kalerkantho

সোমবার । ১০ কার্তিক ১৪২৭। ২৬ অক্টোবর ২০২০। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনার অর্থ

৯৯ নামের পাশে ১ জনের ফোন নম্বর

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৯৯ নামের পাশে ১ জনের ফোন নম্বর

নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত আর্থিক সহায়তার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৯৯ ব্যক্তির নামের পাশে একজনের মোবাইল ফোন নম্বর ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার মুড়িয়াউক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মলাইয়ের বিরুদ্ধে। বাগেরহাটের শরণখোলায় ৪০ জনের নামের সঙ্গে নিজের ফোন নম্বর জুড়ে দিয়েছেন এক ইউপি সদস্য। সরকার মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সহায়তার অর্থ পাঠায় বলে এ ধরনের কৌশল বেছে নিচ্ছেন অনেক অসাধু জনপ্রতিনিধি।

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি জানান, এক ইউপি সদস্য তাঁর নিজের মোবাইল নম্বরটি জুড়ে দিয়েছেন ৪০ সুবিধাভোগীর নামের পাশে। সরকার মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সহায়তার অর্থ পাঠায় বলে এই কৌশল বেছে নিয়েছেন তিনি।

তালিকায় আরো অনিয়ম রয়েছে। যেমন বিভিন্ন সুবিধাভোগী ও সচ্ছল ব্যক্তির নামও তালিকায় রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, তারা তালিকা সংশোধনের কাজ করছে। তবে এই অনিয়মের সঙ্গে কারা জড়িত, তাদের নাম প্রকাশ করেনি উপজেলা প্রশাসন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এর পর তা জমা দেওয়া হয় উপজেলা পরিষদে। সেখানে যাচাই-বাছাইয়ের সময় এসব অনিয়ম ধরা পড়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মধ্যে খোন্তাকাটা ইউনিয়নে অনিয়মের মাত্রা বেশি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত তালিকায় সুবিধাভোগীদের নামের পাশে কয়েক ইউপি সদস্যের মোবাইল ফোন নম্বর ছিল। এক মেম্বারের ফোন নম্বর ছিল ৪০ জনের নামের পাশে। এ ছাড়া সচ্ছল ও সরকারের অন্য সুবিধাভোগীদের নামও ছিল তালিকায়। এসব অনিয়ম নজরে আসার পর সরকারি কর্মকর্তাদের দিয়ে সঠিক তালিকা করা হয়েছে। আগামী ১৭ মে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তা পাঠানো হবে।’ অনিয়মকারী ইউপি সদস্যদের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, লাখাই উপজেলার মুড়িয়াউক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মলাইয়ের বিরুদ্ধে নগদ প্রণোদনার তালিকায় একই ব্যক্তির নামে একাধিক নম্বর ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মাঝে একটি নম্বরে ৯৯ জন, একটিতে ৯৭ জন, একটিতে ৬৫ জন ও একটিতে ৪৫ জনের নাম দেওয়া হয়েছে। নম্বরগুলো চেয়ারম্যানের আত্মীয় এবং ঘনিষ্ঠজনদের বলে জানা গেছে। আবার একটি ওয়ার্ডে কোনো হিন্দু পরিবার বসবাস না করলেও সেই ওয়ার্ডের তালিকায় তিন হিন্দু ব্যক্তির নামও রয়েছে। রয়েছে অনেক বিত্তশালী ব্যক্তির নাম। আবার স্বামী-স্ত্রীর নামও এসেছে তালিকায়।

রফিকুল ইসলাম মলাই বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুসিকান্ত হাজংয়ের নির্দেশে এক হাজার ১৭৬ জনের মধ্যে আমরা ৭৩০ জনের নাম মেইল করি। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, তাঁর সিএ, স্টাফ দুর্লভ ও পিআইও অফিসের মঈন উদ্দিন মিলে অবশিষ্ট তালিকা করেন। পরে ইউএনও এবং তাঁর সিএর করোনা হলে তাঁরা আইসোলেশনে যান। ফলে তালিকার বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। আর তালিকাটি ছিল খসড়া। আমার কোনো স্বাক্ষর নেই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা