kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

ডাব্লিউএইচএর সভা শুরু

‘করোনা পরবর্তী বিশ্ব আগের মতো হবে না’

মেহেদী হাসান   

১৯ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘করোনা পরবর্তী বিশ্ব আগের মতো হবে না’

নভেল করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) মহামারি-পরবর্তী বিশ্ব কখনো আর আগের মতো হবে না বলে জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গ্রেব্রিয়েসিস। তিনি গতকাল সোমবার জেনেভায় ‘ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলি’র (ডাব্লিউএইচএ) উচ্চ পর্যায়ের সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় এ কথা জানান।

ডাব্লিউএইচওর মহাপরিচালক বলেন, ‘একটি বিষয় অবশ্যই স্পষ্ট। বিশ্ব অবশ্যই আগের মতো থাকবে না। এ ধরনের মহামারির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সাধ্য অনুযায়ী যে আমাদের সব কিছুই করতে হবে সে বিষয়ে বলার জন্য পর্যালোচনার প্রয়োজন নেই।’ তিনি বলেন, কভিড-১৯ মহামারি থেকে যেসব শিক্ষা নেওয়ার আছে, সেগুলো না নেওয়া এবং বিশ্বকে আগের মতো ঝুঁকিতে রাখা হবে সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।

টেড্রোস আধানম বলেন, ‘ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলি’র বিবেচনার জন্য প্রস্তাবে মহামারির উৎস খুঁজতে দ্রুততম ও যথাসময়ে তদন্ত শুরুর যে আহ্বান জানানো হয়েছে, তা তিনি গ্রহণ করবেন। আজ মঙ্গলবার ওই প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি বিশ্বকে সতর্ক করে বলেন, এই বিশ্বে আগে অনেক মহামারি এসেছে; কিন্তু করোনাভাইরাস আসেনি। পরিস্থিতি উন্নতির আগেই যাঁরা খুব দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য দৌড়াচ্ছেন, তাঁদের বড় মূল্য দিতে হবে।

নতুন করোনাভাইরাস মহামারির উৎস খুঁজে বের করার বৈশ্বিক দাবির মধ্যেই চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং গতকাল ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ডাব্লিউএইচএর সভায় যোগ দেন। সেখানে তিনি বলেন, মহামারি শেষ হওয়ার পর এর উৎস খুঁজে বের করার তদন্তকে চীন সমর্থন করে। তবে এ তদন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নেতৃত্বে ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে হতে হবে।

চীনের প্রেসিডেন্ট করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে ২০০ কোটি মার্কিন ডলার দেওয়া ছাড়াও উন্নয়নশীল দেশগুলোসহ সারা বিশ্বকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি করোনাভাইরাস নিয়ে বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময়ের ওপরও জোর দেন।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, করোনা মোকাবেলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা না মানায় এই বিশ্বকে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে। নিউ ইয়র্ক থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে জেনেভার সভায় যোগ দিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘একেক দেশ একেক রকম কৌশল নিয়েছে এবং এগুলোর অনেকগুলো পরস্পরবিরোধী। এ কারণে আমাদের চরম মূল্য দিতে হচ্ছে।’

গুতেরেস আরো বলেন, ভাইরাসটি এখন দক্ষিণের দিকে যাচ্ছে। এখানে ভয়াবহতা অনেক বেশি হতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন করোনাভাইরাসের মতো নতুন নতুন রোগ মোকাবেলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে আরো শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, সংক্রমণ সম্পর্কিত তথ্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আরো স্বচ্ছতার সঙ্গে বিনিময় হওয়া প্রয়োজন। আগাম সতর্কবার্তা ও সহযোগিতার কাঠামো অবশ্যই সবাই মিলে প্রতিষ্ঠা করা উচিত।

জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল বলেন, সারা বিশ্ব একযোগে কাজ করলে করোনা মহামারির দ্রুত অবসান হতে পারে। তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কার্যক্রম আরো গতিশীল হওয়ার ওপর জোর দেন।

গতকাল রাতে এ প্রতিবেদন লেখার সময় ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলির (ডাব্লিউএইচএ) সভা চলছিল। আজ মঙ্গলবার যে প্রস্তাবটি উঠতে যাচ্ছে তা বাংলাদেশও কো-স্পন্সর করেছে। ওই প্রস্তাবে করোনার টিকা বা প্রতিষেধক আবিষ্কার হওয়ার পর তা সবার জন্য সুলভে নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ওই টিকা আবিষ্কার হওয়ার আগে করোনা উপসর্গগুলো প্রশমন ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা