kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৪ জুন ২০২০। ১১ শাওয়াল ১৪৪১

করোনার গতিবিধি বুঝতে সহায়ক হবে জিনোম সিকোয়েন্স

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনার গতিবিধি বুঝতে সহায়ক হবে জিনোম সিকোয়েন্স

করোনাভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং বা জিনগত নকশা উন্মোচনের পর এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে দুদিন ধরে দেশে ও দেশের বাইরে। বাংলাদেশের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের গবেষক ড. সেঁজুতি সাহা এই গবেষণা করলেও তাঁকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন এই গবেষকের বাবা ও ওই ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. সমীর কুমার সাহা। যিনি একাধারে ঢাকা শিশু হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজির অধ্যাপক।

ডা. সমীর সাহা এর আগেও নিউমোনিয়া ও মেনিনজাইটিসের ভেকসিন নিয়ে গবেষণা করে দেশে-বিদেশে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। করোনাভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং নিয়ে কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে কথা বলেছেন ডা. সমীর কুমার সাহা। তিনি বলেন, ‘সিকোয়েন্সিং করার জন্য যে আমরা এই রোগটা কমাতে পারব, তেমন চিন্তা কিন্তু এখনো নেই। আমরা হয়তো এটার রোগতাত্ত্বিক অবস্থাটা বুঝতে পারব। গতিবিধিটা বুঝতে পারব। সেটা হয়তো এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করতে সহায়তা করবে। কারণ হলো আমরা যদি জানতে পারি, এটা কোথা থেকে কিভাবে এলো। আমরা যেমন কন্টাক ট্রেসিং করি সে রকমই একটা ব্যাপার। এই সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে বুঝতে পারব সময়ের সঙ্গে এটা কী করে পরিবর্তন হচ্ছে। ভেকসিনের ক্ষেত্রেও আমরা বুঝতে পারব। যদি কোনো একটা ভেকসিন কার্যকর না হয়, সেটা কিন্তু এই সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে আমরা আগে থেকেই বুঝতে পারব। এটা নিয়ে মোটা দাগে যদি আরো অনেক গবেষণা করা যায়, তবে আরো অনেক আইডিয়া আসবে।’

ডা. সমীর সাহা বলেন, ‘আমরা অনেকেই জানি যে এ ধরনের ভাইরাসগুলো মাসে দুবার করে মিউটেশন হয়। একটা সময় খুবই সিগনিফিকেন্ট মিউটেশন হয়ে যায়। তখন এর চরিত্রই পাল্টে যায়। এটার যে আমাদের দেশে বা পৃথিবীতে উদাহরণ নেই তা কিন্তু নয়। যেমন আমরা মার্স বা সার্স পেয়েছিলাম। তখন আমরা এতই ভয় পেয়েছিলাম যে মানুষকে কোথায় কোথায় দাফন করব বা সৎকার করব না করব, তা নিয়েও টেনশনে পড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু পরে দেখা গেল, সেটা লাগেনি। এই ভাইরাস মহামারি আকারে বিশ্বব্যাপী ছড়ায়নি। সুতরাং করোনাভাইরাস যে কী হবে তা কিন্তু আগে থেকে বলা যাবে না। এটা হঠাৎ করেই কিছু একটা মিউটেশন হতে পারে আবার উল্টোটাও তো হতে পারে। সুতরাং আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে খারাপটার জন্য। যদি ভালো কিছু হয় সেটা আমাদের সবার জন্যই ভালো হবে।’

ডা. সমীর কুমার সাহা বলছেন, ‘অন্য দেশের সঙ্গে আমাদের মিল রয়েছে যেমন বলি, তেমন হ্যাঁ বা না-ও বলি। চায়নায় যেটা হয়েছিল, সেটা কিন্তু এক রকম। যদি সেটাকে আমরা অরিজিনাল বলি। এর পরে নিজেকে একটু একটু পরিবর্তন করে। যেমন মাসে যদি দুটি মিউটেশন ধরি, তবে দুই মাস পর দেখব চারটি মিউটেশন হয়েছে। এখন আমাদের দেখার দরকার—এই পরিবর্তনে কি হবে? ভেকসিন কাজ করবে কি করবে না। এ ক্ষেত্রে বলতে হবে, এ পর্যন্ত আমরা সেভাবে কিছু বুঝতে পারিনি বা গবেষণা করে কেউ কিছু বের করতে পারছে না। এই তিন-চার মাসে এত বোঝা যাবে না। এটা তো শুধু শুরু। বুঝতে আরো সময় লাগবে। মনোযোগ সহকারে এই করোনাভাইরাসের ওপর নজর রাখতে হবে। সে জন্য এই সিকোয়েন্সিংটি খুবই জরুরি কাজে লাগবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা