি আম্ফানের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ঢাকাসহ সারা দেশে। মেঘলা ও গুমট আবহাওয়া বিরাজ করছে ঢাকায়। দক্ষিণের জেলা সাতক্ষীরায় প্রচুর ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আম্ফানের ক্ষতি এড়াতে চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে থাকা ১৯টি জাহাজকে পণ্য উঠানামার কাজ বন্ধ রেখে বহির্নোঙরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বন্দর জেটিতে কোনো জাহাজ নেই, পুরোটাই ফাঁকা। ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, বুধবার সকালে মহাবিপত্সংকেত ঘোষণা করা হবে।

নড়বড়ে বাঁধে ঝুঁকিতে উপকূলের মানুষ

করোনার মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে উপকূলীয় জেলা ঝালকাঠির বাসিন্দারা। সুগন্ধা ও বিষখালী নদীবেষ্টিত এই জেলার মানুষ আম্ফানে উদ্বেগ ও উত্কণ্ঠার মধ্যে দিন পার করছে। কারণ বিষখালী নদীর বেড়িবাঁধ না থাকায় জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে নদীতীরের মানুষ। গতকাল সকাল থেকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। উপকূলের আরেক জেলা বরগুনার সাতটি স্থানে বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ফলে সেখানকার মানুষও দুশ্চিন্তায় আছে। অন্যদিকে আম্ফান যতই ঘনিয়ে আসছে ততই আতঙ্ক বাড়ছে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সাউথখালীর মানুষের মাঝে। অরক্ষিত হয়ে পড়েছে সিডরে মৃত্যুপুরী হিসেবে পরিচিতি পাওয়া সাউথখালী ইউনিয়নের বলেশ্বর নদের তীরবর্তী পাঁচ গ্রামের মানুষ। সিডর প্রথম আঘাত হেনেছিল সাউথখালীতে। মৃত্যু হয়েছিল সাত শতাধিক মানুষের। আম্ফানের গতিপথও সেই সাউথখালী। অথচ সেখানকার দুই কিলোমিটার এলাকায় কোনো টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়নি আজও। ভাঙা বাঁধের পাশে এখনো ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে শত শত পরিবার।

জানতে চাইলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত কালের কণ্ঠকে বলেন, এখন অমাবস্যার সময়। জোয়ারের উচ্চতা বাড়বে। দেখার বিষয় ঘূর্ণিঝড় আম্ফান যখন বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত আনে তখন জোয়ারের সময় থাকে কি না। আইনুন নিশাত বলেন, ‘আমাদের বাঁধগুলো অত্যন্ত দুর্বল অবস্থানে আছে। সাতক্ষীরার শ্যামনগর, বরগুনা, খুলনার বাঁধগুলো অত্যন্ত দুর্বল। বেশি উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হলে এসব বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ তিনি বলেন, সাধারণত অন্য বছর বাঁধ সংস্কার হলেও এ বছর করোনার কারণে সবার ব্যস্ততা ছিল করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে। বাঁধ সংস্কার করা হয়নি।

কৃষিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

এখনো ৩০ শতাংশের মতো বোরো ধান মাঠে। তাই আম্ফানে কৃষিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে বোরো ধান তোলার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুকুরের মাছ যাতে না যেতে পারে সে জন্য চারপাশে জাল দিয়ে ঘিরে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গবাধি পশু নিরাপদে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে নিঝুপ দ্বীপের মানুষও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়বে।

কক্সবাজার থেকে বিশেষ প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের সম্ভাব্য আঘাতের সময়টিও পড়েছে অমাবস্যার তিথিতে। কক্সবাজার উপকূলের প্রবীণরা জানান, চান্দ্রমাস নিয়েই সাগরের পানির জোয়ার-ভাটার সম্পর্ক রয়েছে। প্রতি মাসে পূর্ণিমা তিথিতে একবার সাগরের জোয়ারের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। অনুরূপ অমাবস্যা তিথি নিয়ে আরেকবার বাড়ে সামুদ্রিক জোয়ারের পানি। ঘূর্ণিঝড় যখন পূর্ণিমা ও অমাবস্যা তিথি সামনে নিয়ে আঘাত হানে তখন সংগত কারণেই জলোচ্ছ্বাসের পানি বেড়ে যায়। গতকাল থেকেই সাগরে অমাবস্যা তিথির পানি বাড়তে শুরু করে।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে দ্বিগুণ আশ্রয়কেন্দ্র

করোনার সময় ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় আম্ফান শুধু নতুন বিপদ নয়, নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে আশ্রয়কেন্দ্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টিতে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞ আতিক রহমান এমন উদ্বেগের কথা জানান। তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান বলছেন, এর আগে একইসংখ্যক দুর্গত মানুষের জন্য অর্ধেক আশ্রয়কেন্দ্র হলেই হতো। এবার করোনার ছোবল থাকায় দ্বিগুণ আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগের ঘূর্ণিঝড়ে পাঁচ হাজার আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হতো, এবার তা বাড়িয়ে ১২ হাজার করা হচ্ছে।

আম্পান মোকাবেলায় গতকাল বিকেলে সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে সচিবালয় থেকে এক ডিজিটাল সংবাদ সম্মেলনে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, উপকূলীয় এলাকার ২২ লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি দেখে বুধবার সকাল ৬টায় মহাবিপত্সংকেত দেওয়া হতে পারে। এরপর আর কাউকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া কঠিন হবে।

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে সাতক্ষীরায় থেমে থেমে বৃষ্টি ও দমকা বাতাস শুরু হয়েছে। গতকাল দুপুরের পর থেকে উপকূলের সব নদ-নদী উত্তাল হয়ে উঠেছে। জোয়ারের পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষ ছুটছে আশ্রয়কেন্দ্রে। গতকাল দুপুর ২টার পর থেকেই শুরম্ন হয় ঝড়-বৃষ্টি। উপকূলীয় দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরা, পদ্মপুকুরসহ অন্যান্য ইউনিয়নের সাধারণ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনার কাজ চলছে। এলাকার মানুষকে এক প্রকার জোর করেই নিয়ে আসতে হচ্ছে আশ্রয়কেন্দ্রে। স্থানীয় স্বেচ্ছসেবকরা প্রশাসনের পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা নিচ্ছেন।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বত্র মাইকিং করা হচ্ছে। দ্বীপ এলাকাগুলোতে ৭ নম্বর সংকেত দেখিয়ে তোলা হয়েছে লাল পতাকা। শ্যামনগর ও আশাশুনির ৪৩টি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ জীর্ণ-শীর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যা মেরামতে পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা ডাম্পিং করার কাজ অব্যাহত রেখেছে।

চট্টগ্রামের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, আম্ফানের ক্ষতি এড়াতে চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে থাকা ১৯টি জাহাজকে পণ্য উঠানামার কাজ বন্ধ রেখে বহির্নোঙরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বন্দর জেটিতে কোনো জাহাজ নেই, পুরোটাই ফাঁকা। বন্দরের ভেতর ইয়ার্ডে স্তূপ আকারে থাকা পণ্যভর্তি কনটেইনার সমানভাবে স্তূপ করে রাখা হয়েছে, যাতে বাতাসের তোড়ে কনটেইনার ছিটকে পড়ে পণ্যের ক্ষতি না হয়। কর্ণফুলী নদীতে জাহাজ চলাচলের মূল চ্যানেল থেকে ছোট জাহাজ, ফিশিং ট্রলার সরিয়ে নিরাপদ দূরত্বে পাঠিয়ে দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে লাইটার জাহাজগুলোকে কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতুর উজানে নিয়ে নিরাপদ দূরত্বে থাকার নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে। জানতে চাইলে বন্দর কর্তৃপক্ষের ডেপুটি কনজারভেটর ক্যাপ্টেন ফরিদুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘৬ নম্বর সংকেত জানার পরই আমরা মোট ১৯টি জাহাজকে পণ্য উঠানামার কাজ বন্ধ রেখে সাগরে পাঠিয়ে দিয়েছি। সেই জাহাজগুলোকে দুটি ইঞ্জিন সচল রেখে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে বলা হয়েছে। অন্য জাহাজগুলোকে আর গভীর সাগরে গিয়ে সতর্ক থেকে বন্দর নিয়ন্ত্রণ কক্ষে যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছে।’

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি জানান, আতঙ্কে রয়েছে বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাসরত প্রায় ৫০ হাজার পরিবার। উপজেলার ১১১টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র আছে, সেগুলো উন্মুক্ত রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বরগুনা প্রতিনিধি জানান, বরগুনার সাতটি স্থানে বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যা মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের চারটি টিম গঠন করে দেওয়া হয়েছে। জরুরি বিদ্যুৎ দ্রুততার সঙ্গে সচল রাখতে বিদ্যুৎ বিভাগেও চারটি টিম গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) ছয় হাজার ৩৩০ জন স্বেচ্ছাসেবী কর্মীসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রায় সাড়ে সাত হাজার স্বেচ্ছাসেবী তাঁদের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছেন।

ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, সুগন্ধা ও বিষখালী নদী বেষ্টিত এ জেলার মানুষ আম্ফান মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে বিষখালী নদীর বেড়িবাঁধ না থাকায় জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে নদীতীরের মানুষ। সকাল থেকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। জেলার ২৭৪টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা