kalerkantho

সোমবার । ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ১  জুন ২০২০। ৮ শাওয়াল ১৪৪১

পোশাকপণ্য

যুক্তরাষ্ট্রে দুই বছরের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধা চেয়েছে বাংলাদেশ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৪ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যুক্তরাষ্ট্রে দুই বছরের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধা চেয়েছে বাংলাদেশ

নভেল করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) মহামারি পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পপণ্যতে আগামী দুই বছর শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা চেয়েছে বাংলাদেশ। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের উপ-জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহকারী ম্যাথিউ পটিনজারের সঙ্গে ফোনালাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে শুল্কমুক্ত সুবিধার ব্যাপারে অনুরোধ জানান। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা যেন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে ক্রয়াদেশ বাতিল না করেন সে জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সহায়তা চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহকারী নভেল করোনাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

সাগরে ভাসমান মিয়ানমারের অধিবাসী রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ম্যাথিউ পটিনজার। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার দায়িত্ব কেবল বাংলাদেশের নয়। অন্য দেশগুলোরও উচিত তাদের আশ্রয় দেওয়া এবং দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া।’ বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের ১১ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বিভিন্ন দেশে নিয়ে যাওয়ারও আহ্বান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ড. মোমেন বাংলাদেশে অবস্থানরত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর  জোরালো ভূমিকা পালনেরও আহ্বান জানান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের জন্য বিশেষ বরাদ্দ প্রদানেরও অনুরোধ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ ভালো উল্লেখ করে এ দেশে বিনিয়োগ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের ১০০টি অর্থনৈতিক জোনের মধ্যে কয়েকটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক জোন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার অনুরোধ করেন। তা ছাড়া বাংলাদেশে ২৮টি তথ্য-প্রযুক্তি (আইটি পার্ক) তৈরি হচ্ছে এবং বাংলাদেশের পরিশ্রমী ও মেধাবী যুবকদের জন্য আইটি খাতকে সম্ভাবনাময়ী উল্লেখ করে এ খাতেও যুক্তরাষ্ট্রকে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা ভুল তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করে; হিংসাত্মক এবং ধর্মীয় উস্কানিমূলক প্রচারণা চালায়, কেবল তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’ বাংলাদেশের গণমাধ্যম অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে মুক্তভাবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ভোগ করে বলে দাবি করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ড. মোমেন বলেন, বাংলাদেশে এখন ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) ও মাস্ক তৈরি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে বাংলাদেশ থেকে এ সমস্ত চিকিৎসাসামগ্রী আরো বেশি পরিমাণ আমদানি করতে পারবে। বাংলাদেশের ওষুধসামগ্রী আমদানি করতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঠানো চিঠির জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষে তাঁর সহকারী প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা