kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৪ জুন ২০২০। ১১ শাওয়াল ১৪৪১

বিশেষজ্ঞ মত

এই কাপড় উদ্ভাবন আশাজাগানিয়া

সীতেশ চন্দ্র বাছার   

১৫ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



এই কাপড় উদ্ভাবন আশাজাগানিয়া

করোনাভাইরাস সংক্রমণ সারা দেশের মানুষকে জীবন ও জীবিকার সংকটে ফেলে দিয়েছে। অন্যদিকে সারা বিশ্বের বিশেষজ্ঞরা প্রতিরোধক এবং প্রতিষেধক তৈরিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এই সময় বাংলাদেশের মতো একটি তৃতীয় বিশ্বের দেশ ভাইরাসমুক্ত কাপড় তৈরি করতে পারে—এমন খবর সত্যি বড় আশাজাগানিয়া। তবে বাজারজাত করার আগে নজরদারি প্রতিষ্ঠানকে শরীর ও ত্বকের জন্য ক্ষতিকর নয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

দেশের উদ্যোক্তারা ভাইরাসমুক্ত কাপড় তৈরি করেছেন এমন খবর আমি প্রথম শুনলাম। তবে আশার কথা হলো, এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি, মানুষের শরীর এবং ত্বকের জন্য ক্ষতিকর নয়, এমন নিরাপত্তার বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে। বর্তমানে দেশের করোনাভাইরাস প্রতিরোধযুদ্ধে আমাদের করোনাযোদ্ধা চিকিৎসক-নার্স-পুলিশ-সাংবাদিকরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। তাঁদের সুরক্ষার যে কাপড় দেওয়া হয়, ততটা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। ফলে দেশের মানুষের সুরক্ষা দিতে গিয়ে নিজেরাই ঝুঁকিতে পড়ছেন অসংখ্য সেবাকর্মী। এই সেবাকর্মীদের সুরক্ষায় ভাইরাসমুক্ত কাপড় নিশ্চিত করা গেলে করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে অনন্য দৃষ্টান্ত হতে পারে। এ জন্য ওই সব কাপড় যেন পুনরায় ধুয়ে পরা যায়, বিষয়টি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। ভাইরাসমুক্ত করতে কাপড়ে যে পদার্থ ব্যবহৃত হয়, এটা শরীর ও ত্বকের জন্য কতটা সহনীয় মাত্রায় ব্যবহার করতে হয়, ওই বিষয়গুলো দেশে-বিদেশে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।

সরকারের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে এসব কাপড় বাজারজাত ও ব্যবহারের আগে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। এটা করা না গেলে দেশের উদ্যোক্তাদের এই উদ্ভাবন আঁতুড় ঘরে মারা যাবে। আর প্রয়োজনীয় নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে বিশ্বব্যাপী দেশের সম্মান বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

লেখক : চেয়ারম্যান, ফার্মেসি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা